Alexa সিসিক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন সেলিম

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৫ ১৪২৬,   ১২ রবিউস সানি ১৪৪১

সিসিক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন সেলিম

 প্রকাশিত: ২০:৩২ ১৯ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১১:১৪ ২০ জুলাই ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন (সিসিক) থেকে সরে দাঁড়ালেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) বদরুজ্জামান সেলিম।

বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে তিনটায় সিসিক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় তার মা এবং স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

সেলিম বলেন, ‘বিএনপি আমার রক্তে, শিরায় শিরায় মিশে আছে। ৩৯ বছর ধরে এ দলের সঙ্গে আছি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাগো দলের কর্মী হিসেবে আমার পথচলা শুরু হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘বুধবার রাতে আমার বাসায় এসে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধ ফেলতে পারিনি। এজন্য আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম।’

এরপর সংবাদ সম্মেলনেই বদরুজ্জামান সেলিমের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা আমান উল্লাহ আমান।  

তিনি বলেন, নির্বাচনে দলের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার কারণে বদরুজ্জামান সেলিমকে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এরই সঙ্গে এখন এই মুহূর্ত থেকে তিনি আবার দলীয় পদে বহাল হলেন। তিনি আবারও দলের সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক।

তিনি আরো বলেন, বদরুজ্জামান সেলিম ও আরিফুল হক চৌধুরী দু’জনই বিএনপির জন্য অনেক ত্যাগ করেছেন। আরিফ ও সেলিমরা একদিনে গড়ে ওঠেনি। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্দেশে এ বদরুজ্জামান সেলিমকে আবারোও দলীয় পদে বহাল করা হল।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের সব গাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। আরিফুল হকের বাসা থেকে সংবাদ সম্মেলন শেষ করে বেরুচ্ছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় কোতয়ালি থানা ও বিমানবন্দর থানার দুই ওসি মোশাররফ হোসেন এবং গৌছুল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ একে একে সবগুলোতে গাড়িতে তল্লাশি চালায়। এসময় খালি গাড়িগুলোও বাদ পড়েনি পুলিশী তল্লাশি থেকে। পরে আরিফুল হক বেরিয়ে এসে পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। তবে এসময় কাউকে আটক করা হয়নি।

এ বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রশাসন নানাভাবে আমাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করছেন। নির্বাচনের আগে এরকম পরিস্থিতি মেনে নেয়া যায়না। আমরা এমন পরিস্থিতিতে খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা এখন নির্বাচন কমিশনে এ নিয়ে অভিযোগ জানাতে যাচ্ছি।

এদিকে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই এ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, কেন্দ্রীয় সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা কলিম উদ্দিন মিলন, মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক, মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাবেক সভাপতি ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ প্রমুখ।

এর আগে গতকাল বুধবার রাতে সেলিমের বাসায় যান কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতিনিধিদল। সেখানে তারা সেলিম এবং তার মায়ের সঙ্গে কুশল বিনিময় ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

সিসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে বদরুজ্জামান সেলিম বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এক পর্যায়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর