সিরিয়া নিয়ে তুরস্ক-রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা

ঢাকা, বুধবার   ০৮ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৫ ১৪২৬,   ১৪ শা'বান ১৪৪১

Akash

সিরিয়া নিয়ে তুরস্ক-রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:০২ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে মিত্র দুইরাষ্ট্র তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা দুর্বল হয়ে পড়ায় সহিংস প্রতিকূলতার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

সিরিয়ায় গত নয় বছর ধরে চলা যুদ্ধে পরস্পর বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে দুই দেশ। লিবিয়ায়ও এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। কিন্তু বেশ কয়েকটি রক্তক্ষয়ী হামলা প্রতিরোধে তারা একসঙ্গে কাজ করেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তৈরি করতেও দেখা গেছে

তবে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনার সুযোগে সিরিয়ার আসাদ সরকার আলেপ্পো প্রদেশের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়েছে। মস্কো ও আঙ্কারার আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার উপর চাপ বাড়াচ্ছে।

সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তার করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলির মধ্যে রেষারেষি যতই বাড়ছে, বাশার আল আসাদ সরকারের ক্ষমতাও ততই সম্প্রসারিত হচ্ছে।

রোববার আসাদ বাহিনী উত্তর পশ্চিমে আলেপ্পো প্রদেশের আরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। সেই এলাকায় তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনার ফলে বিদ্রোহীদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এতকাল এই দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ফলে আসাদ বাহিনী কিছুটা কোণঠাসা হয়ে ছিল।

ন্যাটোর সদস্য দেশ হওয়া সত্ত্বেও সিরিয়ায় নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করতে তুরস্ক যাবতীয় সমালোচনা উপেক্ষা করে ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের জন্য সেই সহযোগিতা শেষ পর্যন্ত সুখকর হয়নি। রাশিয়ার সঙ্গে স্বার্থের সংঘাতের কারণে মনোমালিন্য বাড়ছে। সংকট কাটাতে দুই দেশের মধ্যে সোমবার মস্কোয় আলোচনা হবার কথা।

তুরস্ক বাশার আল-আসাদকে অপসারণ করতে বদ্ধপরিকর। আসাদ কিন্তু গত প্রায় নয় বছর ধরে গৃহযুদ্ধ সত্ত্বেও ক্ষমতায় টিকে গেছেন। রাশিয়ার মদতে তার প্রশাসন ও সামরিক বাহিনী শক্তি আরো বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।

গত দুই সপ্তাহে আসাদ বাহিনীর হামলায় ১৩ জন তুর্কি সৈন্য নিহত হয়েছে। মস্কোর উদ্দেশ্যে তুরস্ক আসাদের রাশ টানার ডাক দিয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে সিরীয় বাহিনী সেই এলাকা থেকে প্রত্যাহার না করলে তুরস্ক পালটা হামলার হুমকি দিয়েছে। রাশিয়া তুরস্কের ডাকে এখনো সাড়া দেয়নি।

রোববার রুশ বিমানবাহিনী আলেপ্পো প্রদেশে বিরোধী নিয়ন্ত্রিত এলাকার উপর বোমাবর্ষণ করেছে। আসাদ বাহিনী সেই সুযোগে জায়গা দখল করেছে। ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীও সেই কাজে মদত করেছে।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস সংগঠনের সূত্র অনুযায়ী আসাদ বাহিনী মাত্র এক দিনে আলেপ্পোয় যে সাফল্য পেয়েছে, গত আট বছরে তা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে তুরস্ক সমর্থিত বিদ্রোহীরা পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে।

তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনার সুযোগে যুক্তরাষ্ট্রও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির চেষ্টা করছে। রোববার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার টেলিফোনে এরদোগানের সঙ্গে কথা বলেছেন। সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে চলমান উত্তেজনা সম্পর্কে তিনি দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন এবং মানবিক বিপর্যয় এড়াতে তুরস্কের ভূমিকার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ট্রাম্প আসাদের প্রতি রাশিয়ার সমর্থনের সমাপ্তি ও গোটা সংকটের রাজনৈতিক সমাধানসূত্রের আশা করেন। তিনি সরাসরি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে সিরিয়ার সরকারের নৃশংসতার প্রতি সমর্থন বন্ধ করার ডাক দিয়েছেন।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী