সেশনজট জাদুঘরে পাঠিয়েছি: ইবি ভিসি 

ঢাকা, বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ১৮ ১৪২৬,   ০৭ শা'বান ১৪৪১

Akash

সেশনজট জাদুঘরে পাঠিয়েছি: ইবি ভিসি 

ইবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫৮ ১১ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:০৫ ১১ জানুয়ারি ২০২০

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এ বছর ৪১ বছরে পদার্পণ করেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ভিসি প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারীর (রাশিদ আসকারী) সঙ্গে কথা বলেছেন হুমায়ুন কবীর জীবন। 

শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাই
-বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, ব্যবসায় প্রশাসন, সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও কলা অনুষদসহ আটটি অনুষদের অধীনে ৩৪টি বিভাগে পড়ানো হচ্ছে। আর শুধুমাত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়েই ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী আইনের উপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। সকল ধর্মের, দেশি ও বিদেশি ছাত্র-শিক্ষকের সমন্বয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

দায়িত্ব পালনের পর ইবিকে কতটা গবেষণামুখী করতে পেরেছেন? গবেষণা খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে কি?
-উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় দিক হলো গবেষণা। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর পঠন-পাঠনের সকল স্তরেই গবেষণাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। গবেষণামুখী কোর্স-কারিকুলাম প্রবর্তন করা হয়েছে। একটি বড় মাপের কেন্দ্রীয় ল্যাব প্রতিষ্ঠার আয়োজন প্রায় সম্পূর্ণ। গবেষণা খাতে বরাদ্দ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় এখনো কম।

দায়িত্ব গ্রহণের পর কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন?
-দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মঘণ্টা বেড়েছে। সব বিভাগে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হয়েছে। প্রথম এবং পূর্নাঙ্গ অর্গানোগ্রাম অনুমোদন করা হয়েছে। একাডেমিক অর্ডিন্যান্স আর্ন্তজাতিক মানের করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কোলাবরেশন হয়েছে। সেশনজট কমেছে। দেশের বৃহত্তম কনভোকেশন (৪র্থ কনভোকেশন) হয়েছে। ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রজেক্টের কাজ শুরু করা হয়েছে। ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন হয়েছে, অনির্ধারিত বন্ধ শূন্যের কোটায় পৌঁছেছে। ৯টি নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে। ক্লাস রুম, শিক্ষা ও গবেষণার দিকগুলো আরো উন্নত করতে চাই।

বর্তমানে জাতীয় উন্নয়নে এ বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু অবদান রাখছে বলে আপনি মনে করেন?
-সন্তোষজনক। একুশ শতকের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পদ্ধতিগতভাবে কাজ করে চলেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মানে সেশনজট মনে করা হত। এখন কেমন অবস্থা?
-সেশনজটকে আমরা জাদুঘরে পাঠিয়েছি।

শিক্ষার্থীদের আবাসন ও পরিবহন সংকট নিরসনে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে কিনা?
-মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ৮৫ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-কর্মচারীর আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

নতুন বিভাগ খোলার যৌক্তিকতা কতটুকু? নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কিনা?
-‘নিডস বেজড’ সাবজেক্ট খোলার যৌক্তিকতা রয়েছে। কোয়ালিটি এসিউরেন্স সেলের মাধ্যমে আমরা নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য নিয়ে কিছু বলুন
-একটি ‘ওয়ার্ক কালচার’ সৃষ্টি করতে পেরেছি। আমার এ তিন বছরের দায়িত্ব পালনে এটি সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে মনে করি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন সবাই আগের চাইতে বেশি কাজ করে। অনেকেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। এই। 

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা বিকাশে এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে আপনার পরামর্শ কী?
-এক্ষেত্রে ডা. লুৎফর রহমানের একটি উক্তি জ্ঞাতব্য: ‘দুর্জন ব্যক্তি বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য।’ ‘সর্পের মস্তকে মণি থাকিলেও সে কি বিষধর নহে?’

ক্যাম্পাসের হলগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এসেছে কিনা, না আসলে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন কি?
-পূর্ণাঙ্গভাবে না হলেও হলগুলো এবং পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এসেছে। এরইমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে ক্যাম্পাস ও হল পূর্ণাঙ্গ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

লাইব্রেরি সম্পর্কে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী জানতে চাই?
-লাইব্রেরি ডিজিটালাইজেশন কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। একটি আধুনিক পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল লাইব্রেরি গড়ে তুলতে চাই। বিভিন্ন আন্তজার্তিক কনসোটিয়ামের সঙ্গে কানেকটিভিটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ই-বুক ও ই-জার্নালের সুবিধা সম্প্রসারিত করতে চাই।

পরিবহন সঙ্কট নিয়ে কী উদ্যোগ নিয়েছেন?
-এরইমধ্যে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য ৬টি এসি কোস্টার, ১টি মাইক্রোবাস, ১টি এ্যাম্বুলেন্স এবং ছাত্রীদের জন্য ২টি হিনো বাস কেনা হয়েছে। আগামী ২ মাসের মধ্যে আরো দুটি বড় বাস কেনা হবে। তবে মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হলে পরিবহন সঙ্কট একেবারেই থাকবে না।

শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?
-শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনো প্রতিভার অধিকারী। তোমরা নিজেদের ভেতরে সুপ্ত প্রতিভার সন্ধান করো। সততা, নিষ্ঠা এবং কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে প্রতিভা সর্বোচ্চ বিকশিত করো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম