Alexa সিলেটে বেড়েছে শিম চাষ

ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৪ ১৪২৬,   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪০

সিলেটে বেড়েছে শিম চাষ

 প্রকাশিত: ১২:২৭ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮   আপডেট: ১৭:২০ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিলেটের গোলাপগঞ্জে বেড়েছে শিম চাষ। গত বছরের তুলনায় বেশি জমিতে গোয়ালগাদ্দা জাতের শিম চাষ হয়েছে। তবে চাষের পরিধি বাড়লেও উৎপাদন এ বছর কমেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে প্রত্যাশিত মাত্রায় উৎপাদন হয়নি। ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

তারা বলছেন, গত বছর যেখানে ক্ষেতে প্রতিকেজি ৫০/৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, এবছর তা ২৭/২৮ টাকায় নেমে এসেছে। এতে করে তারা বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

জানা গেছে, গোয়ালগাদ্দা শিম সিলেটের স্থানীয় জাত হিসেবে পরিচিত। এর প্রচুর রয়েছে চাহিদা সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আর সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্দ, লক্ষীপাশা ও ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেই বিশেষ এ জাতের শিমের উৎপাদন হয়ে থাকে। এ শিম উৎপাদনের জন্য মাটি উপযোগী হওয়ায় প্রতিবছরই গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে শিমের বাম্পার ফলন হয়ে থাকে। কিন্তু এ মৌসুমে কৃষকরা গতবারের চেয়ে শিম চাষে এগিয়ে গেলেও দুই-তিন মাস আগে ঘন ঘন বৃষ্টি এবং পোকামাকড়ের আক্রমণে কৃষকের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে পড়ে।

লক্ষণাবন্দ, লক্ষীপাশা ও ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের কৃষকরা প্রতি বছর গোয়ালগাদ্দা শিম চাষের উপর নির্ভর করে। গোলাপগঞ্জে চাষ হওয়া এই শিম প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার লক্ষণাবন্দ, লক্ষীপাশা, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা মাঠ জুড়ে গোয়ালগাদ্দা শিম চাষ করছে। ক্ষেতে চাষিরা খণ্ড খণ্ড মাচা বেঁধে শিম চাষ করছেন। মাচার নিচ থেকে শিমের গাছে ও মাচার উপরে থরে থরে শিম ঝুলে রয়েছে।

কৃষকরা প্রতি রবি, সোম, বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শিম নিয়ে পুরকায়স্থ বাজার ও চৌধুরী বাজারে নিয়ে যায়। রাস্তার দু’পাশে বসে কৃষকরা জড়ো হয়ে শিম বিক্রি করেন। আবার অনেক সময় দেখা যায়, কৃষকরা মাঠ থেকে শিম সংগ্রহকালে পাইকাররা সরাসরি শিম সংগ্রহ করে থাকেন।

অনেক সময় দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শিমের জন্য ট্রাক, লরি, টেম্পু, ভ্যানগাড়ি নিয়ে শিম বিক্রেতারা ভিড় জমান। বিশেষ করে পুরকায়স্থ বাজার ও চৌধুরী বাজারে এ ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ গ্রামের কৃষক সেলিম আহমদ জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর ঘন ঘন বৃষ্টি থাকার কারণে শিম উৎপাদন হয়নি। তাই লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হবে। প্রথমদিকে প্রতি কেজি শিম ৫০-৬০ টাকা দামে বিক্রি হলেও বর্তমানে বাজার দর ২৭ থেকে ২৮ টাকা।

এ ব্যাপারে শিম বিক্রেতা বারকোট গ্রামের জুবের আহমদ বলেন, সিলেটের গোলাপগঞ্জের শিম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাওয়া যায়। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলার সবজি ব্যবসায়ীরা গোলাপগঞ্জের শিম ক্রয় করতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রাক, লরি, ট্যাম্পু, ভ্যানগাড়ি নিয়ে ভিড় জমান স্থানীয় বাজারে।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা খায়রুল আমিন জানান, প্রথম দিকে ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে শিমের উৎপাদন ব্যাহত হয়। কিন্তু বর্তমানে বৃষ্টি কমে যাওয়া, পোকামাকড়ের উপদ্রব কমে যাওয়া ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ঘাটতি পূরণ হবে।

খায়রুল আমিন বলেন, গোলাপগঞ্জের শিম বিশ্ব বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। সরকারিভাবে প্রত্যায়নের মাধ্যমে শিম রফতানি হচ্ছে। সবজি উৎপাদনে গোলাপগঞ্জের বেশ সুনামও রয়েছে। শিম চাষিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

খায়রুল আমিন জানান, গত বছর উপজেলার ৮৭০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছিল। এবার ৮৮০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে