ঢাকা, শুক্রবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৯ ১৪২৫,   ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০

সুনামগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লাঞ্ছিত

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৩:০৮ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৩:০৮ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

সুনামগঞ্জের দিরাই থানা রোডের জনতা হোটেলে স্বেছাসেবকলীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে বুধবার সকালে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করেছেন।

লাঞ্ছিত হওয়া মুক্তিযোদ্ধা কুমোদ চন্দ্র দাস দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউপি‘র চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার।

লাঞ্ছিতকারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শাহজাহান সরদার সাকিতপুর গ্রামের তুফলি মিয়া সরদারের ছেলে।

এই ঘটনায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড উপজেলা ও পৌর কমিটির নেতৃবৃন্ধ এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সেই সময় বিক্ষাব্ধ জনতা হোটেলের সামনে অবস্থান নিলে পাশের দোকানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন স্বেচ্ছাসেবকলীগের ওই নেতা।

এসময় শাহজাহান সরদারের মামাতো ভাই দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রহমান তালুকদার ও দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র মোশাররফ মিয়া ঘটনাস্থলে এসে সঠিক বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

প্রায় মাস খানেক পূর্বে দিরাই বাজার সংলগ্ন শয়তান খালী জলমহাল নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ওই নেতার বিরোধ দেখা দেয়। চাঁদপুর মৎসজীবিদের পক্ষে একটি মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধাদের কটাক্ষ করে বক্তব্য রাখেন শাহজাহান সরদার। এর প্রতিবাদে দিরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাগণ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড নেতা কর্মীরা বিক্ষোব্ধ হয়ে পাল্টা মানববন্ধন করে শাহজাহান সরদারের বিচার দাবি করে বক্তব্য রাখেন।

লাঞ্চনার শিকার মুক্তিযোদ্ধা কুমোদ চন্দ্র দাস বলেন, পূর্বের একটি মানববন্ধনে শাহজাহান সরদারের বিচার দাবি করে বক্তব্য দিয়েছিলাম। তাই সে প্রতিশোধ নিতে সকালে জনতা হোটেলে দিরাই থানার এসআই ইসমাঈল আলীসহ নাশতা করার সময় ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আখ্যায়িত করে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। সে বলে, কিভাবে তুই মুক্তিযোদ্ধা হলি নির্বাচনের পর দেখবো। এর প্রতিবাদ করলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে ও কিল ঘুষি মারতে থাকে। এ সময় দিরাই থানার এস আই ইসমাঈল আলীসহ কয়েকজন তাকে বারণ করার চেষ্টা করেন।

এব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড নেতারাগন বলেন, দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছে, শেষ বয়সে এসে দুষ্কৃতিকারীদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার মতো ঘটনায় আমরা মর্মাহত। কিছুদিন আগে এই শাহজাহান সরদার সকল মুক্তিযোদ্ধাকে কুচক্রি বলে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছিল। এর প্রতিবাদে সকল মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড নেতা কর্মীরা বিচার দাবি করে ছিলাম।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড সভাপতি শাহজাহান মিয়া বলেন, ইতোপূর্বে স্বেচ্ছাসেবকলীগের উপজেলা সভাপতি শাহজাহান সরদার জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছে। তার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছি। সে সময় যদি সঠিক বিচার হতো তাহলে আজ পিতার বয়সের মুক্তিযোদ্ধাকে শাহজাহান সরদারের হাতে মার খেতে হতনা। তার শাস্তি দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় বিচার প্রার্থী হয়ে বিচার পাইনি। ফলে আজকে বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে এসে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হয়ে শাহজাহান সরদারের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে দিরাই থানার ওসি মোস্তফা বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসকে