Alexa স্ত্রীকে বোন পরিচয় দিতেন জাহিদ

ঢাকা, রোববার   ২১ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৭ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

স্ত্রীকে বোন পরিচয় দিতেন জাহিদ

সাভার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:৪৮ ১৬ জুন ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার বাসিন্দা জাহিদ ওরফে সুমির। থাকতেন টাঙ্গাইলের কালীহাতি থানার অস্তিপাড়া গ্রামে। জাহিদ তার ফেসবুকে নিজেকে মেজর হিসেবে পরিচয় দিতেন। এরপর লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন মেয়েদের। আর চাকরি দেয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিতেন বড় অঙ্কের টাকা।

শুধু তাই নয়; সশরীরে হাজির হতেন ফাঁদে ফেলা মেয়ের বাড়িতে। হুট করেই বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। মেয়ে হিন্দু হলে, নিজেকে পরিচয় দিতেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলেই। নিজের স্ত্রী মেঘলাকে বোন পরিচয় করিয়ে দিতেন ভুয়া মেজর জাহিদ।

এমন এক ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগে শনিবার সকালে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার ব্যাংক কলোনী এলাকা থেকে সুমিরকে গ্রেফতার করা হয়।

ভুক্তভোগী নারী শ্যামলী রানী ববি জানান, ২০১৮ এর ৩ আগস্ট মো. জাহিদের (সুমির) সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরে কথা বলার এক মাস পর তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিচয়ের দুই মাস পরে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় দেখা করেন তারা। এ সময় ভুক্তভোগীকে তার খালার বাসার পরিচয় দিয়ে জামগড়া এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যান জাহিদ। একপর্যায়ে জাহিদ জানান, তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন মেজর এবং তার আসল নাম সুমির। সেইসঙ্গে নিজেকে হিন্দু পরিবারের সন্তান বলেন।

শ্যামলী বলেন, জাহিদ আমাকে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দেন। এর আগেও তিনি একাধিক মানুষকে চাকরি দিয়েছে। পরে জাহিদ আমার কাছ থেকে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ৩০ হাজার টাকা নেয়। সেই সঙ্গে জানায়, নিয়োগের পরে চার লাখ টাকা দিতে হবে। কিছুদিন পর বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আমার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়। বাসায় গিয়ে জাহিদ বাবাকে জানায় তার বাবা একজন পুলিশ কমিশনার এবং তিনি দেশের বাইরে থাকেন। এছাড়া জাহিদের মা একজন মানসিক রোগী। পরে জাহিদ নিজের স্ত্রী মেঘলাকে তার বোন পরিচয় দিয়ে বাবার সঙ্গে কথা বলায়। গত বছরের ২৫ অক্টোবর হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে আশুলিয়ায় বসবাস শুরু করি।

ভুক্তভোগী শ্যামলী আরো বলেন, বিয়ের প্রায় ২০ দিন পর জানতে পারি, জাহিদ (সুমির) হিন্দু নয় এবং মেজরও নয়। এর আগে জাহিদ সেনাবাহিনীর অফিসার পরিচয় দিয়ে ভোলার বোরানউদ্দিন থানার পক্ষিয়া গ্রামের আবু তাহের ব্যাপারীর মেয়ে মোছা. শাহানাজ বেগমকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে এবং তার বোনকে চাকরি দেয়ার নামে ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। সেইসঙ্গে আরো দুই লাখ টাকা দাবি করে আত্নগোপন করেছে। আরো অনেক মেয়ের সঙ্গে জাহিদ একই প্রক্রিয়ায় প্রতারণা করেছে।

আশুলিয়া থানার এসআই কামরুল ইসলাম জানান, দুপুরে ভুয়া মেজর জাহিদকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন। এরইমধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে ভুক্তভোগী নারী ও পরিবার যোগাযোগ করে তাদের প্রতারিত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরছেন। পাশাপাশি ভুয়া মেজর জাহিদের স্ত্রী মেঘলাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ প্রতারণার সঙ্গে মেঘলা জড়িত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর