স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর ভুল ব্যাখ্যায় ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা, বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ১৮ ১৪২৬,   ০৭ শা'বান ১৪৪১

Akash

স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর ভুল ব্যাখ্যায় ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২০ ২৯ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এক শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 

নিহতের ভিসেরা রিপোর্ট ও পটুয়াখালী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মেডিকেল রিপোর্টে অসঙ্গতি থাকায় এ মামলা হয়। পটুয়াখালী সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রেক্ষিতে ভিসারা রিপোর্টে অসঙ্গতি বেড়িয়ে আসে। এর পূর্বে ওই শিশু শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে বলে পটুয়াখালী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অপরাধ আড়াল করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার নিহত আরদিনের মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। ওই আদালতের বিচারক আমিরুল ইসলাম অভিযোগ আমলে নিয়ে অপমৃত্যুর মামলার নথি তলবসহ আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করেন। 

ওই মামলায় তৎকালীন পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক সাইদুজ্জামান, তৎকালীন জরুরি বিভাগের ডাক্তার মো. আনোয়ার উল্লাহ, মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক্ষ মাজহারুল ইসলাম, জুনিয়র কনসালট্যান্ট শামীম আল আজাদ, চিকিৎসক তারেক হাসান এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স আফসানা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। 

মামলার বরাদ দিয়ে আইনজীবী কমল দত্ত জানায়, ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরদিন খান অভির বুকে ব্যথা উঠলে তাৎক্ষণিক পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে জরুরি বিভাগের ডা. আনোয়ার উল্লাহ ব্রাদারের দেয়া তথ্যে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ওয়ার্ডে পাঠান। ওই সময় চিকিৎসক আনোয়ার উল্লাহ ডিউটির সময়সীমা শেষ হওয়ার অজুহাতে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করে। 

পরে অভিকে নিয়ে ওয়ার্ডে গেলে সেবিকা আফসানা ইনজেকশন প্রয়োগ করলে অভি আরো অসুস্থ্য হয়ে পরে। ওই রাতে ওনকল ডিউটিরত জুনিয়র কসালটেন্ট শামীম আল আজাদকে মোবাইলে হাসপাতালে আসার অনুরোধ করা হলে তিনি রোগীকে নিয়ে তার প্রাইভেট চেম্বারে যেতে বলেন। রাত ৯টার পরে ওই ওয়ার্ডে ডা. মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত হলেও ইনর্টানি চিকিৎসকের ক্লাসের অজুহাত দিয়ে সটকে পড়েন। ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভির মৃত্যু হলে সহপাঠীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। পরে বিচারের দাবিতে পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধসহ কয়েক দফা আন্দোলন করে সহপাঠী ও তার পরিবার। 

এছাড়াও  সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে অভির পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। এদিকে ওই রাতে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক তারেক হাসান বিষক্রিয়ায় অভির মৃত্যু হয়ে বলে সদর থানাকে অবহিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করে। 

এছাড়াও অভির মৃত্যুর ঘটনায় জেলা প্রশাসনের কাছে দেয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি করা হলেও তাতে  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি আড়াল করেন। কিন্তু ভিসেরা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো প্রকার বিষক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়নি।


 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর