Alexa সুনীল সাগরের শ্যামল কিনারে

ঢাকা, বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৩ ১৪২৬,   ১৮ মুহররম ১৪৪১

Akash

সুনীল সাগরের শ্যামল কিনারে

অমিত গোস্বামী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০১ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

(আজ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ৮৫ তম জন্মদিন। সেই উপলক্ষ্যে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ এই নিবন্ধে। এখানে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ সযত্নে বাদ দিয়ে কবি ও সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে উপস্থাপনা করার চেষ্টা করা হয়েছে।)

সুনীল শব্দটা শুনলেই আমাদের মনের ভেতর যে তিনটি শব্দবন্ধ ভেসে ওঠে তা হলো– সুনীল আকাশ, সুনীল সাগর ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। ব্যাপ্তিতে, গভীরতায়, চেহারায়, কর্মকাণ্ডে, উদারতায় এই তিন শব্দবন্ধ সমার্থক।  

বাংলা ভাষার প্রতিটি অক্ষরের ওপর যার নিয়ন্ত্রণ-দক্ষতা ছিল প্রশ্নাতীত তিনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে তার হাতের ছোঁয়ায় সোনা ফলেনি। তবে কবিতাই ছিল তার প্রথম প্রেম। গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, সন্দর্ভ, নিবন্ধ—প্রতিটির ওপরই তিনি ছিলেন অখণ্ড কর্তৃত্বের অধিকারী।

দেখো, দেখো, দেশ পত্রিকায় কবিতা বেরিয়েছে একজনের। তার নামও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। ১৯৫২ সালে যে কিশোরী কথাগুলো বলেছিল, তার সামনে দাঁড়ানো সতেরো বছরের ছেলেটিই সুনীল। ১৯৫২ সালের ২৯ মার্চ সংখ্যার দেশ পত্রিকা। সেখানেই প্রথম প্রকাশিত হয় সুনীলের কবিতা। কবিতার নাম ‘একটি চিঠি’। এই লেখাটি ছিল পাড়ার এক কিশোরীর মন পাওয়ার আশায় রচিত। কারণ সুনীল জানতেন, সেই কিশোরীর বাসায় অন্যান্য পত্রিকার সঙ্গে রাখা হতো দেশ পত্রিকাটি। তাই তার মন পাওয়ার জন্য অথবা নিজের অব্যক্ত কথা ব্যক্ত করার জন্য বের করলেন অভিনব এক বুদ্ধি। নিজেকে কবি হিসেবে কিশোরীর কাছে পৌঁছানোর অন্য কোনো উপায় না পেয়ে এ রকম পথ বেছে নেন তিনি। তারপর? আমাদের স্বাভাবিক বাঙালি কৌতুহল। নাহ, আর এগোয় নি। কারন হিসেবে বীথিদি অর্থাৎ কবি বীথি চট্টোপাধ্যায় বলেছেন,  তুচ্ছ কারণে প্রেমিকাদের প্রতি বিরক্ত বোধ করতেন সুনীল। লিখেও ফেলতেন— ‘ভালবাসা চলে যায় এক মাস সতেরো দিন পর।’

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পর্কে জনমানসে এক মিশ্র ধারনা আছে। একাধারে তিনি কবি ও গদ্যকার, প্রেমিক ও সংযত সংসারী, পাক্কা বোহেমীয় ও কেরিয়ারিস্ট, সাহিত্যের রাজনীতিক ও উদার পরোপকারী, প্রতিষ্ঠান বিরোধী ও বিশেষ প্রতিষ্ঠানের ধামাধরা, ভালো মানুষ ও পাক্কা সেয়ানা। বিখ্যাত ও অতি জনপ্রিয় মানুষদের এই এক বিড়ম্বনা। মানুষ তাদের সম্পর্কে চরম দুই প্রান্তিক ধারনা করে থাকেন। কাঠবাঙাল সুনীল ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ফরিদপুরের মাইজপাড়া গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মালেও চার বছর বাদে কলকাতা চলে আসেন এবং তার কর্মকাণ্ড কলকাতাতেই। সরাসরি রাজনীতি না করেও জীবনের উপান্তে এই কলকাতার শেরিফ হন।  ‘দেশ’ পত্রিকায় তার মৃত্যুর পর স্মরণ সংখ্যায় ‘একা এবং কয়েকজন’ শিরোনামের সম্পাদকীয় লেখা থেকে জানতে পারি– “কবির মৃত্যুতে রোরুদ্যমান এই শহর। কারণ, তিনি সেই কবি, যার চিন্তাচেতনা জুড়ে ছিল সর্বজনীনতার ভাব। আশির দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে এরাজ্যের বামপন্থী নেতৃবর্গ মার্কিনপন্থী এক ভোগবাদী সাহিত্যিক বলেই জ্ঞান করতেন। কবিতার অনুবাদ সংক্রান্ত স্কলারশিপ নিয়ে মার্কিন মুলুকে যাওয়াই হোক অথবা মার্কিন কবি-সাহিত্যিকদের সঙ্গে সখ্য বঙ্গজ বামপন্থীদের চোখে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তখন  সিআইএ-র একজন দালাল বই কিছু নন! বস্তুত, তিনি যখন স্বীয় প্রতিভায় মানুষকে কাছে টানতে পেরেছেন, তখন তার সেই জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক কৌশলে কাজে লাগাতে চেয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের প্রতিভূরা।“ সে যাই হোক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক মতবাদ ছিল মানবতা। কোনো ইজমের ধার তিনি ধারতেন না। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের ধারনা তিনি বামপন্থার সমর্থক ছিলেন।  

সুনীল কি সত্যি কবি হতে চেয়েছিলেন? সুনীলকে বই পড়ার নেশাটি ধরিয়েছিলেন মা, মীরা দেবী। কবিতা লেখার ক্ষেত্রে কিন্তু অনুঘটকের ভূমিকাটা বাবারই ছিল। সুনীল তখন টাউন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক দিয়েছেন। ছুটির ক’মাসে ছেলে যাতে বখে না যায়, বাবা হুকুম দিলেন সময়টা ইংরেজি চর্চার কাজে লাগাতে হবে। টেনিসনের কবিতা অনুবাদ করে দেখাতে হবে। কিছু দিন চলল। সুনীল লক্ষ করলেন, ইদানীং বাবা আর অনুবাদ আক্ষরিক কি না, মিলিয়ে দেখছেন না। সুতরাং নিজের ঈশ্বরীকে উদ্দেশ করে নিজেই লিখতে শুরু করলেন কিছু লাইন আর সেগুলোই দেখতে দিলেন বাবাকে। এভাবেই কবিতায় হাত মকসো করা শুরু। সুনীল পরে লিখেছেন, “আমার সৌভাগ্য এই, আমার প্রথম বয়েস থেকেই আমি কোনো সাহিত্যিক গোষ্ঠীর পাল্লায় পড়িনি। আমি পূর্ববঙ্গের গণ্ডগ্রাম থেকে আগত কিশোর, কলকাতার ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছিলাম। কোনো লেখককে চোখে দেখিনি, কোনো সম্পাদককে চিনতাম না...।” ডাকযোগে লেখা পাঠানো ছাড়া অন্য উপায় তার জানা ছিল না। এভাবেই কবিতা লেখার সূত্রপাত।

১৯৫৩ সাল। সিটি কলেজে অর্থনীতির ছাত্র সুনীলের বন্ধু তখন দীপক মজুমদার। কফি হাউস, দেশবন্ধু পার্কে আড্ডা জমে উঠছে। কমলকুমার মজুমদারের নেতৃত্বে হরবোলা ক্লাবে নাট্যচর্চাও চলছে। তারই মধ্যে সিগনেট প্রেস তথা দিলীপকুমার গুপ্তের সঙ্গে যোগাযোগ। ডি কে-র পরামর্শ এবং সহায়তা নিয়েই ‘কৃত্তিবাসে’র পথ চলা শুরু (শ্রাবণ, ১৩৬০)। কলকাতার রাজনৈতিক আবহ তখন উত্তাল। প্রথম সম্পাদকীয়তে সুনীল লিখলেন, ‘‘বিভিন্ন তরুণদের বিক্ষিপ্ত কাব্য-প্রচেষ্টাকে সংহত করলে বাংলা কবিতায় প্রাণছন্দের উত্তাপ নতুন আবেগে এবং বলিষ্ঠতায় লাগতে পারে এবং সকলের মধ্যে প্রত্যেকের কণ্ঠস্বরকেই আলাদা করে চেনা যেতে পারে।” এই কৃত্তিবাসে সুনীল মূলত কবিতা লিখতেন। সুনীলকে কলকাতা চিনত কবি ও সম্পাদক হিসেবে। ১৯৬৬ সাল। সুনীল তখন কাঠবেকার। তবে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, সাগরময় ঘোষ সকলের বেশ প্রিয়পাত্র। সে কারনে তাকে অর্থনৈতিক সাহায্যের জন্যে আনন্দবাজার ও দেশ পত্রিকায় তিনি চার নামে প্রভূত গদ্য পদ্য নিবন্ধ সবই লিখছেন। দেশ পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষ তাকে বললেন দেশ পূজা সংখ্যায় সুনীলকে উপন্যাস লিখতে হবে। তখন দেশ পত্রিকায় পুজো সংখ্যায় একটি উপন্যাস প্রকাশ করত। পাঠক সেই উপন্যাস গ্রহণ না করলে লেখকের কেরিয়ারের বারোটা বেজে যেত। সুনীল গাঁইগুঁই করলেও পরে রাজি হলেন। সেই সময়ের ধারার বাইরে গিয়ে শুরু সে উপন্যাসের। নাম ‘আত্মপ্রকাশ’। পাঠক মহলে তার জাত চেনাল এই উপন্যাস। তার পর একে একে ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, ‘অর্জুন’, ‘জীবন যে রকম’, ‘যুবক-যুবতীরা’...। সন্তু-কাকাবাবু সিরিজ শুরু হয়ে গিয়েছে একাত্তরে, ‘ভয়ংকর সুন্দর’। আশির দশকে হাত দিলেন বৃহৎ উপন্যাসে। জন্ম নিল ‘সেই সময়’। ক্রমান্বয়ে আসবে ‘পূর্ব-পশ্চিম’, ‘প্রথম আলো’...।

কী পদ্য, কী গদ্য ঝরঝরে সুখপাঠ্য ভাষা, ঘরোয়া কথনভঙ্গি আর অব্যর্থ জনপ্রিয়তা, সুনীলের অভিজ্ঞান চিনে নেয়া যায় সহজেই। কবি শরৎকুমার মুখোপাধ্যায় একটি নিবন্ধে বলেছেন– কবিতা লেখা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছিল নেশা। গল্প, উপন্যাস লেখা ছিল তার (সুনীল) পেশা বা কাজ। [সূত্র : ভ্রাম্যমাণ লেখকের স্মৃতিসঞ্চয়, শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়, বইয়ের দেশ, এপ্রিল-জুন ২০১০, পৃষ্ঠা ৩৭]। অর্থাৎ অর্থের জন্য সাহিত্যের নানাবিধ শাখায় বিচরণ করলেও কবিতার অঙ্গণটি ছিল সুনীলের একান্ত আপন। বলতে গেলে সেই রহস্য গভীর গোপন।

সুনীলের প্রেমিক সত্তা স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়কে বিয়ের আগে সত্যি প্রবল ছিল। তখন তেমন বিখ্যাত নন তিনি। ১৭ বছর বয়সে অপর্ণা বা মার্কিন প্রবাসে মার্গারেট নিয়ে সুনীল অকপট স্বীকারোক্তি দিয়ে গেছেন। তবে তার নারী সংস্রব প্রসঙ্গে কবি বীথি চট্টোপাধ্যায়ের একটি উক্তি স্মরণ করছি–‘ তার কোনো হ্যাংলামি ছিল না মেয়েদের নিয়ে। কোনো মেয়ের জন্য নিজের অমূল্য জীবনকে থামিয়ে দেবার মানুষ তিনি ছিলেন না ।‘ তার স্ত্রী স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন – ‘একজন পুরুষ সারা জীবন একটা প্রেম করে যাবে এমন তো হয় না। স্ত্রীকে ভাল লাগাটা নিশ্চয়ই থাকে কিন্তু সে অন্য রকম। তার পাশে এইগুলোও থাকে। আমার মনে হয় আজও একজন নারী একজন ক্রিয়েটিভ পুরুষকে পুরোপুরি পায় না। পাওয়া সম্ভবও নয়।‘ একদিন তাকে প্রশ্ন করেছিলাম- নীরা কে? হাসতে হাসতে তিনি বলেছিলেন, ‘নীরা মানে নারী। নারী আর নীরার মধ্যে দূরত্ব নেই’। চায়ে চুমুক দিতে দিয়ে আরো মজা করে বলেছিলে্ন- নীরা/ নারী/ রানী/ রীনা এরা একাকার হয়ে থাকে আমাদের মধ্যে।

সুনীল মানেই পায়ের তলায় সর্ষে। সুনীল মানেই দরজা-জানলা খোলা একটা তরতাজা মন। ছাত্র বয়স থেকেই  হুটহাট বেরিয়ে পড়তেন। জীবনের শেষ পর্যন্ত সেই বাউন্ডুলেপনা কোনও দিন থামেনি। সাঁওতাল পরগনা থেকে প্যারিস, নিউ ইয়র্ক থেকে শান্তিনিকেতন, সুনীলের উৎসাহ সমান। নিজেই বলতেন, লেখক হওয়ার কোনো দুরাকাঙ্ক্ষা তার ছিল না। কলেজজীবনে সুনীলের স্বপ্ন বলতে একটাই, জাহাজের খালাসি হয়ে সাত সমুদ্র পাড়ি দেয়া। খালাসির চাকরি সুনীলকে করতে হয়নি, কিন্তু বাংলা সাহিত্য নীললোহিতকে পেয়েছে। বাঙালির অভিধানে দিকশূন্যপুর শব্দটা চিরকালের মতো ঢুকে গিয়েছে।

সুনীলদার মধ্যে ছিল নেতৃত্ব দেয়ার এক সহজাত বৈশিষ্ট্য। ওর সমসাময়িক বন্ধুরাও মেনে নিয়েছিলেন সেই নেতৃত্বকে। একবার কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি হাংরি আন্দোলন থেকে অমনভাবে সরে এলেন কেন? উনি বলেছিলেন, দেখলাম সুনীল এই আন্দোলনে যোগ দিলো না। সুনীল যখন নেই, এই আন্দোলনের সার্থকতা নিয়ে আমার ভেতরেই সংশয় দেখা দিলো। এমনই ছিল সমসাময়িক বন্ধুদের সুনীলের প্রতি আস্থা। একবিংশ শতাব্দীতেও তরুণতম কবি-লেখকদের হাজির হতে দেখেছি তার কাছে তাদের অসহায়তা নিয়ে, তিনি পরম স্নেহে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন সাহায্য করতে। এত লেখেন কী করে? বলতেন, মনটা ভারমুক্ত রাখতে হয়। কারো প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই, বিদ্বেষ নেই। বলতেন, এগুলো নেতিবাচক শক্তি। সামগ্রিক শক্তির মধ্যে এই নেতিবাচক শক্তিকে ধরে রাখলে নিজেরই ক্ষয়। আর একটা জিনিস তার কাছ থেকে শেখার মত ছিল, তা হলো, ভাল বলতে শেখা। তিনি বলতেন, ভালমন্দ মিশিয়েই তো সবকিছু। মন্দটা না হয় না-ই দেখলাম। ভালটাই দেখতেন তিনি। শুধুই ভালটা। আর এই দেখায় অনুপ্রাণিত হতো বাকিরা, উদ্বুদ্ধও হতো। এই ভাল দেখার মধ্যে কোনো ফাঁকি ছিল না, ছিল আন্তরিকতা আর বিশ্বাস। এর প্রধানতম স্বাক্ষর নীললোহিত চরিত্রটিই। এ-এক বিরলতম সৃষ্টি, যার তুলনা বিশ্বসাহিত্যে নেই। এই নীললোহিতের কোনো কলুষ নেই, কোনো মন্দ নেই। মন্দ সে ভাবতেই পারে না। এ তো খুব কাছ থেকে জানা-চেনা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ই। তারই তো খণ্ডিত সত্তা, যা আপামর শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালিকে ভাসিয়ে দিয়েছে।

‘কলমটা ছুড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছা হয়। এই সব সময় মনে হয়, মানুষের ভাষা এখনও কত দীন!’ ১৯৭৪ সালের ১৯ মার্চ আনন্দবাজার পত্রিকায় বুদ্ধদেব বসুর মৃত্যুর খবর এই ভাবেই শুরু করেছিলেন সুনীল। তখনকার কবি, লেখকদের ‘বুদ্ধদেবের সন্তান’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। ২০১২ র অষ্টমীর সন্ধ্যায় শরীর খারাপ। বন্ধুরা তাকে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, পুজোর পরে যাবেন। পুজো শেষ হল না, ২২ অক্টোবরের সেই রাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। রবীন্দ্রনাথকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছিলেন, ‘তুমি বুঝি রূপকথার আলোকিত ডানার বিস্তার/ তুমি এক অতলান্ত আশ্চর্য উষ্ণতা।’

আলো আর উষ্ণতার আশ্চর্য মিশেল নিয়ে যমুনার হাত ধরে স্বর্গের বাগানে এখন তার ছুটোছুটির সময়। ‘চলে গিয়েও সুনীল রয়ে গেল’ শিরোনামের লেখায় কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লিখছেন “যখন এ লেখা লিখছি, তখন সুনীল বড় একা হয়ে শুয়ে আছে ঠান্ডা ঘরে, পিস হাভেনে। ডোরবেল বাজিয়ে কেউ আসবে না আজ। সুনীল উঠে গিয়ে দরজা খুলে প্রসন্ন মুখে বলবে না, আরে, এসো এসো … বেড়াতে যেতে বড় ভালবাসত সুনীল। নতুন অচেনা কোনো জায়গায় যাওয়ার কথা শুনলেই উজ্জ্বল হয়ে উঠত চোখ। আজও সুনীল চলল নতুন এক দেশে।” নতুন দেশে কেমন আছেন সুনীলদা? বড্ড জানতে ইচ্ছে করে। বলতে ইচ্ছে করে – শুভ জন্মদিন সুনীল’দা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর