Alexa সুদ পরিশোধ না করায় দাফনে বাধা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১৩ ১৪২৬,   ০২ রজব ১৪৪১

Akash

সুদ পরিশোধ না করায় দাফনে বাধা

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩৬ ১১ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২১:৪২ ১১ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সুদের টাকা পরিশোধ না করায় আওয়ামী লীগ নেতার মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৃতের নাম নূর মোহম্মদ তালুকদার।

শনিবার উপজেলার রাজিহার ইউপির চেঙ্গুটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অবশেষে নির্ধারিত সময়ের ১০ ঘণ্টা পর বাদ আছর পুলিশ ও ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে শুক্রবার ভোরে বরিশালে এক আত্মীয়র বাসায় তিনি মারা যান।

নূর মোহম্মদ রাজিহার ইউপি আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও রাজিহার ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াস তালুকদারের চাচা।

জানা গেছে, তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা সুদে নিয়ে ১০ লাখ টাকা দেন  নূর মোহম্মদ। এরপরও তিন সুদ ব্যবসায়ী ৩৩ লাখ টাকা দাবি করে মামলা করে। ওই মামলার একটিতে নূর মোহম্মদ আদালতের রায় পান। পরে নূর মোহম্মদও স্ট্যাম্প উদ্ধারের মামলা করেন, যা বর্তমানেও চলমান।

সুদ ব্যবসায়ীরা হলেন- গৌরনদী উপজেলার নন্দনপট্টি গ্রামের জব্বার ব্যাপারীর ছেলে আলী হোসেন ব্যাপারী, একই গ্রামের হান্নান ঘরামীর ছেলে শাহীন ঘরামী ও বাঙ্গিলা গ্রামের জব্বার ব্যাপারীর ছেলে খোকন ব্যাপারী।

মৃতের বড় ছেলে বাবুল তালুকদার বলেন, বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে সুদ ব্যবসায়ী আলী হোসেন, শাহীন ও খোকন বাড়িতে এসে দাফনে বাধা দেন। এ সময় রাতে অন্য ভাই-বোনদের নিয়ে বিষয়টি সমাধান করতে বলি। কিন্তু তারা টাকা না দিলে দাফন করতে দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। সুদ পরিশোধ করতে না পারায় সকালে দাফন করা যায়নি।

তিনি আরো বলেন, সাত বছর তাদের কাছ থেকে তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা স্ট্যাম্প দিয়ে সুদে টাকা নেন আমার বোন দোলন। কিছুদিন পরে দোলন বিদেশে যান। পরে ধার করা টাকা বাবা পরিশোধ করতে গিয়ে পাঁচ বছরে দশ লাখ টাকা দেন। তারপরও তারা মৌখিকভাবে দাফনের আগে আমার কাছে বাবার পাওনা হিসেবে ১৩ লাখ টাকা দাবি করেন।

মৃতের ভাতিজা রাজিহার ইউপি চেয়ারম্যান  ইলিয়াস তালুকদার জানান, সুদ ব্যবসায়ীরা সকাল থেকেই বাড়ি ও বাজারে ঘুরে বেড়াতে থাকেন। কয়েকবার বাড়িতে এসে মরদেহ দাফনে বাধা দেন। এ ঘটনায় পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হলে বাদ আসর মরহুমের রাইস মিলের চাতালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সাইদুল সরদার, শ্রমিকলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম প্রমুখ।

আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. আফজাল হোসেন বলেন, টাকা-পয়সার লেনদেন থাকতেই পারে, তা পরিশোধের অনেক ব্যবস্থাও আছে, তার জন্য দাফনে বাধা দেয়া একটি বর্বরোচিত ঘটনা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর