স্পেনের হাসপাতালে পড়ে আছে আমিরের লাশ  

ঢাকা, বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ১৯ ১৪২৬,   ০৮ শা'বান ১৪৪১

Akash

স্পেনের হাসপাতালে পড়ে আছে আমিরের লাশ  

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫২ ১৬ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৮:৫৩ ১৬ জানুয়ারি ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

স্পেনের ম্যালিয়া হাসপাতালের হিমাগারে আড়াই মাস ধরে পড়ে আছে বাংলাদেশি যুবক আমির হোসেন জুনেদের লাশ। 

নিহত যুবকের বাড়ি সুনামগঞ্জের ইব্রাহিমপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আলাউদ্দিন।

প্রায় আড়াই মাস আগে মরক্কো থেকে স্পেনে যাওয়ার সময় দালালদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে ভূমধ্যসাগরে অভুক্ত থেকে মারা যান আমির। এখন টাকার লোভ দেখিয়ে স্বজনরা যাতে লাশ আনার প্রক্রিয়া না করেন সেজন্য পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে দালাল চক্র।

এ চক্রের সদস্যরা হলেন সুনামগঞ্জ শহরের বাধনপাড়া আবাসিক এলাকার আনোয়ার হোসেন, তার ছেলে হোসাইন আহমদ ও হোসাইন আহমদের ভগ্নিপতি সিরাজ।

তারাই আমিরকে স্পেনে পাঠায় ২০১৮ সালের মার্চ মাসে। এ কারণে আমিরের বাবা আলাউদ্দিন প্রথমে হোসেনকে ছয় লাখ টাকা দেন। পরে তার বোন খালেদার অ্যাকাউন্টে ১৮ লাখ টাকা পাঠান।

আমিরের বাবা আলাউদ্দিন বলেন, মারা যাওয়ার আগে দুইবার আমিরকে কয়েক মিনিট কথা বলার সুযোগ দেয় দালালরা। আর টাকা পাঠানোর জন্য নির্যাতন করে আমিরের কণ্ঠ শুনাতো দালালরা। আমি সুদে ধার-দেনা করে কয়েক দফায় ১৮ লাখ টাকা দিয়েছি আনোয়ার, হোসাইন ও সিরাজের হাতে। একাধিকবার ঘরোয়া বৈঠক করেও সেই টাকা আনোয়ার,হোসাইন ও সিরাজ টাকা ফেরত দিচ্ছে না। তারা সবাই মিলে স্পেনে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি তাদের বিচার চাই।

আনোয়ার হোসেন ও তার ছেলে হোসাইনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেনি।

পরিবারের লোকজন জানান, চুক্তি অনুযায়ী হোসেন ও সিরাজ মিলে প্রথমে আমিরকে দুবাই পাঠায়। দুবাই প্রায় ছয় মাসেরও অধিক সময় সে অবস্থান করে। তাকে দালালরা আটকে রেখে নির্যাতন করে। তবে এই সময় হোসেন ও সিরাজের মাধ্যমে খবর নিতেন পরিবারের লোকজন। দুবাই থেকে অবৈধভাবে সাগরপথে মরক্কো পাঠানো হয় তাকে। 

এদিকে গত ২৬ নভেম্বর ভূমধ্যসাগরে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজ থেকে ৭৯জনকে উদ্ধার করে উদ্ধারকর্মীরা। এর মধ্যে আমিরসহ ১৮জন বাংলাদেশি ছিলেন।

গত ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার ও মিশন উপ-প্রধান এম হারুন আল রাশিদ ম্যালিয়ায় গিয়ে আমিরের লাশ শনাক্ত করেন। পরে দূতাবাসের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ও সরকারি খরচে লাশ আনার কথা জানান।

সুনামগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন ইন কাতালোনিয়ার সভাপতি মনোয়ার পাশা বলেন, আমিরের লাশ শনাক্ত হওয়ার পর তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দূতাবাসকেও তথ্য দিয়েছি। দালালরা জুনেদের পরিবারকে লাশ না নিতে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনকি তারা টাকার প্রলোভনও দেখাচ্ছে।

সুনামগঞ্জের এসপি মো. মিজানুর রহমান বলেন,এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ