Alexa সেতুর অভাবে থমকে আছে ২৫ গ্রামের স্বপ্ন

ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৮ সফর ১৪৪১

Akash

সেতুর অভাবে থমকে আছে ২৫ গ্রামের স্বপ্ন

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৭:৩৯ ২ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৭:৩৯ ২ ডিসেম্বর ২০১৮

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

সরকার বদলায় কিন্তু বদলায়না ২৫ গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা। নেতাকর্মী, চেয়ারম্যান, মেম্বাররা প্রতিশ্রুতি দিলেও ৪৬ বছরে শোলধারার ইছামতি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ কেবল প্রতিশ্রুতিই থেকে যায়। 

মাত্র একটি সেতুর জন্য এলাকাবাসীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বার মাস কাঠের সাঁকো দিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। ইছামতি নদীর ওপর সেতু নির্মাণের এই দাবি দীর্ঘদিনের। এই নদীর ওপর সেতু না থাকায় বর্ষার সময় প্রতিনিয়ত ২৫ গ্রামের লোকজনসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা কিংবা বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়।

বানিয়াজুরি ইউনিয়নের শোলধারা, কেল্লাই, কাকজোর, বানিয়াজুরি, জোকা, নয়াচর, তারাইল, গাংডুবি এবং শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের বুতুনি, বেজপাড়া, ধোলাকান্দা, কাছিধারা, ছোটবুতুনি, ইসারাবাজ, কোঠাধারা, বিলবৈড়ল, বিবিরাস্তি, শিমুলিয়া, খাইলসা, ফেচুয়াধারা, দোচুয়া, গালা, ডাকিজোড়া, পাড়াগ্রাম, ইন্তাজগঞ্জ সহ ২৫ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার লোকের সহজ পারাপারের একমাত্র অবলম্বন এই সেতু। 

ভোটের সময় এলাকায় এসে অনেকেই বলেছিলেন পাশ করলে এটা তৈরি করে দেবেন। নির্বাচন কত হল, কত সরকার গেল কিন্তু এখনো সেতু হল না।

সাকোঁ দিয়ে পারাপারের সময় এ পর্যন্ত প্রায় ২০ জন শিশু, বৃদ্ধ সেতু ভেঙ্গে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে। মোটরসাইকেল চালিয়ে পারাপারের সময় নিচে পড়েও আহত হন বেশ কয়েকজন। এরপরও টনক নড়েনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কারো।

স্থানীয়রা বলেন, ছবি তুইল্লা আর কি অইবো? জন্মের পর থেইকা দেখছি মাপামাপি চলছে। কিন্তু আজো তা অফিস পর্যন্ত যায় নাই। যতই ছবি তুলে ব্রিজ আর হইবো না। আমাগোমত গরিব মানুষের ডাক সরকারের কানে যায় না।

কেল্লাই মনসুর উদ্দিন বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইস্কান্দার মীর্জা  বলেন, এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়সহ ওই পারের প্রায় আড়াইশ’ শিক্ষার্থী সেতু পার হয়ে স্কুলে আসে। অনেক শিক্ষার্থী বইখাতা নিয়ে নিচে পড়ে আহত হয়েছে। কিন্তু সেতু হলো না।

বানিয়াজুরি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, এই এলাকায় কৃষি পণ্য আনা নেয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ওই এলাকার কৃষকরা পণ্য নিয়ে বানিয়াজুরি বাস স্ট্যান্ড আসতে যেখানে ২০ টাকা লাগার কথা সেখানে ১৫-২০ কিঃ মিঃ ঘুরে শতাধিক টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ-১ আসনের এমপি এএম নাঈমুর রহমান দূর্জয় বলেন, সেতুটি নির্মাণের জন্য এরইমধ্যে একটি জরিপ হয়েছে। কিন্তু  এতো বড় সেতু না করে পাশ দিয়ে রাস্তা করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/ জেএস