Alexa সেবায় সন্তুষ্টি, দালাল দৌরাত্মে দিশেহারা

ঢাকা, রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬,   ২২ মুহররম ১৪৪১

Akash

কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল

সেবায় সন্তুষ্টি, দালাল দৌরাত্মে দিশেহারা

শাহাজাদা এমরান, কুমিল্লা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৭ ২০ আগস্ট ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বিভাগে ২০১৮ সালে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল। অত্যাধুনিক ও পরিচ্ছন্ন এ হাসপাতালের আউটডোরে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নেন। সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি থাকলেও দালালদের দৌরাত্মে দিশেহারা রোগী ও তাদের স্বজনরা।

এছাড়া হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত জনবল। আউটডোর ভবন, এক্সরে ভবন, ডায়ারিয়া ওয়ার্ডের অবস্থাও জরাজীর্ণ। তবে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের আউটডোর ও জরুরি বিভাগের কাউন্টারের সামনে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। টিকিট কেটে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছেন। নির্বিঘ্নে আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, এক্স-রে, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের সেবা পাচ্ছেন রোগীরা। দালালদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরতে হচ্ছে অনেককে। কেউ কেউ আবার দালালের ফাঁদে পড়ে যাচ্ছেন প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে। এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামনে অসংখ্য ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ভিড় করছেন।
 
কুমিল্লা জেনালে হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত জরুরি বিভাগে সেবা নিয়েছেন ১২ হাজার ৪৪৫ জন। এছাড়া ২০১৮ সালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৪ হাজার ২৪৬ জন। তবে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে একজন করে সিনিয়র কনসালট্যান্ট মেডিসিন, জুনিয়র কনসালট্যান্ট অপথালমোলজি, অ্যানেসথেসিওলজি, রেডিওলজি, প্যাথলজিস্ট, ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া একজন নার্সিং সুপার ভাইজার, পাঁচজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, চারজন স্টাফ নার্সের পদ খালি। জনবল প্রয়োজন কম্পিউটার অপারেটর, ফার্মাসিস্ট, অ্যাম্বুলেন্স চালক, অফিস সহায়ক, বাবুর্চি, পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদেও।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থেকে আসা ডেঙ্গু আক্রান্ত মো. তানভীর হাসান বলেন, এখানে সেবার মান খুবই ভালো। ডাক্তার, নার্স সবাই আন্তরিক। ভোগান্তিও নেই বলা যায়।

রোগীর সঙ্গে আসা তন্নী গোলদার বলেন, এ হাসপাতালে সিট পেতে বা অন্য কোনো কাজের জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় না। তবে খাবারের মান ভালো না।

হাসপাতালের আরএমও ডা. এম.এ করিম খন্দকার বলেন, রোগীর চার বেশি, তাই সবাইকে অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে। শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগ দেয়া হলে সেবার মান আরো ভালো হবে।

সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, জনবল সংকট ও পুরনো ভবনগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দালাল ও কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মের বিষয়টিও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান হলে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল দেশের সেরা হাসপাতাল হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর