সেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

ঢাকা, রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২২ ১৪২৬,   ১১ শা'বান ১৪৪১

Akash

সেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৩ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষকের বেতন বন্ধ করার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। 

আগামী ৪ মার্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে বলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদুল হক প্রধান ডেইলি বাংলাদেশকে জানান। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযোগকারীদের উপস্থিত থাকতে চিঠি পাঠান তিনি।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার কমলাবাড়ি ইউপির কুমড়ীরহাট এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজল দাবি  করা ঘুষের ৮ লাখ টাকা না পেয়ে ক্ষমতার অপব্যাবহার করে সহকারী শিক্ষক (গণিত) মনোয়ারুল ইসলামের বেতন বন্ধ করেন। 

কোনো ধরনের নোটিস ছাড়াই বেতন বন্ধ করায় বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম। 

এ নিয়ে গত ১৭ জানুয়ারি ডেইলি বাংলাদেশে ‘প্রধান শিক্ষককে ঘুষ না দেয়ায় বেতন বন্ধ!’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। যার ফলে নড়াচাড়া দিয়ে উঠে শিক্ষা বিভাগ। একই সঙ্গে দুর্নীতির তদন্তে মাঠে নেমে পড়েন সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। 

ঊর্দ্ধতন মহলে নড়াচাড়া দেয়ায় বিদ্যালয়টির অভিভাবক ও স্থানীয়রা প্রধান শিক্ষকের সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দফতরে গণপিটিশন দাখিল করে বিচার দাবি করেন।

এ দিকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজল তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত নিউজের প্রতিবাদ করেন। 

একই সঙ্গে বেতন বন্ধের প্রতিবাদে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দায়ের করা শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলামকে সপরিবারে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছেন বলে ওই শিক্ষক দাবি করেন। 

নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সহকারী শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২৫ জানুয়ারি আদিতমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। 

বৃদ্ধ বাবা মাসহ পরিবারের সদস্যদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পথ শিক্ষকতা পেশার বন্ধ করা বেতন সচল করতে ও প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের বিচার দাবিতে ডিসিসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সহকারী শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম। 

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম গুরুসহকারে সংবাদ প্রকাশ করেন। ফলে ডিসির কাছে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে তদন্ত করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদুল হক প্রধান উভয় পক্ষকে উপস্থিত থাকতে পত্র পাঠান। 

আগামী ৪ মার্চ সকাল ১১ টায় বিদ্যালয়ে এ তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে। 

এমপিও সিটের অপর সহকারী শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ আলী বিদ্যালয়ে যোগদান না করেও তাকে প্রতি মাসে ২৪ দিন উপস্থিত দেখিয়ে ভুয়া বেতন ভাতা দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজল। 

তবে উক্ত শিক্ষক ওয়াহেদ আলী কালীগঞ্জ উপজেলায় আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের মাঠ সহায়ক পদে নিয়মিত কর্মরত থেকে বেতন ভাতা তোলছেন। 

সেক্ষেত্রে একই ব্যক্তির বিপরীতে দুই পদে নিয়মিত বেতন ভাতা তোলার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে কৌশলী প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষক পদ থেকে ওয়াহেদ আলীকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। 

তৎকালিন সময় ওয়াহেদ আলী দাবি করেন, বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া তো দূরের কথা। তিনি কখনই ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে যোগদানই করেননি। 

এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি ছাড়াও ভোটহীন মনগড়া কমিটি গঠন ও বিদ্যালয়ের সম্পদ লুণ্ঠনের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দফতরে গণপিটিশন দায়ের করেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে