Alexa স্ত্রীর আত্মহত্যায় বাবা-মাকে দায়ী করলো ছেলে

ঢাকা, শনিবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৩০ ১৪২৬,   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

স্ত্রীর আত্মহত্যায় বাবা-মাকে দায়ী করলো ছেলে

শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩৮ ২ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২০:৪৩ ২ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

ছেলে বেকার। তাই পুত্রবধূর ওপর নির্যাতন করতেন শ্বশুর-শাশুড়ি। নির্যাতন সইতে না পেরে গৃহবধূ দিরা মনি আক্তার ওরফে মিতা নূর রহমান (১৯) আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বামী ও বাবা-মা।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর ধানমন্ডিতে। পরে শ্বশুর এবিএম কাফি ও শাশুড়ি মোসা. সুরাইয়া বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে ধানমন্ডির ৮ নং রোডের ৭৫ নং বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের ধানমন্ডি জোনের এডিসি আব্দুল্লাহিল কাফী বলেন, মিতা নূরের পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তের অগ্রগতির পর তার শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে, রোববার রাতে ওই বাসা থেকে মিতা নূরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মিতার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ। তার বাবার নাম আব্দুল মতিন। মিতা-আদনান দম্পতির সাড়ে তিন মাসের একটি ছেলে রয়েছে। 

মৃতের ফুফাতো ভাই মো. শরিফ জানান, তার স্বামী আদনান বেকার। এ জন্য বাবা-মায়ের কাছে তার কোনো কথাই গ্রহণযোগ্য হতো না। এই সুযোগে আদনানের মা-বাবা প্রায়ই মিতাকে নির্যাতন করতো। মিতা অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায়ও তাকে মারধর করা হয়েছে। আদনান অনেক সময় বাধা দিতেন। সে বাসার বাহিরে থাকলে নির্যাতন আরো বেশি করা হতো।

তিনি আরো জানান, গত রোববার রাত ৯টার দিকে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় মিতার। তারা মিতার বাবা-মাকে ফোনে করে মিতার বাচ্চা অসুস্থ বলে তাদের বাসায় যেতে বলে। তারা বাসায় যাওয়ার পরে তাদের বলে, মিতা বাথরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। পরে চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখেন, বাথরুমের ভেন্টিলেটরের সঙ্গে মিতার গলায় ওড়না প্যাঁচানো। আর বাথরুমের কমোডের উপর মিতা বসে আছে। পরে আদনান মিতাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ধানমন্ডি থানার এসআই তৌকির আহম্মেদ জানান, মিতাকে ও তার পরিবারকে তার শ্বশুর-শাশুড়ি প্রায়ই নিচু জাত, গরীব, অশিক্ষিত বলে গালাগালি করতো। অনেক সময় মারধরও করতো। রোববার রাতেও তাকে গালাগালি করে। একপর্যায়ে মারধর করতে উদ্যত হলে মিতা বাথরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে তার স্বামী তাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/আরএইচ