.ঢাকা, শনিবার   ২০ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৭ ১৪২৬,   ১৪ শা'বান ১৪৪০

সোতি বাঁধে মৎস্য নিধন

 প্রকাশিত: ১৯:২০ ৯ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৯:২০ ৯ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পাবনার চাটমোহর উপজেলার নদ-নদী ও বিলের উৎসমুখে অবৈধ সোতি বাধ স্থাপন করে মৎস্য নিধন চলছে। নদ-নদী ও বিল থেকে পানি নামার সময় প্রতিবছরের মতো প্রভাবশালীরা মাছ শিকারের উৎসবে মেতে উঠেছে। 

উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত গুমানী নদী, করতোয়া নদী, কাটা গাঙ, জিওল গাড়ির জোলা, ছাওয়াল দহসহ চলনবিলের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে অবৈধ সোতি বাঁধ। 

সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন বাঁধ স্থাপনে বাধা দিলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মৎস নিধনযজ্ঞে মেতে উঠেছে প্রভাবশালী নেতারা। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও অবৈধ বাঁধ স্থাপনে কোন বিরোধ নেই। অনেকটা সমঝোতার ভিত্তিতে সোঁতি বাঁধ স্থাপন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। 

অন্যদিকে মাছ শিকার করতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছে জেলেরা। ব্যাহত হচ্ছে নৌ-চলাচল। 

উপজেলার ছাইকোলা, নিমাইচড়া, হান্ডিয়াল, ডিবিগ্রাম এলাকার বিভিন্ন নদ-নদী ও বিলের উৎসমুখে বাঁশ, পলিথিন ও জাল দিয়ে ঘিরে নিদিষ্ট একটি স্থান দিয়ে পানির স্রোত সৃষ্টি করা হচ্ছে। সোঁতি বাঁধ স্থাপনের ফলে পানি সহজে বের হতে পারছে না। 
সেই সঙ্গে কাঁকড়া, শামুক থেকে শুরু করে কৃষি জমির জন্য উপকারী কীটপতঙ্গ সোঁতি জালে উঠে আসছে। 

পানি নামতে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের পরোক্ষ সহযোগিতায় এই অপকর্ম বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। 

সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন কয়েকটি সোঁতি বাঁধে অভিযান চালিয়ে বাঁশ ও জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলে। কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পুনরায় বাঁশ পুঁতে সোঁতি জাল স্থাপন করে মাছ শিকার শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অবৈধ সোঁতি বাঁধগুলো অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। 

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি সোঁতি বাঁধ উচ্ছেদ করেছি। বিলে সোঁতি বাঁধ দেয়া বন্ধ করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।

চাটমোহরের ইউএনও সরকার অসীম কুমার জানান, উন্নয়ন মেলায় ব্যস্ত থাকার সুযোগে সম্ভবত সোঁতি স্থাপন করেছে। কোন জায়গায় সোঁতি বাঁধ স্থাপন করতে দেয়া হবে না। সবগুলো সোঁতি বাঁধ উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান তিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসকে