সিনেমা বানাতে গেলে অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে: তৌকির

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

সিনেমা বানাতে গেলে অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে: তৌকির

নুরুল করিম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪২ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১১:৪৪ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

তৌকির আহমেদ

তৌকির আহমেদ

মাত্র দুই পৃষ্ঠার ছোটগল্প ‘বউ কথা কও’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৌকীর আহমেদ নির্মাণ করেছেন ২ ঘণ্টার বেশি দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’। এটিই ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ৫২টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এটি। চলচ্চিত্রটি ও বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি মুখোমুখি হয়েছেন ডেইলি বাংলাদেশ-এর।

চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

আমার বিশ্বাস ছিল ছবিটি মানুষের মন জয় করবে। যারা এখন পর্যন্ত সিনেমাটি দেখেছেন, সবাই প্রশংসা করেছেন।

পরিচালক নয়, দর্শক হিসেবে ছবিটিকে বিচার করুন। দশে কত দিবেন চলচ্চিত্রটিকে?

দশে দশ। কারণ এটি যথেষ্ট বিনোদননির্ভর একটি সিনেমা। বাহান্নর প্রেক্ষাপট বা ইতিহাস হিসেবে ভারি ভাবার কোনো কারণ নেই। এর মধ্যে আনন্দ, বেদনা, হতাশা, বিদ্রোহ, তারুণ্যে উচ্ছ্বলতা সবই আছে। নিশ্চিতভাবে এ ছবির মাধ্যমে দর্শকের বিনোদিত হওয়ার সুযোগ আছে। তাছাড়া এই ছবিতে বেশ ভালো ভালো অভিনয়শিল্পীরা কাজ করেছেন। তাদের অভিনয় আমাকে বরাবরের মতো মুগ্ধ করেছে। সব মিলিয়ে বলব, ফাগুন হাওয়ায় হতাশ করার মতো চলচ্চিত্র না।

এই চলচ্চিত্রের পুরো গল্পটা ওসি জামশেদকে নিয়ে। এই চরিত্রে যশপাল শর্মাকে কি বাড়তি আকর্ষণের জন্য নেয়া হয়েছে?

একজন বদমেজাজি পুলিশ অফিসারের চরিত্রে তার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিল ছবির অন্যতম প্লাস পয়েন্ট! এছাড়া তার অভিনয় নিয়ে তো আর নতুন করে কিছু বলার নেই। সবমিলিয়ে বলবো চরিত্রটির জন্য তিনি একদম উপযুক্ত ছিলেন। আকর্ষণের মতো বিষয়ের প্রতি আমার বিশ্বাস নেই। তাছাড়া আরেকটা বিষয় ছিল, তাকে দেখে যেন মনে না হয়, তিনি এখানকার কেউ নন। এতে চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা অটুট থাকবে বলে আমার মনে হয়েছে। এছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই।

টিটো রহমানের ‘বউ কথা কও’ ছোটগল্প অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়ার গল্পটা জানতে চাই। ভাষা আন্দোলন নিয়ে তো অনেক বড় বড় গল্প আছে...

গল্পটি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ২ ঘণ্টার অধিক দৈর্ঘ্যের ছবিটি বানিয়েছি। এজন্য অনেক কিছু সংযোজন-বিয়োজন ও পরিমার্জন করতে হয়েছে। কেন এটা বাছাই করেছি যারা ছবিটি দেখেছেন তারা ভালো বলতে পারবেন। একটি সিনেমা বানারো সবকিছুই এই গল্পের মধ্যে ছিল। এখানে এমন একটি বিষয় আছে, যা আমাদের আন্দোলনকে খুবই রূপকভাবে স্পর্শ করে। আরেকটি কারণ হলো, গল্পটি ওই সময়ের মফস্বলের গল্প। কারণ ছবি বানাতে গেলে আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে, সুতরাং ঢাকাকে বাহান্নর প্রেক্ষাপটে পুনর্নির্মাণ আমার জন্য খুবই ব্যয়বহুল ছিল। তাই এ গল্পটাকে বেছে নেয়া হয়েছে।

ইতিহাস নির্ভর ঘটনাকে বর্তমান সময়ে সিনেমায় রূপ দেয়াটা আপনার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?

সহজ ছিলো আমি এটা বলবো না। কারণ সেই সময়কার পর্বটা তুলে ধরতে আমাদের বেশ চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে। সময়তো চোখে দেখা যায় না। সেটা বুঝতে হলে সেই সময়কার বাড়ি, গাড়ী, পোশাক, মানুষের কথাবার্তা আচরণ সবকিছুই সেভাবে তুলে ধরতে হয়। একটা চায়ের কাপ থেকে কলম টাইপরাইটার সবকিছুই। তারপরও আমরা খুব চেষ্টা করেছি সেভাবেই করতে।

অনেকেই বলছেন মেধাবী নির্মাতাদের অভাবে ভালো সিনেমা তৈরি হচ্ছে না, এর সঙ্গে আপনি কি একমত?

বর্তমানে চলচ্চিত্রের সার্বিকভাবে নাজুক অবস্থা। শুধু এক দিক নিয়ে বললে ভুল হবে। সিনেমা হল সংখ্যা কমে গিয়েছে, প্রযুক্তিতে তেমন এগুনো যায়নি। যদি সবকিছু ঠিকঠাক হয়, সেই পরিবেশ তৈরি হয় তাহলে আগের গুণী নির্মাতারা আবারও চলচ্চিত্র নির্মাণে এগিয়ে আসবেন এবং নতুন অনেক মেধাবীরাও আসবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে