Alexa স্কুলের মাঠ না ডোবা বোঝা দায়

ঢাকা, সোমবার   ২২ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৭ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

স্কুলের মাঠ না ডোবা বোঝা দায়

মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২৮ ১২ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৮:৪৮ ১২ জুলাই ২০১৯

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

স্কুলের মাঠ নাকি ডোবা দেখা বোঝাই যায় না। অন্যদিকে স্কুলের সামনের কাঁচা রাস্তার মাঝে আছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুপানি থাকে। বাচ্চারা স্কুলে যেতে ভয় পায়। বাধ্য হয়ে নিজের বাচ্চাকে নিজেই নিয়ে এলাম। যাতে ও ভয় না পায়।

বৃহস্পতিবার সকালে ধর্মপুর গ্রামের পশ্চিম ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে এসব কথা বলছিলেন রজিনা বেগম। তার মেয়ে সালমা আক্তার এই স্কুলের প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলটি নোয়াখালী সদর উপজেলায় অবস্থিত।

একসময় স্কুলে হাসিখুশিতে মাতিয়ে রাখতো সালমা। সুন্দর আর সজ্জিত ক্লাসরুমে সালমার খেলার সঙ্গী ছায়মা, রাহাদসহ আরো অনেকেই। কিন্তু আর হাসি আর খুশি আসে না সবার মনে। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে স্কুলের সামনের ডোবা এবং রাস্তায় হাঁটুপানি থাকার কারণে বেকে বসেছে সবার মা। স্কুলে পাঠায় না কাউকেই। আর এতেই মন খারাপ সালমার।

এই স্কুলের ৩০২ শিক্ষার্থী। উপস্থিত থাকে ৭০ থেকে ৭৫ শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থী অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মনির উদ্দিন বলেন, স্কুলের সামনে আছে তিন কিলোমিটার দৈর্ঘে্যর একটি সড়ক। সড়কটি সংস্কারের অভাবে বড় বড় গর্ত হয়েছে। এরইমধ্যে গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে সড়টি তলিয়ে গেছে। যার কারণে অভিভাবকরা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সামছুন নাহার বলেন, তাদের বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত কোনো সমস্যা নেই। শ্রেণিগুলোও সুসজ্জিত। তবে সামনের রাস্তার বেহাল দশার কারণে ছাত্র-ছাত্রীসহ শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে আসতে খুব কষ্ট হয়। রাস্তায় পানি জমে থাকায় প্রাক-প্রাথমিকের শিশুরা বিদ্যালয়ে একা আসতে পারে না। কোলে তুলে অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেন। অন্য শিশুরা নিয়মিত পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই তাদের অনেক র্দুভোগ পোহাতে হচ্ছে। অচিরেই এ রাস্তাটি পাঁকাকরণ অথবা সংস্কার করা প্রয়োজন।

সালমা, ছায়মা, রাহাদদের স্কুলের খেলার সঙ্গীদের হাসিখুশিতে মাতিয়ে রাখতে রাস্তাটি সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম সামছুদ্দিন জেহান। তিনি বলেন, বর্ষার পানি কমলেই রাস্তাটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর শুকনো মৌসুমে শ্রেণি অনুসারে রাস্তাটি পাঁকাকরণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম