সিরিয়াল কিলারের ভক্ত হয়ে খুনী হয়ে ওঠেন এই নারী

ঢাকা, সোমবার   ২৫ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৭,   ০২ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

সিরিয়াল কিলারের ভক্ত হয়ে খুনী হয়ে ওঠেন এই নারী

কানিছ সুলতানা কেয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২০ ৫ মে ২০২০   আপডেট: ১৪:৪৬ ৬ মে ২০২০

ছবি: ভেরোনিকা কম্পটন

ছবি: ভেরোনিকা কম্পটন

খুবই বিচিত্র মানুষের মনোজগত। কার মনে কী আছে, সত্যিই বোধা দুষ্কর। এক নিষ্ঠুর সিরিয়াল কিলারের হত্যাকাণ্ডে উৎসাহিত হয়ে এক নারী হয়ে ওঠেন দুর্ধর্ষ খুনী। ভাবা যায়, সত্যিই এমনটি ঘটেছিল। ১৯৮০ সাল, ভেরোনিকা কম্পটন নামের এক নারী কেনেথ বিয়ানচিকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। বিয়ানচি ছিলেন হিলসাইড স্ট্র্যাংলার হত্যাকাণ্ডের একজন আসামি। ইতিহাসের নামকরা কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারদের একজন তিনি। একাধিক ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। 

তবে কারাগারের বন্দী জীবন তার জন্য ছিল একটি সারপ্রাইজ। নিয়মিত কারাগারে তার জন্য আসত শুভেচ্ছা বার্তা, চিরকুট। বিয়ানচির খুনের ধরণ দেখে রীতিমত এই নারী তার ফ্যান হয়ে যায়। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন, একজন সিরিয়াল কিলারের অন্ধভক্ত ভেরোনিকা। কেনেথ বিয়ানচির খুন ও ধর্ষণ করবার ধরণ দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়ে যান যে এটি নিয়ে একটি নাটক লিখে ফেলেন। 

নাটকের নাম ছিল ‘দ্য মিউটিলেটেড কাটার’। বিয়ানচি দেখে খুশি হবে, এই ভেবে সে এই নাটকটি খুনীর কাছে পাঠিয়ে দেয়। অনেকেই আছেন বিভিন্ন খেলোয়াড়ের ভক্ত হন। আবার কেউবা অভিনেতা বা লেখকের অন্ধভক্ত হন। কখনো কি শুনেছেন একজন সাজাপ্রাপ্ত সিরিয়াল কিলারের অন্ধভক্ত হয়ে তাকে অনুসরণ করতে কেউ খুনী হয়েছেন? 

কেনেথ বিয়ানচিহ্যাঁ ভেরোনিকা কম্পটন নামের এই নারী ছিলেন কেনেথ বিয়ানচির অন্ধভক্ত। ২৮ বছর বয়সী কেনেথ বিয়ানচি ১৯৭৯ সালে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। ১৯৭৭ সালে ১০ জন নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা করেন তিনি। ভুক্তভুগীরা সবাই ছিল ১২ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। ১৯৭৭ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেস চারপাশের পাহাড় থেকে বেশ কিছু নারীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। 

হত্যার ধরণ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, একজনই এই খুনের জন্য দায়ী। পাহাড়ের পাশে এই মৃতদেহগুলো পাওয়া যায়। তাই এই সিরিয়াল কিলারের নাম দেয়া হয় হিলসাইড স্ট্র্যাংলার। ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে আরো দুইজন নারীকে ধর্ষণ ও খুন করেছিলেন বিয়ানচি। সে বছরই ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পুলিশ বিয়ানচিকে গ্রেফতার করেছিল। সেসময় আদালতে উপস্তিত ছিলেন ভেরোনিকা। 

বিয়ানচির হত্যার ধরণ তাকে বেশ রোমাঞ্চিত করে তোলে। পরের বছরই ভেরোনিকা বিয়ানচির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। বিয়ানচিও তার উত্তর দিতে থাকে। এভাবেই চিঠির মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ চলছিল। এর মাঝে ভেরোনিকা বিয়ানচির সঙ্গে একবার দেখাও করে। চিঠিতে ভেরোনিকা বিয়ানচিকে জানিয়েছিল, তার কাজ থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়ে নাটকটি তিনি লিখেছেন। 

ভেরোনিকা কাম্পটনপ্লটটা বিয়ানচির খুবই ভালো লাগবে। তবে চিঠির শেষের দিকে লেখা ছিল যে ভেরোনিকা একদিন বিয়ানচিকে খুশি করতে পারবে। বিয়ানচিকে দেয়া কথা রেখেছিলেন তিনি। জেনিফার ফুরিওর বই লেটারস ফ্রম জেনার ভয়েসেস অব উইমেন মার্ডার্স-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৮০ সালের দিকে বিয়ানচিকে খুশি করার জন্য ভেরোনিকা একটি কপিক্যাট খুন করে বসে। এই খুনের মাধ্যমে সে পুলিশকে জানান দেয়, কেনেথ বিয়ানচি জেলে থাকলেও আসল খুনী এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। 

কেনেথই ধর্ষণ করেছে এটি বোঝানোর জন্য ভেরোনিকা জেল থেকে তার বীর্য সংগ্রহ করে। আর একজন নারীকে খুন করে তার শরীরের ওপর এই বীর্য ঢেলে দেয়। পুলিশ ধাঁধায় পড়ে যায়। বিয়ানচি যদি জেলে থাকে, তাহলে এই নারীর ওপর যে বীর্য রয়েছে, সেটি কার? ডিএনএ টেস্টে স্পষ্টভাবে দেখানো হচ্ছে, ঘটনাস্থলে বিয়ানচিই এসেছিল। কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না পুলিশ।  

তবে দ্বিতীয় খুনটি করার সময়ই ধরা পড়ে যায় ভেরোনিকা। এবার আর চালাকির পরিচয় দিতে পারেননি তিনি। ১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনের বেলিংহামে এক নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। তবে হাত থেকে পালিয়ে যায় ওই নারী। এরপর সে পুলিশকে ফোন করে বসে। তবে ঘটনাস্থল থেকে পালাতে পারেনি ভেরোনিকা। কারণ দ্বিতীয় শিকারটি তাকে বেশ জব্দ করে আটক করে ফেলেছিল। 

পুলিশ এসে কপিক্যাট কিলার ভেরোনিকা কম্পটনকে কারাগারে বন্দী করে। কেনেথ বিয়ানচির মতোই পরিণতি ঘটে তার ভক্তের। সেই নারী বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে কম্পটন দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দী ছিলেন।জেলে থাকাকালীন সময়ে ভেরোনিকার সঙ্গেও ঘটতে থাকে ঠিক একই ঘটনা। জেমস ওয়ালেস নামে এক ব্যক্তি এবার প্রেমে পড়েন ভেরোনিকার। তিনি ছিলেন পূর্ব ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক। 

অবশেষ জেলে যান তিনি

ভেরোনিকার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার মূল কারণ ছিল তার হত্যাকাণ্ড। তবে না জেমস কপিক্যাট কিলার হননি। তবে প্রেমে অন্ধ হয়েই তিনি ত্যাগ করেছেন পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক। ঠিকই শুনছেন, ৩৭ বছর বয়সী জেমস ওয়ালেস নিজের পরিবার ছেড়ে দিয়েছিলেন ভেরোনিকার মন পেতে। তার কথা অনুযায়ী, ভেরোনিকা জেলে থাকুক কিংবা না থাকুক, তাতে আমার কিছু যায় আসেনা। 

আমি মেয়েটিকে ভালোবাসি, ওর জন্য সবকিছু ছেড়ে আসতে আমার কোনো আপত্তি নেই। ওয়ালেস মাঝে মাঝে কারাগারে পড়াতেন। আর সেসময়ই ভেরোনিকার সঙ্গে তার পরিচয়। ১৯৮৭ সালে তার একটি বক্তৃতা শোনার পরে ভেরোনিকা তাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। পরের দুই বছর ধরে তারা নিজেদের মধ্যে চিঠিপত্রের আদান প্রদান চালিয়ে যায়। আর এভাবেই তাদের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। 

১৯৮৯ সালে ওয়ালেস তার স্ত্রীকে তালাক দেন। যাতে তিনি কারাগারে ভেরোনিকাকে বিয়ে করতে পারেন। ১৯৯৩ সালে ভেরোনিকা এবং জেমস ওয়ালেস দম্পতি কন্যা সন্তানের বাবা মা হন। টাকোমার সেন্ট জোসেফ মেডিকেল সেন্টারে ভেরোনিকা তার কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। যদিও ভেরোনিকার এর আগে একটি পুত্র সন্তান ছিল। মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রথম মা হন ভেরোনিকা। ২০০৩ সালে ভেরোনিকা কম্পটন কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরপর নিজের নামে একটি বইও প্রকাশ করেন তিনি। আর বিয়ানচি এখনো কারাগারেই রয়েছেন।

সূত্র: এইটিভিডটকম

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস