.ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৮ ১৪২৫,   ১৫ রজব ১৪৪০

সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ১১:৩৯ ১৩ মে ২০১৮   আপডেট: ১৯:১০ ১৩ মে ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। আমার দুই ভাই সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। আমার ১০ বছরের ছোট ভাইটিও, বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে চাকরি করতে চেয়েছিল। আর এ সব বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বার বার আবেগ প্রবণ হয়ে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। কিছুক্ষণ পর পর মুছেন চোঁখ।

রোববার ঢাকা সেনানিবাসে ২০টি সমাপ্ত প্রকল্পসহ ২৭টি উন্নয়ন প্রকপ্লের উদ্বোধন শেষে বক্তব্যে নিজ পরিবারের সদস্যদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এতবেশি আবেগ প্রবণ হন, স্বাভাবিক হতে সময় লাগে অনেক্ষণ।

শেখ কামাল ও শেখ জামালের সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়া ও স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়ার বিষয় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ছোট ভাইটি মাত্র ১০ বছর বয়সের, তাকে যদি জিজ্ঞেস করা হতো বড় হয়ে কী হবে? একটিই কথা ছিল তার মুখে, সেও সেনাবাহিনীতে যোগদান করবে। দুর্ভাগ্য ১৫ আগস্ট তারা সবাই শাহাদাতবরণ করেন। এসব কথা বলতে বলতে অনেক বেশি আবেগ প্রবণ হয়ে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। মাঝে মাঝে চোঁখ মুছতেও দেখা যায় তাঁকে।

শেখ হাসিনা বলেন, সেনা সদস্যদের জন্য কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিয়েছি। রসদ বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতা বাড়িয়েছি। তাদের জন্য আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। প্রথমবারের মত সেনাবাহিনী প্যারা কমান্ডো ইউনিট চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৯৬ সালে মেয়েদের সেনা ও বিমানবাহিনীতে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। নারী পাইলট সংযোজন করে নতুন যুগের সূচনা করি আমরা। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য কেন্দ্র করে দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, সেনা সদস্যের জন্য ২ লাখ টাকার দুস্থ ভাতা ৬ লাখ টাকায় বর্ধিত করা হয়েছে। এলপিআরের মেয়াদ ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছর করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর জেসিও পদকে দ্বিতীয় থেকে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দেয়া হয়েছে। সার্জেন্টকে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সেনা সদস্যদের জন্য দুপুরে রুটির পরিবর্তে ভাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৯৬ সালে সরকার গঠনের পর সেনাবাহিনীর কাছে তাদের দাবি-দাওয়া সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। তারা বলেছিলেন, আমাদের দুপুরে রুটি দেয়া হয়, আমরা ভাত খেতে চাই। ওই সময় দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল। তারপরও আমি কথা দিয়েছিলাম তাদের জন্য ভাতের ব্যবস্থা করবো এবং তা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, এই পরিবারের সদস্য হিসেবে সেনাবাহিনীর উন্নয়ন করা আমার কর্তব্য। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রেও আমাদের আরো বেশি উন্নত হতে হবে, সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে সরকার।


তিনি আরো বলেন, যখনই প্রয়োজন হবে সেনাবাহিনী দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবে। এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। অতীতের মতো সরকারকে সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতেও তারা মানুষের পাশে দাঁড়াবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/এলকে