Alexa সিলেটে লবণের দাম স্বাভাবিক

ঢাকা, রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪২৬,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

সিলেটে লবণের দাম স্বাভাবিক

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৩:০৪ ২০ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

সিলেটে লবণের দাম বেড়ে যাওয়ার গুজব প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। পেঁয়াজের পর লবণের সংকটের কথা ছড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় মঙ্গলবার দিনভর সিলেট জুড়ে অভিযানে নামে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ফলে ওইদিনই স্বাভাবিক হয়ে যায় লবণের দাম। 

এদিকে লবণ নিয়ে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরকারি এক প্রেসনোটে বলা হয়েছে, দেশে লবণের কোনো সংকট নেই বা এমন কোনো সম্ভাবনাও নেই। লবণ নিয়ে কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনোভাবে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গুজব ছড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য অধিদফতর এ প্রেস নোট জারি করে। 

এর আগে লবণের দাম বেড়ে যাচ্ছে বলে সোমবার সন্ধ্যার পর সিলেটজুড়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে লবণ কেনার হিড়িক শুরু হওয়ায় তাৎক্ষণিক বেড়ে যায় দাম। 

বাজারে প্রতি কেজি লবণের খুচরা মূল্য ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। কিন্তু ‘লবণ সংকটের’ গুজব ছড়িয়ে প্রতি কেজি ৪০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করে। আর ‘লবণ সংকটের’ গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে অনেক ক্রেতা বাড়তি দামে লবণ কিনে নেন। তবে মঙ্গলবার লবণের দাম স্বাভাবিক হয়ে যায়। ফলে যারা গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে বেশি দামে লবণ কিনেছেন তারা প্রতারিত হয়েছেন।

এদিকে লবণ সংকটের গুজব প্রকট আকার ধারণ করলে মঙ্গলবার অভিযানে নামে মাঠ প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা।

মঙ্গলবার জেলার বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় কোথাও বেশি দামে লবণ বিক্রয় করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া বাজার মনিটরিংয়ের সময় যথাযথ মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য রাখার দায়ে ৩টি দোকানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। 

নগরীর রিকাবীবাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সিলেট সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন্ত ব্যানার্জি। 

এ সময় সঠিক মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার দায়ে মেসার্স আনাস গ্রোসারী নামক এক প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই দিনে সিলেট নগরীর আম্বরখানায় বাজার মনিটরিংয়ের সময় যথাযথ মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য রাখার অপরাধে মেসার্স হাসান স্টোর এবং মেসার্স জসিম স্টোর নামক দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস করা হয়। 

এ সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালিক রুমাইয়া।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রির দায়ে পাঁচটি দোকানকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়। 

সকাল থেকে নগরীর কাজিটুলা, আম্বরখানা ও শাহী ঈদগাহর পাঁচটি দোকানে এ জরিমানা করা হয়। 

জরিমানা করা দোকানগুলো হচ্ছে, কাজীটুলা জনতা স্টোরকে ৩ হাজার, শাহী ঈদগাহ বেগম স্টোরকে ৩ হাজার, ধানসিঁড়ি রুবেল স্টোরকে ২০ হাজার, আব্দুল্লাহ স্টোরকে ৭ হাজার ও আম্বরখানা ফরিদ স্টোরকে ৮ হাজার টাকা। 

এছাড়া মূল্য তালিকা না থাকায় শাহপরাণ এলাকায় সাফা স্টোরকে ৪ হাজার টাকা ও অলক স্টোরকে দেড় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 

অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ফয়জুল্লাহ। 

এদিকে একই দিনে শাহপরাণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছেন ভোক্তা অধিকার অধিদফতর সিলেট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। 

এসময় বিভিন্ন অপরাধে বালুচর বিসমিল্লাহ স্টোরকে ৭ হাজার টাকা, মেডিসিন স্টোরকে ৩ হাজার টাকা ও নাহার মেডিসিন স্টোরকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অপরদিকে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পিয়াজ বিক্রি করলে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে সিলেটের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার পরিদর্শন করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। 

এ সময় ব্রক্ষ্মময়ী বাজারের ৩টি মুদি দোকানে অতিরিক্ত মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করার অপরাধে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানাপ্রাপ্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইনসাফ গ্রোসারী ১০ হাজার, এসএম ট্রেডার্স ২০ হাজার ও আনিস মিয়া স্টোর ১০ হাজার টাকা।

সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিন শিহাব জানান, মেয়রের নেতৃত্বে সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিন এ অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনটি দোকানে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

পরে মেয়র উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতিদিন বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করবেন। 

তিনি বলেন, কোনো পাইকারি ব্যবসায়ী পিঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ করে রাখলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হবে।

এর আগে মেয়র নগরীর লালবাজারে বিভিন্ন মাংসের দোকান পরিদর্শন করেন। 

এ সময় পচা ও বাসি মাংস মজুদ করে রাখায় অন্তত দুটি মাংসের দোকানের মাংস জব্দ করেন তিনি। পরে নগর ভবনে জব্দকৃত প্রায় দুই মণ মাংস প্রকাশে নিলামে বিক্রি করা হয়। এছাড়া অন্তত ১ কেজি পচা ও বাসি মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।


 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ