Exim Bank
ঢাকা, মঙ্গলবার ২২ মে, ২০১৮
iftar

স্বজনপ্রীতিতে বিভক্ত মৌলভীবাজার আওয়ামী লীগ

 আহমদ ইমরান, সিলেট ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৭, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

১৮৪ বার পঠিত

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

স্বজনপ্রীতিতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজার আওয়ামী লীগ। এক যুগ পর কমিটি হলেও ত্যাগী নেতাকর্মীদের স্থান না দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজেদের আত্বীয়-স্বজনদের নিয়ে কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি দলের সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এমপি সৈয়দা সায়রা মহসীন।

জানা যায়, দীর্ঘ ১১ বছর পর মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের জন্য গত বছরের ২৮ অক্টোবর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে নেছার আহম্মদকে সভাপতি ও মিছবাহুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ ছাড়া মুহিবুর রহমান তরফদার, হুইপ শাহাব উদ্দিন ও আজমল হোসেনকে সহসভাপতি, ফজলুর রহমান, কামাল হোসেন ও নওশেদ আলী খোকনকে যুগ্ম সম্পাদক এবং মো. ফিরোজকে জাতীয় পরিষদের সদস্য ঘোষণা করে কমিটির পূর্ণাঙ্গ একটি তালিকা তৈরি করে কেন্দ্রে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের।

প্রস্তাবিত কমিটিতে নেতাদের নাম ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় জেলা আওয়ামী লীগে।

কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও অনুপ্রবেশকারীদের স্থান দেয়া হয়েছে। এছাড়াও কমিটিতে স্থানীয় জনপ্রিতিনিধিদের পাশ কাটানোর পাশাপাশি অনিয়ম ও টাকা লেনদেনের অভিযোগও আছে। প্রস্তাবিত কমিটির ১৮ জনই পরস্পর ভাই, ভাগ্নে, ভাতিজা ও সমন্ধি বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি সায়রা মহসীন প্রধানমন্ত্রী বরাবর অভিযোগ করেছেন। দলের দফতর সম্পাদক বরাবর তিনি আরেকটি প্রস্তাবিত কমিটি জমা দিয়েছেন।

একাধিক সূত্র জানায়, ঘোষিত এ কমিটির মধ্যে সভাপতি নেছার আহম্মদের ভায়রা সহ-সভাপতি আজমল হোসেন। সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমানের ভাগ্নে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে কেন্দ্রে পাঠানো তালিকায়ও সভাপতি ও সম্পাদকের বেশ কয়েকজন আত্মীয় রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাংগঠনিক পদে সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমানের মামাতো ভাই সৈয়দ মনসুর আহম্মেদ, সদস্য পদে সৈয়দ রেজাউল করিম সুমন ও সৈয়দ জয়নাল আবেদীন কুটি, সহ-সভাপতি পদে যুগ্ম সম্পাদক ফজলুর রহমানের চাচা গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, সদস্য পদে আকবর আলী ও আজিজুর রহমান, সদস্য পদে আজিজুর রহমানের ভাতিজা নাহিদ আহম্মদ ও সজিব হাসানের নাম রয়েছে। এ ছাড়া সদস্য পদে আছে ঘোষিত সহ-সভাপতি মুহিবুর রহমান তরফদারের ভাই আব্দুল বাছিত তরফদার ও জাতীয় পরিষদের সদস্য মো. ফিরোজের ভাগ্নে আনকার আহম্মদের নাম। সহ-সভাপতি পদে আছে মাসুদ আহম্মদ এবং সদস্য পদে তার সমন্ধি হায়দার আলীর নাম।

এ ছাড়াও প্রবাসে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে যারা দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন, তাদেরও প্রবাসী দোহাই দিয়ে কমিটিতে রাখা হয়নি।

দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষে এ বিষয়ে আপত্তি করেও সুরাহা পাননি মৌলভীবাজার-৩ আসনের এমপি সায়রা মহসীন।

সায়রা মহসীনের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্তরা মনগড়া কমিটি করেছেন। দলের দীর্ঘদিনের কর্মীদের অবহেলা করা হয়েছে। বাধ্য হয়েই তিনি বিষয়টি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করে পাল্টা একটি প্রস্তাবিত কমিটি কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন।

সায়রা মহসীন বলেন, আমি এলাকার একজন এমপি হওয়ার পরও যারা পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করেছেন, তারা আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। আমি সভাপতির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তালিকা কেন্দ্রে জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমার কাছে অভিযোগ আছে, দাখিলকৃত তালিকা সঠিকভাবে হয়নি। স্থান হয়নি পরীক্ষিত ত্যাগী নেতাদের। এ বিষয়ে আলোচনার আহ্বান জানালেও তিনি সাড়া দেননি।

সায়রা মহসীন বলেন, অনেকে প্রবাসী হলেও দেশে স্থায়ীভাবে অবস্থান করে রাজনীতি করছেন। অথচ তাদের কমিটিতে রাখা হয়নি। বিষয়টি আমি প্রধানমন্ত্রীসহ দলের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপকে অবহিত করেছি।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঘোষিত কমিটির সভাপতি নেছার আহম্মদ সহ-সভাপতি আজমল হোসেনকে নিজের ভায়রা ভাই স্বীকার করেন।

নেছার আহম্মদ বলেন, কমিটি ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। যদি আত্মীয়করণ হয়ে থাকে তা আমরা নয়, ওবায়দুল কাদের করেছেন।

সায়রা মহসীনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, রাজনীতিতে সায়রা মহসীন অজ্ঞ। তিনি কখনো তালিকা জমা দিতে পারেন না। তাকে আমরা আলোচনার জন্য ডেকে পাইনি, তিনি বিদেশে ছিলেন। সায়রা মহসীন আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন, এমন দাবিকে তিনি মিথ্যা আখ্যা দেন।

প্রবাসীদের বাদ দেয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা দেশে কম থাকেন। জাতীয় পরিষদের সদস্য যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মো. ফিরোজের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ রকম দু-একজন হয়তো আছেন।

প্রবাসী যারা আগেও কমিটিতে ছিলেন, তাদের বাদ পড়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এটি আমার জানা নেই।

ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান বলেন, কারো কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমরা রাজনীতি করি না। আমাদের ছেলেরা রাজপথে থাকবে, অন্যদের কেন কমিটিতে রাখব।

সায়রা মহসীনের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, তিনি মিথ্যা বলছেন। তিনিই আমাদের সময় দেননি। আর কেন্দ্র আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। তার তালিকা পাঠানোর কোনো এখতিয়ার নেই।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, কমিটি এখনো অনুমোদন দেয়া হয়নি। যে তালিকা এসেছে তা যাচাই বাছাই করা হবে। ত্যাগী বা পরীক্ষিত নেতারা বাদ পড়লে অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে

সর্বাধিক পঠিত