সুস্থ চলচ্চিত্রের পথিকৃৎ মুহম্মদ খসরু মারা গেছেন

ঢাকা, বুধবার   ২৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১৪ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

সুস্থ চলচ্চিত্রের পথিকৃৎ মুহম্মদ খসরু মারা গেছেন

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১৬ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৪:৪১ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সুস্থ চলচ্চিত্র আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ মুহম্মদ খসরু মারা গেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মুত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিলো ৭৩ বছর। 

তার মৃত্যুর খবরটি ডেইলি বাংলাদেশ-কে নিশ্চিত করেছেন ডিরেক্টর গিল্ডের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামরুজ্জামান সাগর। 

মৃত্যুর আগে মুহম্মদ খসরু দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস, অ্যাজমার সমস্যায় ভুগছিলেন। গেল মাসে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক (বারডেম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মারা যান তিনি। 

বাংলাদেশের সুস্থ চলচ্চিত্র আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ মুহম্মদ খসরু ভারতের হুগলী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার বাড়ী কেরানীগঞ্জের রুহিতপুরের মোহনপুর গ্রামে। তার বাবা হুগলী জুট মিলের কর্মকর্তা ছিলেন, সেই সুত্রে তারা থাকতেন হুগলীতে। কিন্তু সেখানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার অতিবাস্তবতার কারণে ৫০’র দশ‌কে তার পরিবার ঢাকায় চলে আসেন, সেই থেকে তিনি ঢাকায় বসবাস করছেন। দীর্ঘ সময় চলচ্চিত্র আন্দেলনের সঙ্গে জড়িত থাকার কারনে মুহম্মদ খসরু বাংলাদেশে চলচ্চিত্র আন্দেলনের পুরোধা ব্যক্তি হিসাবে সুপরিচিত ।

চলচ্চিত্র আন্দেলনের এই পুরোধা ব্যক্তি প্রা‌তিষ্ঠা‌নিক বিদ্যার বাই‌রে তিনি নি‌জেকে গ‌ড়ে তুলে‌ছেন নিজের ইচ্ছামত। কখনো লেখক হিসাবে, কখনো সম্পাদক হিসাবে, কখনো একজন দক্ষ সংগঠক হিসাবে। জীবনের বেশীরভাগ সময় ঢাকাতে কাটালেও শক্ত ও নিভৃতচারী স্বভাবের এই মানুষটি থাকতেন তার পৈত্রিকনিবাস কেরানীগঞ্জের রুহিতপুরের মোহনপুর গ্রামে।

মুহম্মদ খসরু চলচ্চিত্র বিষয়ক কালজয়ী পত্রিকা ধ্রুপদীর সম্পাদক হিসেবে চলচ্চিত্র মহলে সবচেয়ে বেশী পরিচিত। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের এই পথিকৃত গত প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। বর্তমান সময়ে তার সম্পাদিত চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকাগুলোই এখন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস হিসাবে স্বীকৃত। তার উদ্যোগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফিল্ম স্টাডি সেন্টার। 

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রসঙ্গ আসলে দেখা যায়, কেরালার চিত্রলেখা এবং ওডেসা ফিল্ম কো-অপারেটিভের অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে যে ফিল্ম কো-অপারেটিভ গঠিত হয়েছিলো, যার মাধ্যমে এই দেশে সর্বপ্রথম স্বল্পদৈঘ্য ছবি নির্মাণ শুরু হয়, সেখানেও মুহম্মদ খসরুর অবদান অনবদ্য। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদের আন্দোলনের ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ এবং জাতীয় ফিল্ম আর্কাইভ যার তাত্বিক নেতাও তিনি। মুহম্মদ খসরু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইন্সটিটিউটের প্রশিক্ষক হিসাবেও কাজ করেছেন।

মুহম্মদ খসরু সম্পর্কে কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান ফিল্মফ্রিতে লিখেন, মুহম্মদ খসরুকে যারা ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, তারা জানেন যে, মানুষ হিসেবে তিনি ক্ষেপাটে, রাগী, মুখে তার অবিরাম খিস্তি। তার সব রাগ, ক্ষোভ ঐ চলচ্চিত্রকে ঘিরেই, এই মানুষ বেঁচে আছেন সংসার করবার জন্য নয়, সম্পদ অর্জনের জন্য নয়, খ্যাতি কুড়াবার জন্য নয়, শুধুমাত্র একটি শিল্পমাধ্যমকে ভালোবাসবার এবং সে ভালোবাসা অন্যের মধ্যে বিলিয়ে দেবার জন্য।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ/টিএএস