সেপ্টেম্বর-নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় মে মাসে হওয়ার কারণ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

সেপ্টেম্বর-নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় মে মাসে হওয়ার কারণ

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:২৬ ২০ মে ২০২০   আপডেট: ১১:৩৪ ২০ মে ২০২০

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

ঋতুচক্রে কি সত্যিই বদল এসেছে? এ বিষয়টি নিয়ে অবশ্য আগে থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছিল। গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বর্ষার দিন কমে যাওয়ার পাশাপাশি শীত দেরিতে আসা, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ইত্যাদি ইঙ্গিতে তারই প্রতিফলন পেয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। 

ঋতুচক্র বদলের পাশাপাশি এবার ঘূর্ণিঝড়ের চক্রেও পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। শুধু তাই নয়, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতাও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আবহাওয়াবিদ-গবেষকদের একটি অংশের এমন মনে করার কারণ হলো, ২০১৯ সালের ওডিশায় আছড়ে পড়া ফনী এবং এবারের আম্ফান। তীব্রতার মাপকাঠির ভিত্তিতে এই দুই মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়ই (এক্সট্রিমলি সিভিয়র সাইক্লোন) ভূ-পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার জন্য মে মাসকে বেছে নিয়েছে। আর তাতেই ঋতু বদলের বিষয়টি নিয়ে ভাবোচ্ছে আবহায়াবিদ ও গবেষকদের।

তাদের মতে, সাধারণত এ ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের সময়কাল হলো সেপ্টেম্বর-অক্টোবর-নভেম্বর, এই তিন মাস। ২০১৯ সালের আগে ওডিশা ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়গুলোর ৯০ শতাংশের জন্মকালই ছিল অক্টোবর-নভেম্বর। ১৯৯৯ সালে ওডিশার সুপার সাইক্লোন, ২০১৩ সালের পাইলিন, ২০১৪ সালের হুদহুদ, ২০১৮ সালের তিতলি (সব কয়টিই হয়েছিল অক্টোবরে)। ২০১৯ সালের বুলবুল হানা দিয়েছিল নভেম্বর মাসে।

গত বছরই তার ব্যতিক্রম ঘটে। গত বছর মে মাছে ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিবেগে ওডিশায় আছড়ে পড়েছিল ফনী। লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল ওডিশা। এর প্রভাব পড়েছিল বাংলাদেশেও। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফের আম্ফান চোখ রাঙাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, গত ১৫ থেকে ২০ বছরের তথ্য ঘাঁটলে দেখা যাবে, মে মাসে সেই অর্থে কোনো সুপার সাইক্লোন হয়নি। ফনী ও আম্ফান সেখানে ব্যতিক্রম। এক আবহাওয়া বিজ্ঞানীর জানায়, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার কারণে এ ধরনের জলবায়ুগত ব্যতিক্রম (ক্লাইম্যাটিক অ্যানোম্যালি) তৈরি হতে পারে। 

যেভাবে দূষণ বাড়ছে, ভূগর্ভ থেকে খনিজ উত্তোলন হচ্ছে, জঙ্গল ধ্বংস করাসহ পরিবেশের একাধিক পরিবর্তন ঘটানো হচ্ছে, তার প্রভাবেই এ ধরনের আবহাওয়াজনিত বিপর্যয় (হাইড্রোমেটিয়োরোলজিক্যাল হ্যাজার্ডস) তৈরি হচ্ছে।

ভারতীয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের (এনআইডিএম) রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডিভিশনের সাবেক প্রধান তথা বর্তমানে আইআইটি, জম্মুর অধ্যাপক চন্দন ঘোষ জানান, গত বছর মে মাসে ফনী এসেছিল, আবার ওই বছর নভেম্বরে বুলবুল আছড়ে পড়ে, যা সাধারণত হয় না।

তিনি আরো জানান, শুধু এ অঞ্চলেই ঋতুচক্রের স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙে যে ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে, তা নয়। আটলান্টিক, প্রশান্ত মহাসাগরেও এ ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। জাপান, আমেরিকার দিকে তাকালেও বোঝা যাবে, সেখানেও একই অবস্থা।

ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস, ইলাহাবাদ-এর নির্বাচিত সদস্য ও গবেষক এ ডি রাও এর মতে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়গুলোর তীব্রতা আগের তুলনায় অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সেগুলোর ফ্রিকোয়েন্সি বেড়েছে না কমেছে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। সে সম্পর্কে সুনিশ্চিতভাবে কিছু বলতে আরো তথ্য দরকার।

জানা গেছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত আম্ফান ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের উপকূলের ৩৪৫ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করছে। আজ বুধবার সকাল ১০টায় ৩২ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় আবহাওয়া অধিদফতর। 

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ঘূর্ণিঝড়টি ৫২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। 

ধারণা করা হচ্ছে, এটি আরো উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ২০ মে বিকাল বা সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস