.ঢাকা, রোববার   ২৪ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ১০ ১৪২৫,   ১৭ রজব ১৪৪০

নবীজি (সা.) এর ১০ হাদিস

নিউজ ডেস্ক :: news-desk

 প্রকাশিত: ১৫:৫২ ৯ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৫:৫২ ৯ নভেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ব্যক্তির সুস্বাস্থ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির ব্যপারে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করে। 

যেখানে কিছু কিছু জাতি আধ্যাত্মিকতা অর্জনের লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা ও নিজের যত্ন নেওয়া পরিত্যাগ করেছে সেখানে ইসলাম এটাকে প্রতিদিন নামাজের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে সবার জন্য বাধ্যতামূলক করেছে। 

প্রত্যেকের স্বাস্থ্যবিধির প্রতি লক্ষ্য রাখাকে ইসলাম শুধু উত্তম অভ্যাস হিসেবেই বিবেচনা করে না বরং একে ইমানদারদের জন্য অনুষ্ঠানিক রীতিতে পরিণত করেছে।   

যেমনটা উপরে বলা হয়েছে যে, একজন মুসলিমের জন্য তার প্রতিদিনকার ইবাদাতের পূর্বে পবিত্রতা অর্জন করা প্রয়োজন, যা প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের পর ভালোভাবে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা এবং ওজু করাকে অন্তর্ভুক্ত করে।  

কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ গোসল করাও বাধ্যতামূলক; যেমন স্বামী-স্ত্রী অন্তরঙ্গ হওয়ার পর।  

অধিকন্তু দাঁত পরিষ্কার রাখা সম্পর্কে উৎসাহ দানকারী নিম্নে উল্লিখিত হাদিসটি প্রকাশ করে যে, ইসলাম কোন পর্যায় পর্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকে প্রাধান্য দিয়েছে, এমনকি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকটিও  বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে সতর্ক করেছে। 

দুনিয়া এবং আখিরাত উভয় দিকেই মানুষের কল্যাণের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া ইসলামের জন্য অবাক করা কিছু না। একজন দুর্বল ইমানদার ব্যক্তির তুলনায় একজন সুস্বাস্থের অধিকারী ইমানদার ব্যক্তিই মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহর নিকট বেশি পছন্দনীয় কেননা সে মহান আল্লাহর দেওয়া হুকুম পালনে এবং মানুষের কল্যাণ সাধনে বেশি উপযোগী।  

এই হাদিস সমূহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সুস্বাস্থ্য রক্ষার প্রতি ইসলাম যে গুরুত্বারোপ করেছে তার অল্প কিছু উদাহরণ মাত্র:

পবিত্রতা ঈমানের একটি অংশ-

(১) আবু মালিক আল-আশা’আরি (র.) হতে বর্ণিত, যে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘পবিত্রতা ঈমানের অর্ধাংশ।’  

দাঁত পরিষ্কার রাখাকে ইসলাম অত্যন্ত উৎসাহিত করেছে-

(২) হজরত আয়শা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘মিসওয়াক (গাছের ছোট ডাল যা দাঁত মাজতে ব্যবহৃত হয়) ব্যবহার মুখ পরিষ্কার এবং পবিত্র করে এবং আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে’ (আন- নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ; আল- আলবানি দ্বারা প্রমাণিত)   

(৩) হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন,

‘যদি না এটা আমার উম্মতদের ওপর বেশি বোঝা হয়ে যেত, তাহলে আমি তাদেরকে প্রত্যেক নামাজের পূর্বে মিসয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ (বুখারি, মুসলিম) 

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা মানুষের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য-

(৪) হজরত আবু হূরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, যে রাসূল (সা.) বলেছেন,

‘মানুষের ৫টি অভ্যাস যা ফিতরাহ (স্বাভাবিক বৈশিষ্টের অন্তর্গত); খাতনা করা, গোপনাঙ্গের লোম পরিষ্কার করা, নখ কাটা এবং গোঁফ ছোট রাখা।’ (বুখারি, মুসলিম) 

মুসলিমের সর্বোত্তম দিন যেমন হবে- 

(৫) আবু যর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন,

‘যে ব্যক্তি শুক্রবার গোসল করে এবং তা ভালোভাবে করে, নিজেকে পবিত্র করে এবং তা ভালো ভাবে করে, এবং তার সবচেয়ে উত্তম পোশাক পরিধান করে, এবং আল্লাহ তার জন্যে যা রেখেছেন তার পরিবারের সুগন্ধি ব্যবহার করে, তারপর মসজিদে আগমন করে এবং নিজেকে অযথা কথায় জড়ায় না এবং দুই ব্যক্তিকে আলাদা করে তাদের মাঝে প্রবেশ করে না; আল্লাহ পাক ঐ ব্যক্তির সেই জুমা হতে তার আগের জুমা (শুক্রবারের) পর্যন্ত  সকল গুনাহ মাফ করে দেন।’ (ইবনে মাজাহ -আলবানি দ্বারা প্রমাণিত) 

পরিবেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা-

(৬) মুয়ায (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) সতর্ক করে বলেছেন,

‘তিনটি কাজ হতে সতর্ক হও যা তোমাদের অভিশপ্ত করে; এমন ছায়া বিছানো জায়গায় বিশ্রাম নেওয়া যা মানুষ ব্যবহার করে, হাটার পথে বা কোনো জলসেচন জায়গায়।’ (আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে হাসান বলেছেন) 

(৭) হজরত আবু যর আল-গিফারি (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে রাসূল (সা.) বলেছেন,

‘রাস্তা থেকে কষ্ট দায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা এক ধরনের দান (সদকাহ।)।’ (আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন) 

ওষুধ বা চিকিৎসা নেওয়াকে উৎসাহিত করেছে- 

(৮) উসামা ইবনে শারিক (রা.) বর্ণনা করেছেন,

একদা আমি রাসূল (সা.) এর নিকট আসলাম, তাঁর সাথীগণ তখন এমন শান্তভাবে বসে ছিল যেন তাদের মাথায় পাখি বসে আছে। আমি সালাম দিয়ে বসে পড়লাম।  

মরুভূমির কিছু আরব লোক আসলো আশপাশ থেকে। অতঃপর তারা রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলো, আমরা কি কোনো চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবো? 

তিনি উত্তর দিলেন: চিকিৎসা গ্রহণ করো, কেননা আল্লাহ প্রতিকার ছাড়া কোনো অসুখ তৈরি করেন নি, শুধু একটি রোগ ব্যতীত, আর তা হলো বার্ধক্য।’ (আবু দাউদ) 

শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান হওয়া-

(৯) হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন,

‘একজন বলশালী ইমানদার আল্লাহর নিকট বেশি প্রিয় একজন দুর্বল ইমানদার ব্যক্তির চেয়ে, এবং তারা দুজনই উত্তম।

গভীরভাবে তাই অন্বেষণ করো যা তোমার উপকার করে, একমাত্র আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং হাল ছেড়ো না।

যদি কোনো কিছুতে অকৃতকার্য হও, তবে একথা বলো না যে, যদি এটা না করে অন্য কিছু করতাম!

বরং বল যে ‘আল্লাহ যা করেছেন ঠিক করেছেন এবং যা চেয়েছেন তাই হয়েছে, ‘যদি’ শব্দটি শয়তানের কাজের দরজা খুলে দেয়।’ (সহিহ বুখারি) 

অতিরিক্ত খাওয়া অস্বাস্থ্যকর-

(১০) আল- মিকদাম (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন,

‘কোনো মানুষ তার পেটের চেয়ে অধিক খারাপভাবে কোনো পাত্র ভর্তি করতে পারে না।

কয়েক টুকরা যা তার পিঠ সোজা রাখার জন্য যথেষ্ট। যদি তার প্রয়োজন হয় তবে তার উচিত তার পাকস্থলির তিন ভাগের এক ভাগ খাবারের জন্য রাখা, এক ভাগ পানির জন্য রাখা এবং এক ভাগ শ্বাস নেয়ার জন্য রাখা।’ (মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযি)   

সুত্রঃ এবাউট ইসলাম ডটনেট

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএডব্রিউ