Alexa সিরাজগঞ্জে জনসম্মুখে সন্তান প্রসব করলেন প্রসূতি

ঢাকা, শনিবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৩০ ১৪২৬,   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

সিরাজগঞ্জে জনসম্মুখে সন্তান প্রসব করলেন প্রসূতি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১৮ ২ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২১:৫১ ২ ডিসেম্বর ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছিলেন সন্তান সম্ভাবা এক মা। কিন্তু হাসপাতালে উপস্থিত চিকিৎসক ও নার্স সবাই মুখ ফিরিয়ে নেন তার থেকে। মুখের উপর বলে দেন এ হাসপাতালে আপনার চিকিৎসা নেই। পরে সেবা না পেয়ে জনসম্মুখে সন্তান প্রসব করেছেন ওই প্রসূতি।

রোববার রাতে সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রুপসাচর এলাকার মো. আব্দুর রহিমের স্ত্রী মোছা. রহিমা খাতুন গর্ভকালীন সমস্যা নিয়ে রোববার রাত ১০টার দিকে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তি হওয়ার পর প্রসবের কোনো ব্যথা অনুভব না হওয়া ও রক্ত স্বল্পতায় ভুগছে এ মর্মে তাকে ১০টা ২০ মিনিটের দিকে চিকিৎসক ছাড়পত্র দিয়ে অন্যত্র ভর্তির নির্দেশ দেন।

ওই সময় চিকিৎসক প্রসব বেদনায় ছটফট করতে থাকা প্রসূতি রহিমা’র চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে ফোনে কথা বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে রোগীর বেদনা আরো তীব্র হলে প্রসূতির স্বামী মো. আব্দুর রহিম গাইনি ও প্রসূতি ওয়ার্ডের দ্বিতীয় তলা থেকে চিকিৎসা না পেয়ে নিচে নামিয়ে হাসপাতালের প্রধান ফটকে নিয়ে আসেন। পরে ইমার্জেন্সির রুমের বাইরে সিএনজিতে ওঠানোর সময় জনসম্মুখেই সন্তানের জন্ম দেন রহিমা খাতুন।

এদিকে খোলা পাকা জায়গায় প্রসব করায় সন্তান গুরুতর আহত হয়। রোগীর স্বজন ও স্থানীয়দের তোপের মুখে প্রসূতি মা ও নবজাতককে শিশু ওয়ার্ড ও রহিমাকে গাইনি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রসূতি ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফাহমিদা খাতুন ও শিল্পী খাতুন বলেন, প্রসূতি রহিমাকে ডা. বনশ্রী শাহা ছাড়পত্র দেয়ায় আমরা তাকে চলে যেতে বলেছিলাম।

এ বিষয়ে প্রসূতি রহিমা খাতুন বলেন, তিনি যখন প্রসব ব্যথায় কাতর তখন হাসপাতালের সেবিকারাও তাকে সাহায্য করতে আসেনি।

এ বিষয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক বনশ্রী শাহা বলেন, রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল হওয়ায় তাকে রেফার্ড করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রমেশ চন্দ্র সাহা বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। প্রসূতির অবস্থা জটিল হওয়ায় চিকিৎসক তাকে ছাড়পত্র প্রদান করেন। তার কর্তব্যে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ