Alexa স্পোর্টিংয়ে ‘দক্ষতার অভাব’ নাকি ‘ভীতি’?

ঢাকা, বুধবার   ২৩ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৮ ১৪২৬,   ২৪ সফর ১৪৪১

Akash

স্পোর্টিংয়ে ‘দক্ষতার অভাব’ নাকি ‘ভীতি’?

 প্রকাশিত: ১৪:৪৬ ৯ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৭:২১ ৯ নভেম্বর ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দ্বাদশতম আসর বসবে ইংল্যান্ডে। ২০১৯ সালের ৩০ মে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে এ মিশন। যা শেষ হবে ১৫ জুলাই। তাই টিম বাংলাদেশের হাতে প্রস্তুতির জন্য রয়েছে মাত্র ছ’মাস।

ভাল নেতৃত্বের জন্য টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজাই সেরা। ব্যাটিং লাইন-আপের জন্যও ভরসার নাম তামিম, সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু ইংল্যান্ডের কন্ডিশন ও স্পোর্টিং উইকেটে সবচেয়ে চিন্তার বিষয় বাংলাদেশের পেস অ্যাটাক। 

বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলছে প্রায় দুই যুগের কাছাকাছি। এতোদিন পরে এ বিষয়ে চিন্তা সবার কাছে অবান্তর মনে হলেও, তা ঠিক উড়িয়ে দেয়া যায় না। কারণ এমনিতে উপমহাদেশে খেলা হয় স্পিন সহায়ক উইকেটে। এখানে প্রতিপক্ষ বধ করতে স্পিন সহায়ক উইকেট বানানো হয় প্রায়ই। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে আরো বেশি অগ্রসরমান। আন্তর্জাতিক কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেট; সবখানেই স্পিন সহায়ক উইকেট। স্পোর্টিং উইকেট বা পেস সহায়ক উইকেট বানানো যেন বাংলাদেশে কর্মরত কিউরেটররা বেমালুম ভুলে গেছেন। 

এইতো জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সিলেটে বাংলাদেশের টেস্ট। বাংলাদেশের সব মাঠ থেকে এটি একটু ব্যতিক্রম। বলা হতো দেশের একমাত্র স্পোর্টিং উইকেটের মাঠ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। কিন্তু সেখানেও স্পিন সহায়ক উইকেট। এক বিশষজ্ঞ পেসার নিয়ে খেলা টেস্ট বাংলাদেশ হেরেছে শোচনীয়ভাবে। তবে প্রথম দিন ছাড়া ভালভাবে দাঁড়াতে পারেনি কোনো দলেরই ব্যাটসম্যানই। আর সিলেট টেস্টে একমাত্র পেসার আবু জায়েদ রাহি যে ক’টা ওভার করেছিলেন, তাতে মনে হয়েছে তাকে বাদ দিয়ে আরেকটা স্পিনার খেলালেই ভালো হত। 

বাংলাদেশে ভাল মানের যে ক’জন পেসার আছে তারমধ্যে বললে ঘুরেফিরে মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলামদের নাম আসবে। তাদের নেতৃত্বে আছেন অভিজ্ঞ মাশরাফি। আর যারা পেসার আছেন তারা দলে সুযোগ পাচ্ছেন আবার বাদ পড়ছেন। যেন নড়বড়ে অবস্থা। 

ঘরোয়া লিগে পেস বোলাররা কত ওভার বোলিং করেন? পেসারদের জন্য সহায়ক উইকেট কী বানানো হয়? এ বিষয়ে ঠিক মতো কেউ খোঁজ-খবর রাখেন না হয়তো। এমন অবস্থায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কী শক্তি নিয়ে ইংল্যান্ডে যাবে- প্রশ্ন ক্রিকেট ভক্তদের।

বাংলাদেশ গেল দুই বছরে তিনটি পূর্ণাঙ্গ সফরে গিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের পর দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজ, প্রতিটি সফরেই টেস্টে পেস বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল আতঙ্কিত। ব্যাটসম্যানরা গতি ও সুইংয়ের সামনে ছিল অসহায়।   

ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে ভালো করতে চাইলে দ্রুত গতির পেসারদের গুরুত্ব দিতে হবে। আইসিসির টুর্নামেন্টে ব্যাটিং সহায়ক উইকেট বানানোর নির্দেশনা থাকে। এমন উইকেটে যাদের বলে বাড়তি গতি ও বাউন্স থাকে তারা সাফল্য পান। প্রত্যেকটি দল এ কারণে নতুন নতুন পেসার খুঁজে বের করে। বাংলাদেশও নিশ্চয়ই সে পথে আছে। পেসার খালেদ আহমেদের অন্তর্ভুক্তি তো সে কথাই জানান দেয়। কিন্তু জিম্বাবুয়ের মতো দলের বিপক্ষেও যদি স্পিন বান্ধব উইকেট বানিয়ে মাত্র একজন পেসারকে খেলার সুযোগ দেয়া হয়, তবে আর তরুণ পেসারদের উন্নতি কীভাবে হবে?

জিম্বাবুয়ের সঙ্গে জিততে হয়তো বাংলাদেশ স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়েছিল। কিন্তু শুধু মাত্র একটি ম্যাচ জেতার জন্য প্রতিভাগুলোকে কী নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে না? 

বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। তিনি বলেন, এই দলে যদি পেসাররা খেলারই সুযোগ না পান তাহলে এটি আমাদের জন্য লজ্জার।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে