সেনাবাহিনীতে নারী নেতৃত্বের পক্ষে ভারতীয় ​সুপ্রিমকোর্ট

ঢাকা, বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ১৮ ১৪২৬,   ০৭ শা'বান ১৪৪১

Akash

সেনাবাহিনীতে নারী নেতৃত্বের পক্ষে ভারতীয় ​সুপ্রিমকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০১ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৯:৩৩ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সেনাবাহিনীতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও নেতৃত্ব দিতে পারবেন বলে রায় দিয়েছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।

সোমবার নারী নেতৃত্বের প্রসঙ্গে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এই ঐতিহাসিক রায় দেয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। এর ফলে এবার সেনাবাহিনীর নারীরাও পুরুষ সহকর্মীদের মতো নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নারী নেতৃত্বের বিষয়টি নিয়ে মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, নারীদের শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যগুলির সঙ্গে তাদের অধিকারের কোনও যোগসূত্র নেই। প্রয়োজনে মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতকে জানানো হয় যে, সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দেবেন কোনো নারী সেই মানসিকতা এখনো তৈরি হয়নি ভারতীয় সেনাদের মধ্যে। কেন্দ্রের এই যুক্তিকে বৈষম্যমূলক ও বিরক্তিকর আখ্যা দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে এবার সময় হয়েছে এই ধরণের 'চিরাচরিত ভাবনা' থেকে বেরিয়ে আসার।

সরকার পক্ষের আইনজীবী মামলার শুনানিতে বলেন, এ দেশে এখনও যুদ্ধক্ষেত্রে নারীদের নেতৃত্বের জন্যে ঠিক উপযুক্ত নয়। রণক্ষেত্রে নারীদের কম্যান্ডিং অফিসার হিসেবে মেনে নেয়ার ব্যাপারে জওয়ানরাও ততটা প্রস্তুত নন। তাছাড়া মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে শুরু করে নানা অসুবিধা রয়েছে নারীদের।

সম্প্রতি কমান্ডিং কর্মকর্তা পদের দাবি জানিয়ে আবেদন করেছেন কয়েকজন নারী। সে আবেদনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ভারত সরকার।

সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টকে বলা হয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর যে কোনো র‌্যাঙ্কেই পুরুষদের আধিপত্য বেশি। এই সব জওয়ানরা সাধারণত গ্রামীণ এলাকা থেকে আসেন। সংস্কারবদ্ধ মানসিকতার কারণে কোনো নারী কম্যান্ডিং অফিসারকে মেনে নেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া অন্য কারণও রয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি, সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের সময় অথবা কোনো দুর্গম জায়গায় পোস্টিংয়ের সময় যে শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তার দরকার, সেটা নারীদের ক্ষেত্রে খুব একটা থাকে না। তাই কমব্যাট ফোর্সে নারীদের না নেয়াটাই যুক্তিসঙ্গত।

শীর্ষ আদালতের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি অজয় রাস্তোগির বেঞ্চে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে জেরা করেন প্রবীণ আইনজীবী আর বালাসুব্রহ্মনিয়ম ও আইনজীবী নীলা গোখেল।

কেন্দ্রীয় আইনজীবীদের এই যুক্তি খারিজ করে বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি অজয় রাস্তোগি বলেন, প্রশাসনের মানসিকতার বদল দরকার। তবেই সেনাবাহিনীতে নারী-পুরুষ এই বৈষম্য দূর হবে। কম্যান্ডিং অফিসার শুধু নয়, সেনাবাহিনীর অন্যান্য পদেও নারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা থাকা উচিত নয়। কেননা নারীরা পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন।

এছাড়া আগামী তিন মাসের মধ্যেই এ রায় কার্যকরের আদেশ দেয়া হয়েছে। এ রায় অনুযায়ী, মেধা ও যোগ্যতার ওপর ভিত্তিতে করে পুরুষ সহকর্মীদের পাশপাশি সেনাবাহিনীর নারী কর্মকর্তারাও কর্নেল বা তার ওপরের পদ পেতে পারেন। একজন কর্নেল একটি ব্যাটালিয়ন পরিচালনা করেন, যেখানে প্রায় ৮৫০ সেনা থাকে। একজন নারী কর্মকর্তাও এখন থেকে এ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

সেনাবাহিনীর শর্ট সার্ভিস কমিশনে (এসএসসি) ১৪ বছরের কম সময় চাকরি করা নারীদের স্থায়ী কমিশন দেয়া হবে কি না, এ প্রসঙ্গে আদালত জানান, এসএসসিতে ১৪ বছরের বেশি সময় চাকরি করলেই শুধু নয়, সব নারী কর্মকর্তাকে স্থায়ী কমিশন দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৮ সালের আগস্টে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে বলেছিলেন, ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর নারী অফিসারদের জন্যে এবার শর্ট সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে স্থায়ী কমিশন নেয়ার বিকল্প রাখা হবে।

শর্ট সার্ভিস কমিশন অনুসারে, একজন নারী অফিসার ১০-১৪ বছর সেনাবাহিনীতে কাজ করতে পারেন। পাশাপাশি নারী অফিসারদের সেনা সার্ভিস কর্পস, অর্ডিন্যান্স, সেনা শিক্ষা ক্ষেত্র, বিচারপতি অ্যাডভোকেট জেনারেল, ইঞ্জিনিয়ার, সিগন্যাল, গোয়েন্দা ও বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রেও নিয়োগের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী