.ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৮ ১৪২৫,   ১৫ রজব ১৪৪০

সূরা কুরাইশ

শেখ রাহবার মাইনউদ্দিন

 প্রকাশিত: ১৯:৪৩ ১ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৯:৪৩ ১ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সূরা কুরাইশ পবিত্র কোরআন শরীফের ১০৬ তম সূরা। এই সূরার আয়াত সংখ্যা ৪, রুকু আছে ১টি। 

সূরা কুরাইশ পবিত্র মক্কায় অবতীর্ণ হয়। সূরা কুরাইশের নামের অর্থ, কুরাইশগণ।এই সূরা পবিত্র কোরআন শরীফের ৩০ নম্বর পারায় আছে।

সূরা কুরাইশের পূর্ববর্তী সূরা হচ্ছে সূরা আল ফীল, আর পরবর্তী সূরা হচ্ছে সূরা আল মাউন। সূরা কুরাইশ অর্থ এবং বিষয়ের দিক হতে তার পূর্ববর্তী সূরা আল ফীলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই কনো কোনো মাসহাফে এই দুই সূরা একসঙ্গে লেখা আছে।

তবে জামিউল কোরআন হজরত ওসমান (রা.) তার খেলাফতকালীন সময়ে মুসলিম উম্মাহার ঐক্য ও সংহতি অটুট রাখার জন্যে কোরআনের সব মাসহাফ একত্রিত করে সাহাবায়ে-কেরামের ইজমার ওপর আল কোরআনকে নতুন কপিতে সংযোজিত করান। সেই কপিতে পবিত্র এই দুই সূরা দুটি আলাদা সূরা ও বিসমিল্লাহ সহ সন্নিবিষ্ট আছে।

কুরাইশদের প্রতি আল্লাহ তায়ালার নিয়ামত সীমাহীন। তা ছাড়া ও তারা যে শীত ও গ্রীষ্মকালীন সময়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সফর করতো সে বিষয়টি আল্লাহ তায়ালা এই সূরায় তুলে ধরেছেন এবং আল্লাহ তায়ালার তাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ প্রকাশ করার কথা বলেছেন। সে সময় আরব কুরাইশগণ শীতকালে ইয়েমেন ও গ্রীষ্মকালে সিরিয়া, ফিলিস্তিনে সফর করে ব্যবসা করে লাভ করতো। আর তাদের মরুভূমিতে ক্ষুধায় খাদ্য ও জলের কোনো অভাব হয়নি।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মক্কাবাসীরা খুব দারিদ্র ও কষ্টে দিনাতিপাত করত। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের  প্রপিতামহ হাশেম কোরাইশকে বিদেশে যেয়ে ব্যবসা করার জন্যে উৎসাহিত করেন।

মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ তায়ালা কুরাইশদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্যে এ সূরায় আদেশ করেছেন।

সূরা কুরাইশের আরবি, উচ্চারণ এবং অনুবাদ:

 بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম)
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

  لِإِيلَافِ قُرَيْشٍ
(লি-ঈলাফি কুরাইশিন)
যেহেতু কুরাইশরা অভ্যস্ত হয়েছে ,

إِيلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ
(ঈলাফিহিম রিহ্ লাতাশ শীতায়ি ওয়াছ ছাইফ।) 
 অর্থাৎ শীতের ও গ্রীষ্মের সফরে অভ্যস্ত৷

فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَٰذَا الْبَيْتِ
(ফালইয়া’বুদূ রাব্বা হাযাল বাইত) 
কাজেই তাদের এই ঘরের রবের ইবাদাত করা উচিত

الَّذِي أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍ وَآمَنَهُم مِّنْ خَوْفٍ
(আল্লাযী আত্য়ামাহুম মিন্ জু-ইওঁ ওয়া অমানাহুম মিন খাউফ)
যিনি তাদেরকে ক্ষুধা থেকে রেহাই দিয়ে খাবার দিয়েছেন  এবং ভীতি থেকে নিরাপত্তা দান করেছেন।

মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ তায়ালা আমাদের পবিত্র কোরআন ও হাদিস বুঝে আমল করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে