সিনেমা আমার প্রাণ, রাজনীতি হৃদয়: ফারুক

ঢাকা, বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৫ ১৪২৬,   ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

সিনেমা আমার প্রাণ, রাজনীতি হৃদয়: ফারুক

রাকিবুজ্জামান খান

 প্রকাশিত: ১৬:৩০ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৭:৩৬ ২৬ এপ্রিল ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চিত্রনায়ক ফারুক। চলচ্চিত্রের সবার প্রিয় মিঞা ভাই। আসল নাম আকবর হোসেন পাঠান দুলু হলেও তিনি মিঞা ভাই নামেই সমাধিক পরিচিত। ১৯৬৬ সালে তিনি ছয় দফা আন্দোলনে যোগ দেন এবং সে সময়ে তার নামে প্রায় ৩৭টি মামলা দায়ের হয়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এরপর নানা চড়াই-উৎরাই পার করে রুপালী পর্দার নায়ক হয়ে জয় করে নেন লাখো ভক্তের মন।  

কিংবদন্তী এই নায়কের চলচ্চিত্রে অভিষেক ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। এরপর একের পর এক হিট ছবি দিয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন বাংলা চলচ্চিত্রে অগণিত প্রেমীদের মনে। বাংলা চলচ্চিত্রের এই শক্তিমান অভিনেতা গেল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। নির্বাচনের পর রোববার রাতে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় বিনোদন সংবাদকর্মীদের নিয়ে মিলন মেলার আয়োজন করেন। এ সময় আগামীর পরিকল্পনা, সিনেমার উন্নয়ন ছাড়াও নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। সেই কথোকপথন ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: এখন আপনি তো বর্তমানে সরকারের অংশ, আমাদের চলচ্চিত্রে নানা ধরনের সমস্যা বিদ্যমান, আপনার পরিকল্পনা কী থাকবে? 

ফারুক: সিনেমার উন্নয়নের জন্য মন্ত্রণালয় রয়েছে। এরপরও আমি সিনেমার মিঞা ভাই। সেই জায়গা থেকে চেষ্টা করব সরকারের সঙ্গে থাকার, পাশাপাশি সিনেমার লোকদের সঙ্গে থেকেও কাজ করার। ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে তোমরা খুব ভালো করে অবগত। জায়গাটা খুব ছোট। ছোট জিনিস একটা সময় অনেক বড় হয়ে যায়। যার দরুণ আজকের এই অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। প্রথম বিষয় যেটা, আমার অনুভূতিটা এখন সব থেকে বেশি আসবে, কারণ আমি এখান থেকেই ফারুক হয়েছি। এই ইন্ড্রাস্ট্রি বানিয়েছিল বঙ্গবন্ধু। তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা সাগরের মতো। সেই জায়গা থেকে আমি এই ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে বলার চেষ্টা করব। 

প্রশ্ন: ২৯ বছর ধরে আপনি সিনেমায় নিয়মিত নন, মাঝে দু-একটি ছবিতে দেখা গেলেও ২০০৮ সালের পর আর কোনো ছবিতে আপনাকে দেখা যায়নি। সামনে আবার ক্যামেরার সামনে দেখা মিলবে কি? 

ফারুক: ক্যামেরার সামনে তো আসাই যায়। না আসার তো আমি কোনো বাধা দেখি না। আমাদের চলচ্চিত্রে যে সমস্যাগুলো হচ্ছে, তা যদি আমি খুলে বলি- ওই পুরোনো কথাই, ডিজিটাল সিস্টেমে আমরা শুটিং করি। কিন্তু দেখাতে পারি না। টু কে রেজুলেশনের প্রোজেক্টর মেশিনের সমস্যা। এগুলোর যদি সমাধান হয়, আবার ব্যাংক থেকে অল্প ইন্টারেস্টে যদি সিনেমা হলমালিক ভাইয়েরা লোন পান, তাহলে সিলভার স্কিন ও সাউন্ড সিস্টেম নবায়ন করা যাবে। অনেক প্রযোজক আছে কাজ করতে চায়। এসব সমস্যার কারণে কাজ করেন না। এগুলোর যদি সমাধান হয়, তাহলে আবার আমাদের ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াবে। 

এখানে আরো একটা কথা আছে- গল্পের অভাব। আমরা অভ্যস্থ হয়ে গেছি যে, একটা সুন্দর কিছু পেলাম, ব্যাস ওইটা নিয়েই ছবি বানিয়ে ফেললাম। নিজের চিন্তা থেকে গল্প তৈরি করব, যাতে এখান থেকে বা সেখান থেকে নিতে না হয়। তাহলেই আমাদের চলচ্চিত্র আবারো ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি এখনো চলচ্চিত্রের ১৮টি সংগঠনের আহ্বায়ক। আমি প্রায়ই বলি, তোমারা ভালো ছবি বানাও। এই কথা বলে আবার আমিই ভাবি, এই ছবি চালাবে কোথায়? 



আমরা আগে যখন এনালগ সিস্টেমে ছবি বানাতাম তখন আমরা অনেক কষ্ট করেছি। আমি জীবনে প্রথম যেদিন দেখলাম ট্রলি কীভাবে বানানো হয়, দেখি পাইপ দিয়ে বানানো হয়। তারপর লেন্স, জুম- এগুলোতো কোম্পানি অটোমেটিক বানিয়ে দেয়। এখন সব ডিজিটাল। হাতের মুঠোয় সব কিছুই চলে এসেছে। যার কারণে আমরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারছি। এই করতে গিয়ে আমরা অনেক কিছুই করতে পারছি না।

প্রশ্ন: কেন পারছেন না?  

ফারুক: প্রথমত, তুমি যে জিনিসটাকে তৈরি করবে সেটাকে যদি স্কিনে না দেখ তাহলে তোমার যে আবেগ, সেটা কিন্তু মারা যাবে। আর যখন দেখতে পাবে, তখনই তোমার অনুভব হবে কি বানালাম। সামনে আরো বেটার বানাবো। 

দ্বিতীয়ত, চলচ্চিত্র আমরা যেভাবে বানিয়েছি, এখন কি সেভাবে হয়? মানে, সময় ৪৫-৬০ শিফটে একটা ছবি হয়। সেই জায়গায় এখন ক্যামেরায় টিপ দিলেই অনেক কিছুই হয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল সিস্টেমে। যার কারণে ৪৫-৬০ শিফট মানুষ দেখে না। এখন ১৫-২০ শিফটে ছবি বানিয়ে ফেলে। আমার মনে হয় এটা ঠিক না। একটু বুঝেশুনে ধরে বানানো উচিত। আর সিনেমা হলের ঘরটা বাদে ভিতরের সব কিছু চেঞ্জ করতে হবে। এর জন্য খুব বেশি খরচও হবে না। আশা করি, এই সমস্যাগুলো শিগগিরই সমাধানে আসবে। 

প্রশ্ন: সেন্ট্রাল সার্ভার?

ফারুক: সার্ভার তো ওটার সঙ্গেই থাকে। আর সেন্ট্রাল সার্ভারের কথা বললে, সেটা কে করবে? মানে ঘণ্টা কে বাজাবে? কারণ দেখা গেল আরো পাঁচ বছর চলে গেল। সেন্ট্রাল সার্ভারের একেকটার দাম হলো ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকা। যদি সরকার দেয়, তাহলে হবে। আর আমার দাবি কিন্তু সার্ভারের ছিল না। প্রজেক্টর মেশিন, আর সিনেমা হলের মালিকদের কিছু টাকা দেয়া। প্রজেক্টর প্রতিটি মেশিনের সঙ্গে একটি করে সার্ভার থাকে। যেটা থাকলে কোনোদিন একটি সিনেমা নকল করা যাবে না। পাইরেসি করার কোনো উপায় থাকবে না যদি রেজুলেশনের মেশিন আনা হয়। আমাদের যেটা নাই বললেই চলে। এটি এখন পর্যন্ত দুয়েক জায়গায় আছে। তাও ব্যক্তিগতভাবে এনে চালায়। আমি আশা করি, এই সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে। 

প্রশ্ন: একটু আগের প্রসঙ্গে যাচ্ছি, যদি আপনাকে ক্যামেরার সামনে দেখতে চায় তাহলে চাহিদাটা কেমন থাকবে?

ফারুক: আমার চাহিদা থাকবে গল্প, ক্যারেক্টার, এবং মেশিন। কারণ আমি কাজ করলাম, আর তা যদি পর্দায় দেখতে না পাই তাহলে তো করবো না। মাঝখানে আমার একটা ছবি করার খুব শখ হয়ে গিয়েছিল। একটা যুবক ছেলে এসে বললো- ফারুক ভাই আপনিতো ছবি করবেন না। আমি বললাম, দেখো ভাই আমার অভাব থাকলেও সব ছবিই এখন করতে চাই না। আগে গল্পটা বলেন...। শুনলাম ...শুনে গল্পটা আমার ভীষণ ভালো লাগে। বললাম বাহ! কিন্তু চিন্তা করলাম এটা ওর  চিন্তা থেকে বানানো? না অন্য কোথাও থেকে নেয়া? খুঁজে পেলাম, কিছুটা ওর  নিজের নেয়া আর কিছুটা অন্য কোথাও থেকে নেয়া। তারপরও গল্পটা যা সাজিয়েছে, আমার কাছে ভালো লেগেছে। ভালো লাগার কারণেই আমি বেশি ভালো বললাম না। বললাম তোমার গল্পটাতো মোটামোটি ভালো। যদি বলতাম খুব ভালো তাহলে বলতো ভাই অভিনয় করেন। আমি বললাম গল্পটা নিয়ে তুমি আরো কিছু করো, ভালো হবে। দুইটা চরিত্র আমি ছাড়াও আরেক জনের নাম বললো, আমি শুনে বুঝলাম এই ছেলে পারবে। পরে ওকে সাজেশন দিলাম এই এই ভাবে বানাও। যদি তুমি হল পাও তাহলে গত ১০-১৫ বছরেও এই রকম ব্যবসা সফল ছবি আর হয়নি। তোমারটিই ব্যবসা সফল হবেই। কিন্তু সে করে নাই। বেশি বুঝে ফেললে তো মুশকিল। আমি যেভাবে বলছিলাম সে ওই ভাবে করবে না। 

প্রশ্ন: মাঝে আপনি তিনটা ছবি বানাবেন বলেছিলেন, ছবিগুলোর ভবিষ্যত কী? 

ফারুক: এটার ভবিষ্যত একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। তোমরা বুঝো না। অভিনয়ের ভবিষ্যত যেটা সিনেমারও তাই। আমি আমার কষ্টের টাকা দিয়ে ছবি বানাবো, তোমরা পয়সা দিয়ে দেখবা না তাহলে আমি ছবি বানাবো কেন? আমার ছবি আমি দেখাতে পারবো না তাহলে আমি ছভি বানাবো কেন? 

যে ইমেজটা আল্লাহ পাক দিয়েছেন আমি সেই জায়গাতেই থাকতে চাই। গাজী ভাইকে নিয়ে গান করতে চেয়েছিলাম। আমজাদ ভাইকে নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমজাদ ভাই চলে গেলেন। আমরা মাঝে মাঝে আলোচনা করতাম নতুনদের কী দিতে পারি। কী কাজ করতে পারি নতুনদের নিয়ে। এখন সেই সোফাটা খালি পড়ে থাকে। উনি (আমজাদ হোসেন) আমাকে বলতেন মিঞা ভাই আমাদের সংসারটা (ইন্ডাস্ট্রি) আমি বেশি দিন চালাতে পারিনি, টেকেনি। আমি বলতাম ঠিক বলছেন। আগের ফারুক আর আমজাদ আগের জায়গায় নেই। আমজাদ ভাইয়ের ছবিতে আবেগ ইমোশনের সংমিশ্রণ থাকত সমান তালে। বলতে গিয়ে উদাহরণ টেনে বলেন- এই যে ‘কষাই’ সিনেমায় ইমোশন আর রোমান্টিকতা কতটা সুন্দর! তিনি কীভাবে যে এগুলো ফুটিয়ে তুলতেন তা বলে বোঝানো যাবে না। 

প্রশ্ন: ঢাকার একজন এমপি হিসেবে সংসদে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে ভূমিকা কি থাকবে?

ফারুক: এটা একটা কঠিন প্রশ্ন। ঢাকার একজন এমপি হিসেবে অনেক সাবধানে পা ফেলতে হয়, কথা বলতে হয়। আমি কখনো পার্লামেন্টেই গেলাম না, সেখানে কী কী হয় সেটা আমরা দেখি টেলিভিশনের পর্দায়। যা সিনেমায় দেখার মতো। এখানের কাজটা বেশ কঠিন। সে জায়গাতে এখনো যেতে পারি নাই। সেখানে যাওয়ার আগেই বলা যাবে না, ওই স্কোপগুলো কতটুকু পাওয়া যায়। যদি সে রকম স্কোপ পাই অবশ্যই বলবো। 

একটা কথা কি জানো, সন্তানদের অনেক আশা থাকে বাবার কাছে। কিন্তু তাদের বোঝার মতো ক্ষমতা থাকতে হবে। বাবার আর্নিং কতটুকু আছে? কতটুকু রোজগার আছে সেটাও কিন্তু ভাবতে হবে! এখানে আমি একটা কথা বলব, আমি যে আসনের (ঢাকা-১৭); এ আসনে অনেক কাজ করার আছে। সে জন্যই কিন্তু এখানকার মানুষর আমাকে ভোট দিয়েছেন। আমি বলেছিলাম নৌকা আমার, এই যে দাবি এর ওপরে তাদেরও দাবি আছে। 

প্রশ্ন: আপনার আসনে কোনো সিনেমা হল নেই, এখানকার লোকজন সিনেমার বিনোদনটা তো ঠিক মতো পাচ্ছে না...

ফারুক: আমার এলাকায় প্রতিটি জায়গায় আমি গিয়েছি, হেঁটেছি, দেখেছি। এখানে একটা থিয়েটারও নেই। একটা সিনেমা হলও নেই। ভাষানটেক অনেক বড় এলাকা। তিনটা এলাকাতেই অনেক কাজ করার রয়েছে। এলাকায় যখন ঘুরলাম, তখন দেখলাম, সিনেমায় আমি যে রকম ক্যারেক্টার করে মানুষের কাছাকাছি চলে গেছি, সেই জিনিসগুলো আমার চোখে পড়েছে। সিনেমার মানুষ আমার কাছে অনেক আশা করে। কিন্তু সিনেমার মানুষ হিসেবে আমি সংসদে যাইনি। আমি এখানে গিয়েছি এদেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে। সিনেমার জায়গাটা আমাকে প্লাস করেছে। তা না হলে ১৭ থেকে ১৮ দিনের চেষ্টায় একজন মানুষ এই জায়গায় আসতে পারে না। সে কারণেই আমি বলেছিলাম ‘সিনেমা আমার প্রাণ আর ঢাকা-১৭ আমার হৃদয়’। দুটো জায়গা নিয়েই আমি খুব ঝামেলায় থাকব বলে মনে হয়। আমার জায়গা যখন বলবে, তখন আমি ঢাকা-১৭ এর কথাই বলব। আবার যখন ফিরে আসব, তখন আবার সিনেমায় কথা বলবো। এখন আমার প্রথম কাজ হচ্ছে মানুষের কাজ করা। মানুষের কথা বলার পর যদি সুযোগ হয় তখন আমি সিনেমার কথা বলব। 

প্রশ্ন: সিনেমার মানুষদের একসঙ্গে কাজের যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, এখন সেই জায়গাটায় কীভাবে কাজ করবেন?

ফারুক: একটা কাজ করতে গেলে সবাই মিলেমিশে করলে ভাল হয়। ধরতে গেলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি একটা ভাঙা ঘর; আমি বলবো- সবাই মিলে এই ভাঙা ঘরটাকে আগে তোমরা তৈরি করো। এতে কেউ যদি সাড়া না দেয় আমার কিছু করার নেই। এমন না যে আমার কথা আমি ফেলে দিলাম! আমি আবারো আহ্ববান জানাব সবাই মিলেমিশে একসঙ্গে কাজ করো। তাহলে কিছু হবে। 

প্রশ্ন: ২০১৮ সালে ৫৬টি ছবি মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু নির্মাণে গাফলতি দেখা গেছে। আপনার দৃষ্টিতে আপনাদের সময়ের তুলনায় এখনকার নির্মাতাদের মধ্যে কোনো কিছুর কমতি লক্ষ্য করেন কিনা?

ফারুক: নির্মাতারা তো নির্মাণ করেন। একেকটা নির্মাতার মাঝে যে বিষয়গুলো ছিল, তার সবই আছে। কিন্তু যে খামতি পাই সেটা হলো- গল্পের একটা ব্যাপার আছে। যেমন ডায়লগ এখন দেখি খুব রিচ। কিন্তু এরপরও একটা দুটো ভালো হচ্ছে। আগে যেটা হতো সিনেমা হলমালিকরাই সিনেমা বের করতো পারত না। আর এখন পরের সপ্তাহে ছবি পাবে কিনা, সেই অভাবে ভোগে। এটার একমাত্র কারণ হলো গল্প, মেকিং এবং জনগণের চিন্তাধারা। এমন একটি গল্পে কাজ করতে হবে যাতে সিনেমা কমপক্ষে চারটি সপ্তাহ হলে থাকে। তাহলে পুরো ইন্ড্রাস্টিই ভালো থাকবে। নির্মাতা, কলাকুশলী, হলমালিক... সবাই। অন্যদিকে আমজাদ হোসেন, খান আতা, নারায়ন দা এদের সঙ্গে এখনকার কারো মিলিয়েও লাভ হবে না। 

প্রশ্ন: রাজনীতিবিদ ফারুক আর নায়ক ফারুকের সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে?

ফারুক: দেখো, আমি গত ২৯ বছরে ৩-৪টি ছবিতে অভিনয় করেছি। যখন আমি সিনেমার কোনো কাজ নিয়ে থাকবো তখন সেটাই করব। আর যখন জনগণের কাজ করব, তখন সেটাই করবে। একটা আরেকটার ওপর প্রভাব ফেলবে না। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ/জেডআর/এসআই