সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত

ঢাকা, বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ১৮ ১৪২৬,   ০৭ শা'বান ১৪৪১

Akash

সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত

সাদিকা আক্তার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৯ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

সূরা: বাকারা, আয়াত: ২৮৫-২৮৬-ছবি: সংগৃহীত

সূরা: বাকারা, আয়াত: ২৮৫-২৮৬-ছবি: সংগৃহীত

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মানুষের কল্যাণের জন্য কোরআন নাজিল করেছেন। এর মধ্যে আবার বিশেষ বিশেষ আয়াতের প্রতি গভীর বিশ্বাস ও আমলের জন্য নির্ধারণ করেছেন। যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী। 

সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াতও বিশেষ ফজিলতের অন্তর্গত। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক আয়াত দু’টি এবং তার ফজিলত সম্পর্কে-

آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللّهِ وَمَلآئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لاَ نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ وَقَالُواْ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ

আরবি উচ্চারণ : আ-মানার রাসূলু বিমাউংযিলা ইলাইহি মির রাব্বিহি ওয়াল মু’মিনুনা। কুল্লুন আ-মানা বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুসূলিহী। লা- নুফাররিকুবাইনা আহাদিম মির রুসূলিহী। ওয়া ক্বা-লু- সামিনা ওয়া আত্বানা গুফরা-নাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসীর।

অর্থ : ‘রাসূল বিশ্বাস রাখেন ওই সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোনো তারতম্য করি না। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা! তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। (সূরা: বাকারা, আয়াত: ২৮৫)।

لاَ يُكَلِّفُ اللّهُ نَفْسًا إِلاَّ وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لاَ تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلاَ تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلاَ تُحَمِّلْنَا مَا لاَ طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنتَ مَوْلاَنَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

আরবি উচ্চারণ : লা- ইউকাল্লিফুল্লা-হু নাফসান ইল্লা- উস’আহা- লাহা- মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা- মাকতাসাবাত, রাব্বানা- লা- তুআখিজনা ইন্নাসিনা- আও আখত্বনা, রাব্বানা ওয়ালা- তাহমিল আলাইনা- ইছরান কামা- হামালতাহু- আলাল্লাজিনা মিং কাবলিনা-, রাব্বানা- ওয়ালা তুহাম্মিলনা- মা- লা- তা-কাতা লানা- বিহি, ওয়া’ফু আন্না ওয়াগফিরলানা- ওয়ারহামনা-, আংতা মাওলা-না- ফাংসুরনা- আলাল ক্বাওমিল কা-ফিরীন। 

অর্থ : ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার ওপর বর্তায় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের ওপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ওই বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্যে কর। (সূরা: বাকারা, আয়াত: ২৮৬)।

ফজিলত

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি রাতে এ দু’টি আয়াত পাঠ করবে তার জন্য এটাই যথেষ্ট। এর ব্যাখ্যায় কেউ বলেন, এর অর্থ রাতের নামাজ, কেউ বলেন শয়তান থেকে মুক্তি, কেউ বলেন বিপদ থেকে মুক্তি, কেউ বলেন, মানুষ ও জ্বীনের অনিষ্ট থেকে মুক্তি।

নবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা সাত আসমান ও জমিন সৃষ্টি করার এক হাজার বছর আগে কোরআন লিখেছেন এবং তার মাঝে দু’টি আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। যে ঘরে এ দু’টি আয়াত পাঠ করা হয় না সে ঘরে শয়তান অবস্থান করে।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে সকাল-সন্ধ্যা এ আয়াতের তেলাওয়াতের মাধ্যমে দুনিয়ার প্রকৃত ঈমান লাভ এবং আখিরাতের সব কল্যাণ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে