সিডারের অনুকরণীয় মহৎ উদ্যোগ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৪ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪১

Akash

সিডারের অনুকরণীয় মহৎ উদ্যোগ

শফিকুল বারী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৫ ২৪ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৮:৪৯ ২৪ মার্চ ২০২০

সিডার’র লোগো

সিডার’র লোগো

বর্তমান বিশ্বের বিভীষিকা নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকার শুরু থেকেই সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ করোনা যুদ্ধে লড়তে এক মহৎ উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি সেবা সংস্থা কনসার্ন ফর এনভায়রনমেন্টাল ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ (সিডার)। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এটি একটি অনুকরণীয় মহৎ উদ্যোগ।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিডারে কর্মরত সব কর্মকর্তা ও কর্মীদের আর্থিকসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সংস্থার পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২২ মার্চ সিডার’র নির্বাহী পরিচালকসহ ৯৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মার্চ মাসের বেতন পরিশোধের জন্য ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। যা আগামী ২৫ মার্চ এর মধ্যেই সবাই উত্তোলন করতে পারবেন। এছাড়া বাজারের দ্রব্যমূল্যসহ সাম্প্রতিক ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা হিসেবে সিডার’র সারাদেশের সব স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এককালীন পাঁচ হাজার টাকা করে বিশেষ ভাতা দেয়া হয়েছ। একইসঙ্গে সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচেতনাতামূলক নির্দেশনা মেনে চলতে বিশেষভাবে সবাইকে বলা হয়েছে।

এদিকে সরেজমিনে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে উল্টো চিত্র। সরকার আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠানই এই বন্ধের আগে বেতন ভাতা দিচ্ছে না। অনেকেই করোনা বিপর্যয়ের কারণে কর্মী ছাঁটাইয়ের চিন্তাও করছে বলে জানা গেছে।

সিডার’র পোস্টার

সোহাগ নামে এক পোশাক কর্মী বলেন, এ মাসের বেতনের বিষয়ে মালিক বলেছেন নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ আগামী মাসের ৮/৯ তারিখে দেয়া হবে। এখন নওগাঁয়ে দেশের বাড়ি যাবো কেমনে সে চিন্তায় আছি। অফিস-আদালত বন্ধ থাকলে কাজও থাকবে না।

এ বিষয়ে পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মইনুদ্দিন আব্দুল্লাহ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ‘এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। সিডার আমাদের পার্টনার প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি এর আগেও প্রয়োজনে দেশব্যাপী বিভিন্ন সেবায় এগিয়ে এসেছে। সিডারের এই উদ্যোগ একটি অনুকরণীয় উদ্যোগ। দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাই এভাবে এগিয়ে এলে দ্রুত দেশ যেকোনো বিপর্যয় থেকে পরিত্রাণ পাবে।’

সিডারের নির্বাহী পরিচালক শফিকুল আলম একান্ত আলাপে ডেইলি বাংলাদেশকে কামিনী রায়ের লেখা থেকে উদৃত করে বলেন, ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’ দেশে প্রথম করোনা আক্রান্তের বিষয়টি জানার পর থেকেই আমরা করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেই। পরে ২২ মার্চ সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা হয়। এরমধ্যেই এ মাসের বেতন ও বিশেষ ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিডারের সব কর্মকর্তা ও কর্মীকে নিজ কর্মস্থলে থেকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করাসহ সংস্থার সব উপকারভোগীদের সচেতন করতে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অপরদিকে, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় সংস্থা তার সব কর্মকর্তা-কর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, কোনো কারণে সিডারের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হলেও সব কর্মকর্তা কর্মীদেরকে তাদের মাসিক বেতন নির্ধারিত সময়ে দেয়া হবে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় না করতে সবাইকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলারিটি অথরিটির নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অমেলেন্দু মুখার্জি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। বিষয়টি এখনো বিস্তারিত জানি না। নিজ উদ্যোগে সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সিডার। তবে সিডার পরবর্তীতে এ বিষয়ে কোনো অনুমোদন চাইলে অবশ্যই আমরা দেব। সিডারের মতো সবাই একযোগে কাজ করলে দেশের যেকোনো দুর্যোগ বা বিপর্যয় মেকাবিলা করা সহজ হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসবি/এআর/এমআরকে