.ঢাকা, সোমবার   ২৫ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ১১ ১৪২৫,   ১৮ রজব ১৪৪০

সৌদিতেও প্রতারণার শিকার হজযাত্রীরা

ডেইলি বাংলাদেশ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ০৯:৫০ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭   আপডেট: ০৯:২১ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাসিন্দা আনোয়ারুল হককে মক্কায় একটি হোটেলে রেখে পালিয়েছে তার হজ এজেন্সির লোক। গত রাতে তিনি তার পরিবারকে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাউকে পাওয়া যায়নি।

গতকাল সোমবার সরকারি অফিস খোলার প্রথম দিনে ছিলেন না মন্ত্রী বা সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা। পরে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বিজনেস অটোমেশনকে বিষয়টি জানানো হলে তারা দেখবে বলে আশ্বস্ত করে। গত রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেই হজযাত্রীর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানা যায়নি। এভাবে একাধিক হজযাত্রী সৌদি আরবে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া ও প্রতারণার অভিযোগ করেছেন।

গত ৩১ আগস্ট পবিত্র হজ পালন শেষে হাজিরা তৃতীয় ও শেষ দিনের মতো জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করেন এবং সূর্যাস্তের আগেই মিনা থেকে মক্কায় ফিরে আসেন। আগামীকাল ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ফিরতি ফ্লাইট, যা চলবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

সূত্র জানায়, সৌদি আরবে হজযাত্রীদের একটি বড় অংশকেই পোহাতে হয়েছে নানা ভোগান্তি। এর নেপথ্যে অন্যতম কারণ হলো হজ এজেন্সিগুলোর অতি লোভী মানসিকতা।

এ বিষয়ে দায় এড়াতে পারে না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জেদ্দা হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, হারিয়ে যাওয়া দুই হাজার ৩০৫ জন হজযাত্রীকে মিনা থেকে নিজ নিজ তাঁবুতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সৌদি আরবে ইন্তেকাল করেছেন ৬৮ জন হজযাত্রী। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫৫ ও মহিলা ১৩ জন।

এ বছর ভিসা পেয়েও ৩৬৭ জন হজে যেতে পারেননি। তাদের মধ্যে ৯৮ জন ১৮টি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। ওই এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স বাতিল করার জন্য এরই মধ্যে সুপারিশ করেছে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আইটি বিভাগের কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, প্রতিবছরই হজযাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। এর পরও এর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বরং দিন দিন সমস্যা জটিল হচ্ছে। প্রতিবছরই শুরুতে দু-চারটি ফ্লাইট বাতিল হয়। এবারই সর্বোচ্চসংখ্যক ২৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে দুইভাবে হজযাত্রী পাঠানো হয়ে থাকে—সরকারি বা ব্যালটি এবং নন-ব্যালটি বা বেসরকারি। সরকারিভাবে পাঠানো হয়ে থাকে সর্বোচ্চ মাত্র ১০ শতাংশ। বাকি ৯০ শতাংশই পাঠিয়ে থাকে বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলো। আর বেসরকারিভাবে যাওয়া হজযাত্রীদের নিয়েই প্রতিবছর গোল বাধে। কারণ এজেন্সিগুলো যাত্রীদের যত কম সময় সৌদি আরবে রাখতে পারে ততই তাদের মুনাফা। যাত্রী বেশিদিন সৌদি আরবে থাকলে তাঁদের থাকা-খাওয়াসহ মুয়াল্লিম ফির খরচ বেড়ে যায়। এ কারণে এজেন্সিগুলো সেভাবেই বাড়ি ভাড়া করে যাত্রীদের ফ্লাইট নির্ধারণ করে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বিমান ও সৌদিয়ার মাধ্যমে এ বছর এক লাখ ২৭ হাজার ২২৯ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) হজ করতে গেছেন। ৩৭০টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৯১ ও সৌদিয়া ১৭৯টি ফ্লাইট চালায়।

সূত্র: কালের কন্ঠ

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ