.ঢাকা, বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১০ ১৪২৬,   ১৮ শা'বান ১৪৪০

সেই নাইন-ইলেভেন আজ

 প্রকাশিত: ১২:০৯ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১২:০৯ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঐতিহাসিক নাইন-ইলেভেন আজ। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। তার ১৭তম বার্ষিকী আজ।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যস্ত শহরগুলোর একটি নিউইয়র্ক। এখানেই অবস্থিত ছিল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। মুহুর্তেই দুইটি ভবনে ছিনতাই হওয়া দুটি বিমান নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় আল কায়েদার জঙ্গিরা। ওই সময় ধ্বংস হয় পাশের আরেকটি ছোট ভবনও। কিছুক্ষণের মধ্যেই গোটা এলাকা অন্ধকার আর আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠে। বহু মানুষ চাপা পড়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে। উদ্ধার তৎপরতা চালাতে গিয়েও অনেকে প্রাণ হারান।

এছাড়াও সেদিন মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদফতর পেন্টাগনেও হামলা চালানো হয়েছিল।  তবে অন্য আরেকটি বিমান নিয়ে ওয়াশিংটনে হামলার চেষ্টা চালানো হলেও সফল হতে পারেনি ছিনতাইকারীরা। বিমানটির যাত্রীদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে ওই হামলা ব্যর্থ হলেও নিজেদের শেষ রক্ষা করতে পারেননি যাত্রীরা। তাদের নিয়েই বিমানটি বিধ্বস্ত হয় পেনসিলভেনিয়ার একটি মাঠে। এ পুরো ঘটনায় স্তম্ভিত হয় গোটা বিশ্ব।

ওই দিন আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৬৭ মডেলের একটি বিমান সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে আঘাত হানে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ১১০ তলাবিশিষ্ট নর্থ বিল্ডিংয়ের ৮০তম তলায়। এটিতে ২০ হাজার গ্যালন জেট ফুয়েল থাকায় খুব দ্রুতই ভবনে আগুন ধরে যায়। নর্থ বিল্ডিংয়ে আঘাতের মাত্র ১৮ মিনিটের মাথায় আত্মঘাতী জঙ্গিদের ছিনতাই করা আরেকটি বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সাউথ বিল্ডিংয়ের ৬০তম তলায় আঘাত হানে। এটিও ছিল ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের দূরপাল্লার বোয়িং ৭৬৭ বিমান। সকাল ১০টার দিকে সাউথ বিল্ডিং এবং সাড়ে ১০টার দিকে নর্থ বিল্ডিং পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। পুড়তে থাকা জেট ফুয়েলের প্রচণ্ড তাপে গলে গিয়েছিল ভবন দুটির ইস্পাতের কাঠামো। ফলে একটির ওপর একটি তলা ধসে পড়ে পুরো ভবনকেই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়।

টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার আগ পর্যন্ত মাত্র ছয় জন ব্যক্তি নিরাপদে সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছিলেন। প্রায় ১০ হাজার মানুষ আহত হয়েছিলেন ওই ঘটনায়, যাদের অনেকের আঘাতই মারাত্মক ধরণের। টুইন টাওয়ার হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট দুই হাজার ৭৬৩ জন। এদের মধ্যে উদ্ধার তৎপরতায় গিয়ে প্রাণ হারানো ৩৪৩ ফায়ার ব্রিগেড ও চিকিৎসা কর্মী, নিউইয়র্ক পুলিশের ২৩ জন এবং পোর্ট অথরিটি পুলিশের ২৩ জন সদস্য রয়েছেন।

এ হামলার ঘটনার পরপরই নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমে আসে সাঁজোয়া যান।  তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন স্থানে সারাদিন লুকিয়ে রাখা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এই হামলাকে ‘আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং ধৃষ্টতাপূর্ণ হামলা’ আখ্যা দেয়।

মার্কিন আইন ৯/১১ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে একদিকে যেমন কঠোরতর হয়, পাশাপাশি ঢেলে সাজানো হয় দেশটির আমলাতন্ত্র।  গঠন করা হয় নতুন বাহিনী, নতুন মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের আহবানে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ একট্টা হয় পশ্চিমা শক্তিগুলো। আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে তারা ক্ষমতাচ্যুত করে তালেবান জঙ্গিদের। আফগান যুদ্ধ শুরুর পর ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে হামলা হয় ইরাকেও। 

এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে তার ভূখণ্ডে প্রথম শত্রু হামলা হিসেবে বিবেচনা করে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী শুরু হয় ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’।

যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ওই হামলায় সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদাকে অভিযুক্ত করে সংগঠনটিকে ধ্বংস করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের টানা ও সংঘবদ্ধ হামলায় আল-কায়েদার শক্তিমত্তা বহুলাংশে ধ্বংস হয়ে যায়। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন ২০১১ সালের মে মাসে পাকিস্তানে মার্কিন বিশেষ কমান্ডো বাহিনীর হামলায় নিহত হন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/টিআরএইচ