Alexa স্টেশন নয়, যেন ময়লার ভাগাড়!

ঢাকা, সোমবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৪ ১৪২৬,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

স্টেশন নয়, যেন ময়লার ভাগাড়!

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০৩ ২৫ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের দু’পাশ দিন দিন দখল হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে রেলের সম্পত্তি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে দোকানপাট। আবার অনেকে ঘর তুলে বসবাসও করছেন। এছাড়া যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় নষ্ট হচ্ছে স্টেশনের পরিবেশ।

চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র কালীবাড়ি রেলওয়ে স্টেশনের পরিবেশ দেখে মনে হয়, এটি যেন ময়লা আবর্জনা রাখার স্থান! ময়লা স্তুপ করে রাখায় স্টেশনটির সামনে এবং পিছনের জায়গা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও বিত্তবানরা স্টেশনের জায়গা দখল করে দোকানপাট-ঘরবাড়ি গড়ে তুলেছেন। আবার অনেকে সরাসরি না গিয়ে অন্যের মাধ্যমে দখল করছে সরকারি সম্পত্তি।

দখল হয়ে যাচ্ছে চাঁদপুরের কালীবাড়ি রেলওয়ে স্টেশন

সরেজমিনে দেখা যায়, দখল-দূষণ ছাড়াও নানা সঙ্কটে ধুঁকছে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথ। এ রেলপথের স্টেশনগুলো এক সময় যাত্রীর উপস্থিতিতে থাকতো সরগরম। কিন্তু সেবার মান ও কয়েকটি ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রী সংখ্যা কমেছে ব্যাপক হারে। এ রেলপথে এখন মাত্র দু’টি ট্রেন চলাচল করায় যাত্রী দুর্ভোগের অন্ত নেই। ট্রেন চলাচল কমে যাওয়ায় স্টেশন সংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে গত এক যুগে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের শাহতলী, মৈশাদী, বলাখাল ও শাহরাস্তিসহ কয়েকটি স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। আরো ৫-৬টি স্টেশন বন্ধ হওয়ার পথে।

অপরদিকে রেলপথ উন্নয়ন করা হলেও যাত্রীসেবার মান বাড়েনি। স্টেশনে পর্যাপ্ত বসার স্থান নেই, নেই পাবলিক টয়লেট। এছাড়া ট্রেনে হকার, হিজড়া ও ভিক্ষুকের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ যাত্রীরা। তারা অনেকবার অভিযোগ করেও কোনো ফল পাননি।

মেঘনা এক্সপ্রেসের যাত্রী খাইরুল আলম বলেন, সরকার চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের অনেক উন্নয়ন করেছে। কিন্তু ট্রেনে কোনো সেবা পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো নানা ভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। টিকেট কেটেও সিটে বসতে পারি না। দুইজনের সিটে তিনজনকে বসায় পুলিশ। এছাড়া হকারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে ট্রেনে পণ্য বিক্রি করার সুযোগ করে দেয় পুলিশ।

শাহরাস্তি এলাকার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের আশপাশ দিন দিন দখল হচ্ছে। এক সময় মানুষ এ রুটে বেশি চলাচল করতো। এখন ট্রেনও কমে গেছে। তাই দখলবাজদের রেলের জায়গা দখল করতে সুবিধা হচ্ছে। সরকারের কাছে রেলের সম্পত্তি উদ্ধার এবং এ রেলপথে ট্রেন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

চাঁদপুরে দখল হয়ে যাচ্ছে রেলের জায়গা

এ বিষয়ে সহকারি স্টেশন মাস্টার শিমুল মজুমদার বলেন, রেলের কার্যক্রম ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় চলছে। এখন আর আগের মতো টিকেট কালোবাজারি নেই। তবে কিছু লোক গোপনে অন্যভাবে টিকেট বিক্রি করে থাকে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে যাত্রী হয়রানির কোনো অভিযোগ কখনো আসেনি। ট্রেনে যেন যাত্রী হয়রানি না হয়, সেজন্য ট্রেনে দায়িত্বরতদের আমরা সতর্ক করে থাকি।

বড়স্টেশন রেলের সহকারি স্টেশন মাস্টার শোহেব বলেন, চাঁদপুর-লাকসাম ৫৭ কিলোমিটার রেলপথ উন্নত হওয়ার পর থেকে কোনো ট্রেনের শিডিউল বিপর্যস্ত হয়নি। সঠিক সময়ে সব ট্রেন চলাচল করে। রেলের টিকেট কালোবাজারি, রেলস্টেশনে মালামাল ওঠানো-নামানোর সিন্ডিকেট ও অনিয়ম, যাত্রী ভোগান্তি রোধের চেষ্টা করছি।

রেল পুলিশ ট্রেনে দুইজনের আসনে তিনজনকে বসিয়ে নিয়ে যায় এ বিষয়ে চাঁদপুরে রেলওয়ে জিআরপি থানার ওসি মো. সারওয়ার আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এর আগে কেউ আমাদের কাছে এ ধরনের অভিযোগ করেনি। এছাড়া ট্রেনে যাত্রী হয়রানির বিষয়টিও আমার জানা নেই। চাঁদপুরে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি ও মালামাল ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের কোনো ঝামেলা নেই বলে জানান তিনি।

রেলের সম্পত্তি দখল নিয়ে ওসি বলেন, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের আশপাশের জায়গাগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। যত্রযত্র গড়ে উঠছে দোকানপাট-ঘরবাড়ি। রেলের উর্ধ্বতন কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই আমরা একা কিছুই করতে পারছি না।

রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) লিয়াকত আলী মজুমদার বলেন, ইঞ্জিন ও বগি সঙ্কটে শুধু চাঁদপুর-লাকসাম নয়, অন্যান্য জেলার এ সঙ্কট রয়েছে। চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথ উন্নত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব স্টেশন আধুনিকায়ন করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস