.ঢাকা, শনিবার   ২০ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৭ ১৪২৬,   ১৪ শা'বান ১৪৪০

সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীর জলে মেঘের খেলা 

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৪ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিপুল সম্ভাবনা আর প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযের ডালা সাজিয়ে রেখেছে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব দিগন্তে অবস্থিত ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা। যাদুকাটা নদী রুপ, সম্পদ, শ্রম ও সমৃদ্ধির নদী। যেন সৌন্দর্যের ষোল কলাই পরিপূর্ণ এক লীলাভূমি নদীটি। দেশের এই প্রান্তিক জনপদে বিধাতা যেন প্রকৃতি-অকৃপণ হাতে বিলিয়ে দিয়েছে অফুরন্ত সম্পদ, সম্ভাবনা আর অপরুপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য। নীল আকাশে সাদা মেঘের খেলা। কখনো জমাট আবার কখনো হালকা বাতাসে দলছুট হয়ে পাগলা ঘোড়ার মত উত্তরে দাঁড়ানো আকাশ ছোঁয়া বিশাল মেঘালয়ের খাসিয়া পাহাড়ে গিয়ে আছঁড়ে পরছে। আর তারই দৃশ্য সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত বারেকটিলা সংলগ্ন যাদুকাটা নদীর প্রান্তে ফুটে উঠে তখন যে কেউ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। সীমান্ত ঘেঁষা নদী যাদুকাটার যেন কোনো রুপের শেষ নেই। প্রতিনিয়তই এই রুপে মুগ্ধ হচ্ছেন হাজার হাজার দর্শনাথী ও পর্যটকরা। প্রায় সারা বছরেই পর্যটকদের মিলন মেলায় পরিণত হয় যাদুকাটা নদীর তীর। দিন যতই যাচ্ছে বাড়ছে যাদুকাটা নদীর প্রতি সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকের সংখ্যা। 


যাদুকাটা নদী থেকে বালি, পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন সেখানকার হাজার হাজার শ্রমিক সেই দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। ভারতীয় মেঘালয় পাহাড়ের বুক চিড়ে বয়ে আসা ১৮টি পাহাড়ি ছড়ার মাধ্যমে বর্ষায় দেখা যায় চোখ জুরানো পাহাড়ি ঝর্ণা। এই নদীর সঙ্গে যুক্ত আছে শাহ আরেফিন আউলীয়ার আস্তানা, হিন্দু সম্প্রদায়ের পনতীর্থ ও সাতশ’ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন বারেকটিলার নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। পাশেই আছে দেশের বৃহত্তর শিমুল বাগান। একসঙ্গে একাধিক সৌন্দর্য দেখার মত স্থান পাওয়াটাও কঠিন। তাই এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশ থেকেও এসে ভিড় করছে শত শত সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটক। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড়ের বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি ঝর্ণার পানি মিলিত হয়েছে সীমান্তবর্তী নদী যাদুকাটায়। 


২৩কিলোমিটার দৈর্ঘের এই যাদুকাটা নদী উপজেলার সবচেয়ে বড় নদী হিসেবে বিবেচিত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বছরের ১২ মাসই ২০ হাজারেরও বেশি পাথর শ্রমিক জীবিকার তাগিদে নদী থেকে বালু, পাথর, নুড়ি পাথর আরোহন করে থাকে। এই নদীর আরোহিত বালু, পাথর ও নুড়ি পাথর দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। বর্ষায় পাহাড়ি নদী যাদুকাটার বুকে জলের স্রোতধারা আর হেমন্তে শুকিয়ে যাওয়ায় যাদুকাটার বুকে দেখা যায় ধূ-ধূ বালুচড়ে এ যেন আরবের কোনো মরুভূমি। ভারতের সারি সারি উঁচু নিচু মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড় ও বারেক টিলার বুকে ঘন সবুজের সমারোহ যাদুকাটায় বেড়াতে আসা পযটকদের আরো আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে।


মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী গারো সম্প্রদায়ের আধো আধো বাংলা কথা বলার চেষ্টা বেশ আনন্দ পায় বেড়াতে আসা পর্যটক ও দর্শণার্থীরা। তারা কখনো ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে কখনো আবার তীর ঘেঁষা রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে যাদুকাটার সৌর্ন্দয উপভোগ করে। হেমন্তে গায়ের বধুরা বালুচড় পাড়ি দিয়ে যাদুকাটার স্বচ্ছ পানিতে গোসল করে ফেরার পথে এঁকে দিয়ে যায় ভেঁজা পায়ের পদাঙ্ক। এ যেন কবি মাইকেল মদূসধন দত্তের কপোতাক্ষ নদ। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা, থাকা, খাওয়ার ভাল ব্যবস্থা না থাকার কারণে বেড়াতে আসা পর্যটকের কষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে সীমান্তের চিহ্নিত চোরাচালানীরা বারেকটিলা, যাদুকাটা নদীকে অবলম্বন করে চোরাচালানসহ মদ, গাজা, হিরোইন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য  বেচাকেনায় মত্ত রয়েছে। 


তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, টাংগুয়ার হাওর, টেকেরঘাট, বারেকটিলা ও যাদুকাটা নদীতে দেশ-বিদেশের পর্যটক সারা বছরেই বেড়াতে আসেন। এখানে একটি সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে ইকো ট্যুরিজম স্থাপন করা হলে সরকারের যেমন রাজস্ব আয় হবে তেমনি এই এলাকার স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।


ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস