ঢাকা, রোববার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ১১ ১৪২৫,   ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪০

সীমান্তে দুই বাংলার মিলন মেলা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ২১:০৫ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২১:০৭ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শুক্রবার দিনব্যাপী বার্ষিক পাথর কালীর মেলা হয়েছে।

এ সময় দুই দেশের পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত এক মহা মিলন মেলা বসে। যেখানে দৃশ্যমান কাঁটাতারের বেড়া তাদের আলাদা করে রাখলেও আবেগ পৌছে যায় একে অপরের হৃদয়ে।

যারা টাকার অভাবে পাসপোর্ট ভিসা করতে পারেন না তারা সারা বছর এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন। ভোর থেকে দুই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে জড়ো হন সীমান্তে, দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকা একে অপরের সঙ্গে মিলিত হবার এ সুযোগ হাত ছাড়া করতে চান না কেউ। প্রতি বছর দুইদেশের স্বজনদের এ মিলন মেলা এক বিরল দৃশ্যের জন্ম দেয়।

মেলায় আসা গোবিন্দগঞ্জের রাজন সাহা বলেন, প্রায় ৩০ বছর পর আমার আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করলাম। সে থাকে ভারতের জলপাইগুড়িতে। দীর্ঘদিন দেখা না হলেও আত্মার টানে আজ ঠিকই হাজির হয়েছি কাঁটাতারের পারে।

ছোট বৌমা মায়াবতি ভারতীয় সীমান্তে ও শ্বাশুড়ী মুক্তিরাণী বাংলাদেশ সীমান্তে সঙ্গে নাতী নাতনি সবাই সবার সাথে কান্নাজড়িত কন্ঠে কথা বলছে। বৃদ্ধা মুক্তিরাণী বলেন, ছেলে, বৌমা নাতি নাতনি থাকে ওপারে। ৮ বছর পর তাদের দেখা পেলাম। জড়িয়ে ধরার ইচ্ছা থাকলেও পারছিনা। বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কাঁটাতারের বেড়া।

পাথর কালীর মেলার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নগেন পাল বোলেন, কৃষকের ধান মাঠে থাকার কারণে এক সপ্তাহ পিছিয়ে এ মেলা করা হচ্ছে। পাক-ভারত বিভক্তির আগে উপজেলার সীমান্ত এলাকা ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অধিনে ছিল। দেশ বিভাগের পর আত্মীয় স্বজনেরা দুই দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সারা বছর কেউ কারো সঙ্গে দেখা করতে পারে না। তাই তারা এই দিনটির অপেক্ষায় থাকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর