স্বদেশের মাটিতেই মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা ছিল এ প্রবাসীর

ঢাকা, শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২০ ১৪২৬,   ০৯ শা'বান ১৪৪১

Akash

স্বদেশের মাটিতেই মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা ছিল এ প্রবাসীর

প্রবাসী ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩০ ৪ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৮:৩১ ৪ মার্চ ২০২০

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়া অবস্থায় প্রবাসী সাদেকুর

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়া অবস্থায় প্রবাসী সাদেকুর

দেশের অর্থনীতি ও পরিবারের সচ্ছলতার জন্য ২৫ বছর সিঙ্গাপুরের ‘কেপেল ফেলস’ জাহাজ নির্মাণ কারখানায় কাজে ছিলেন প্রবাসী সাদেকুর। সম্প্রতি লিভার ইনফেকশন রোগ ধরা পড়ায় টানা এক মাস হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েন তিনি। জীবনের অন্তিম মুহূর্ত টের পেয়ে স্বদেশের মাটিতে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন সাদেকুর। তার শেষ আকাঙ্ক্ষাই পূর্ণ হয়েছে।

সোমবার রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এ প্রবাসী। এর আগে টানা এক মাস সিঙ্গাপুরের এনজি তেং ফং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সাদেকুর।

সাদেকুরের প্রবাসী বন্ধু আহসান হাবীব জানান, ২৫ বছর সিঙ্গাপুরে জাহাজ কারখানায় কাজ করা সাদেকুর গত ১৮ জানুয়ারি হঠাৎ অসুস্থ হন। তাকে এনজি তেং ফং হাসপাতালে নেয়ার পর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর লিভার ইনফেকশনে আক্রান্তের কথা জানান চিকিৎসকরা। এরপর ওই হাসপাতালে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়।

তিনি আরো জানান, চিকিৎসায় উন্নতি না দেখে সাদেকুরের কোম্পানি ‘কেপেল ফেলস’ তার স্ত্রী ও বড় ভাই বাবুকে সিঙ্গাপুরে ডাকে। তারা চাঁদপুরের মতলব উপজেলা থেকে সিঙ্গাপুরে যান। সেখানে প্রায় ১৫ দিন সাদেকুরের সঙ্গে থাকেন তারা।

কিন্তু হঠাৎ সাদেকুর বলেন, ‘আমি মনে হয় আর বাঁচব না। তাই আমাকে দেশে পাঠিয়ে দিন। আমি দেশের মাটিতে মরতে চাই। যতদিন বাঁচি, সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চাই।’ 

আহসান হাবীব জানান, কোম্পানিকে বিষয়টি জানানোর পর স্ত্রৗ ও বড় ভাইসহ সাদেকুরকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে ‘কেপেল ফেলস’ কোম্পানি। তাদরে সঙ্গে একজন চিকিৎসককে পাঠানো হয়। ওই চিকিৎসক বাংলাদেশে এসে দেশীয় চিকিৎসককে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে সিঙ্গাপুরে ফেরেন।

সাদেকুর পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। তার তিনটি মেয়ে রয়েছে বলে জানান আহসান হাবীব।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ