ঢাকা, শনিবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ১০ ১৪২৫,   ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০

সুন্দরবনে হারিয়ে যাচ্ছে ‘সুন্দরী’রা

নিয়াজ মাহমুদ ডেইলি-বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ১১:০৯ ১০ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ০০:১৮ ১১ জুলাই ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সুন্দরী গাছ, সুন্দরবনে প্রাপ্ত অতি দুর্লভ ম্যানগ্রোভ প্রজাতিগুলোর মধ্যে একটি, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে আস্তে আস্তে নিঃশেষ এর পথে, মৃত্যু ঝুঁকি পূর্ণ প্রধান প্রধান রোগগুলিই বর্তমানে এই দুর্লভ প্রজাতির বিলুপ্তির অন্যতম প্রধান কারণ। আর এ কারণেই আশির দশক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পনেরো শতাংশ সুন্দরী গাছ ইতোমধ্যেই বিলীন হয়ে গেছে। 

আচ্ছা দুর্লভ কেন বলা হচ্ছে!! সুন্দরবনে তো সুন্দরী গাছ সহজেই মেলে। প্রতিটি পরতে পরতে যেন সুন্দরী গাছ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এই গাছ ই নিকট ভবিষ্যতে হারিয়ে যাওয়া প্রজাতিতে নাম লেখাবে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

“গত ত্রিশ বছরে, প্রায় ২০০০ কোটি টাকা সমমূল্যের ১.৪৪ মিলিয়ন কিউবিক মিটার সুন্দরী গাছ, মৃত্যু ঝুঁকিপূর্ণ প্রধান রোগসমূহের আক্রমণ এর ফলে মহাকালের অতল গহ্বরে বিলীন হয়ে গেছে” বলছেন বিশ্লেষকেরা।

জলবায়ুর আচমকা ঘন ঘন পরিবর্তনের জন্য সুন্দরবনের পানি এবং মাটিতে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততাও সুন্দরী, পশুর এবং কেওড়া র মতো প্রজাতিগুলোর অতিদ্রুত হারিয়ে যাবার একটি বিশেষ কারণ।

সুন্দরীর জায়গায় এখন বেড়ে উঠছে গেওয়া এবং গরান। আর ইতোমধ্যেই প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ নতুন জায়গায় নতুন করে প্রকৃতির মায়ায় বেড়ে উঠছে গেওয়া এবং গরান।

৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার জায়গার প্রায় ৪,১৪৩ বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়েই এখন রাজত্ব করছে প্রায় ৩৩৪ প্রজাতির গাছ এবং উদ্ভিদসমূহ।

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যানগ্রোভ বন এমন একটি বিশেষ বৈচিত্র্যমন্ডিত প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠে যেখানে লবণাক্ত পানি এবং মিঠা পানির একটি সুষ্ঠু সমন্বয় বিরাজ করে। আর এই মিঠা আর লবণাক্ত তথা স্বাদু পানির সমন্বয়ে বা পরিমাণে গড়মিল দেখা যায়, তবে ধরেই নেয়া যায় যে, এতে ম্যানগ্রোভ বনের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হবে। আর লবণাক্ত পানির পরিমাণের আধিক্য সুন্দরী গাছের জন্য হুমকি স্বরূপ, যা সুন্দরবনে বর্তমানে অবলোকন করা যাচ্ছে।

সুন্দরীর জন্য মৃত্যু ঝুঁকি সম্পন্ন প্রধান রোগসমূহের আক্রমণ, হার্ট রট বা হৃৎপিণ্ড বেসামাল রোগে পশুর, আর কেওরার ডাই ব্যাক রোগ অতি দ্রুত এই প্রজাতিগুলোর বিলুপ্তির পেছনে দায়ী।

সুন্দরবনের কম্পারট্মেন্ট নাম্বার ৬,১৪, ১৯, ২০,২১,২৫, ২৬,২৭, ২৮, ৩২, ৩৩,৩৬,৩৮ এবং ৩৯ এর গাছগুলো “টপ ডাইং“ এবং “হার্ট রট” রোগের আক্রমণের শিকার।

নিবন্ধিত পানি বা জল এর প্রভাব বিশ্লেষক আইনুন নিশাত বলছেন যে, ফারাক্কা বাধের প্রতিকূল প্রভাব এবং মিঠা পানির অভাবের কারণেই সুন্দরী গাছগুলো দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আর বর্তমানে প্রায় ৮৫.৬৭ কোটি সুন্দরী গাছ বিলোপের পথে দিন গুনছে।

বাশিরুল আল মামুন, সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগীয় ফরেস্ট অফিসার , বলছেন যে, তারা পানিতে ৩০ পি পি এম লবণাক্ততার উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন, যা গাছগুলোর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

ড. স্বপন সরকার, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তার একটি গবেষণা কর্মে উল্লেখ করেছেন যে, সুন্দরবনের বৈচিত্র্য তো সেই বহুকাল থেকেই তবে হঠাৎ ১৯৮৬ এর আচমকা যে পরিবর্তন শুরু হয়েছিল তা এখনো বিদ্যমান। তবে ২০১৪ সাল থেকে এখন আপাতত এক্টূ উন্নতিও চোখে পড়ছে ধীরে ধীরে। আর এ কারণেই হয়তো সুন্দরী, পশুর, সিংড়া, আমুর, ধুন্ধল আর কাকড়া গাছগুলো আজ বিলুপ্ত হয়ে যাবার ঝুকিতে আছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ