Alexa সিলেটের ‘ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য’ ভূমি অধিগ্রহণ ডিসেম্বরের মধ্যে

ঢাকা, রোববার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২ ১৪২৬,   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

সিলেটের ‘ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য’ ভূমি অধিগ্রহণ ডিসেম্বরের মধ্যে

আহমেদ জামিল, সিলেট  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৬ ২৩ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ভারতের মেঘালয় পাহাড় ঘেঁষা নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি প্রকৃতিকন্যা জাফলং। পর্যটন কেন্দ্র ছাড়াও ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জন্য জাফলং অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রয়েছে চুনা পাথরের খনি। ভূতত্ত্ববিদদের কাছে অঞ্চলটি দেশের ভূতাত্ত্বিক ‘জাদুঘর’ হিসেবে পরিচিত। এরইমধ্যে অঞ্চলটিকে ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারির পর সীমানা নির্ধারণ শেষে ভূমি অধিগ্রহণ চলছে। চলতি বছরের শেষে অধিগ্রহণ শেষের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। 

ডাউকি নদীর পাড়ে সংগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের পাশের একটি টিলায় উন্মুক্তভাবে চুনাপাথরের স্তরসহ কয়েকটি অতি পুরোনো পাললিক শিলার স্তর রয়েছে। যা বাংলাদেশের কোথাও নেই। তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও গবেষণার কাজের ক্ষেত্রে এ শিলাস্তরগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

এরইমধ্যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরিপের মাধ্যমে যার সীমানা চিহ্নিত ও নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ঘোষিত এলাকার ২২ দশমিক ৫৯ একরের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ভূতত্ত্ব গবেষকদের গবেষণা ও ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে জাফলংয়ের ইউসিন যুগের একমাত্র লাইমস্টোন, কপিলি শেইল’র স্তর ও বোল্ডার বেড সমৃদ্ধ অঞ্চলের ২২ দশমিক ৫৯ একর ভূমি এলাকাকে ‘ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য’ হিসেবে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরই প্রেক্ষিতে ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর হিসেবে ঘোষিত এলাকাটির সীমানা নির্ধারণ, ভূমি অধিগ্রহণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে গার্ড শেডসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ব্যয়ের খসড়া তৈরি করতে গণপূর্ত অধিদফতরে পাঠানো হয়। যার প্রেক্ষিতে গণপূর্ত বিভাগ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরকে ওই এলাকার একটি ডিজিটাল সার্ভে মানচিত্র করতে বলে। গণপূর্ত বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী ডিজিটাল সার্ভের কাজ সম্পাদনের জন্য ২০১৭ সালের মে মাসের ১৮ থেকে ২৭ তারিখ বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের একজন ভূতত্ত্ববিদ ও গোয়াইনঘাটের ইউএনও এলাকাটি পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের দুইজন ও গোয়াইনঘাট উপজেলা ভূমি অফিসের একজন সার্ভেয়ার মিলে ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষিত অঞ্চলের ২২ দশমিক ৫৯ একর ভূমির ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরিপের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ ও চিহ্নিত করে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বাজেটে ২২ দশমিক ৫৯ একর জমি অধিগ্রহণের ৩৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সম্মতিতে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের অনুকূলে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য সিলেটের ডিসি কার্যালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

কিন্তু ওই বছরই ভূমি অধিগ্রহণ আইন সংশোধন হয়ে অধিগ্রহণ মূল্য বাড়ায় বরাদ্দকৃত অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হয়ে যায়। ফলে ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট দফতরে ফেরত দেয়া হয়। পরবর্তীতে ভূমির মূল্য বিবেচনা করে চলতি অর্থ বছরের ২২ দশমিক ৫৯ একরের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য পুনরায় অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাটের ইউএনও বিশ্বজিত কুমার পাল জানান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক দিয়ে জাফলং পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় স্থান। সৌন্দর্যের পাশাপাশি জাফলং এলাকা হচ্ছে বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। সরকারের পক্ষ থেকে জাফলংয়ের বিজিবি ক্যাম্পের পাশে চুনা পাথর কোয়ারি এলাকাকে ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে এর রক্ষণা-বেক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর বাস্তবায়ন হলে জাফলংয়ে পর্যটকের পাশাপাশি ভূতত্ত্ব গবেষক ও বিভিন্ন বিশ্বদ্যিালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষার্থীদের সমাগম আরো বাড়বে। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ভূতত্ত্ব জরিপ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক রিয়াদুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন ও গবেষণার জন্য অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে জাফলংয়ের ২২ দশমিক ৫৯ একর ভূমি এলাকা ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ঘোষণা করে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সেখান থেকে ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সিলেটের ডিসিকে অধিগ্রহণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। 

তিনি আরো জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরকে ভূমির মালিকানা বুঝিয়ে দিলে রক্ষণাবেক্ষণ ও সার্বিক উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সরকারের কাছে একটি প্রকল্প পাঠানো হবে। প্রকল্প অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলে রক্ষণাবেক্ষণ শুরু হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ