Alexa সিগারেটের দাম বাড়ায় ভিন্ন পথে তরুণরা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ২ ১৪২৬,   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

সিগারেটের দাম বাড়ায় ভিন্ন পথে তরুণরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:২৮ ১৬ জুন ২০১৯  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

ফাহিমের (ছদ্মনাম) বয়স ১৭ বছর। তিনি রাজধানীর একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই সিগারেটের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন তিনি। প্রথমদিকে ২/৩টা সিগারেটে চাহিদা মিটলে বর্তমানে প্রতিদিন ৮/৯টারও বেশি প্রয়োজন হয় তার। এদিকে আগামী অর্থবছরের (২০১৯-২০) বাজেট পাস হওয়ার আগেই পাইকারি ও খুচরা বাজারে বেড়েছে সিগারেটের দাম। তা নিয়ে ফাহিম বেশ চিন্তায় পড়ে যান। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স থেকে ইলেকট্রিক সিগারেট কেনেন তিনি। ফাহিম জানান, এখন আর প্রতিদিন সিগারেটের টাকা জোগাড় করতে কোনো চিন্তা করতে হবে না।

ফাহিমের মতো অনেক ধূমপায়ী তরুণই এখন ইলেকট্রিক সিগারেটের দিকে ঝুঁকছেন। মূলত সিগারেটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই এমটা ঘটছে। রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার তরুণ সাকিবের সঙ্গে কথা হয় একটি চা-সিগারেটের দোকানে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি ছাত্র মানুষ এত টাকা পাবো কোথায়। বাসা থেকে টাকা পাঠায়, সেই টাকায় সারা মাস চলতে হয়। এর আগে একটি বেনসন সিগারেটের দাম ছিল ১০ টাকা, সেখান থেকে হয়েছে ১২ টাকা, এখন হয়েছে ১৫ টাকা। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে অন্য ব্যবস্থা করতে হবে।

রাজধানীর নিউ মার্কেটে ই-সিগারেট বিক্রি করেন জামিল হোসেন। তিনি বলেন, এ সপ্তাহে আমাদের বিক্রি বেড়েছে। সিগারেটে দাম যদি এভাবে বাড়তে থাকে তাহলে আমাদের বিক্রিও বাড়বে। আমাদের বেশিরভাগ ক্রেতাই ছাত্র। তারা একবার কিনে নেয়, আর কোনো খরচ নেই। মাঝে মধ্যে নিকোটিন ঢোকানো লাগে শুধু।

মূলত ই-সিগারেট হল বিশেষ একধরনের যন্ত্র। যার মাধ্যমে ধূমপায়ী ব্যক্তি ধূমপানের অনুভূতি পেয়ে থাকেন, এটা ব্যাটারি চালিত এমন এক ডিভাইস, যা দেখতে সিগারেটের মতো। ই-সিগারেট প্রস্ততকারীদের মতে, এতে শুধু নিকোটিন স্বল্প পরিমানে থাকে যা শুধু ধুমপায়ীদের সিগারেটের অনুভূতি দেয়, কিন্তু শরীরের তেমন কোনো ক্ষতি করে না।

ই-সিগারেট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এর গুণগান গাইলেও এখনো এর ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক কম নয়। গবেষকেরা এখনো ই-সিগারেট সেবনের কুফল নিয়ে গবেষণা অপ্রতুল বলেই মনে করেন। জার্মানির একদল গবেষকের মতে, নিরাপদ নয় ই-সিগারেটও। ফ্রানহোফার ইনস্টিটিউটের গবেষকদের দাবি, প্রচলিত তামাকের সিগারেটের বিকল্প হিসেবে যে ই-সিগারেট গ্রহণ করা হয়, তাতে উদ্দীপনা ছাড়া আর কোনো তফাত নেই। ই-সিগারেটের বাষ্পও বাতাসে অ্যারোসলের মতো আলট্রাফিন ছড়ায়, যা ফুসফুসে প্রবেশ করে একটি আবহ তৈরি করে এবং সেখান থেকে বের হতে সময় নেয়।

অনেক দেশে নিষিদ্ধ হলেও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেই ই-সিগারেট একটি চলতি বিষয়। বাংলাদেশেও এর ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। যুক্তরাজ্যে ই-সিগারেট বিক্রি শুরু হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা৷ অনেকেরই ধারণা, কোনো কোনো ই-সিগারেটে নাকি বেশ ভালো পরিমাণেই নিকোটিন দেওয়া হয়, ফলে ধূমপানের ক্ষতি এড়ানোর বদলে নতুনভাবে ক্ষতিকর এ নেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে মানুষ৷

বর্তমানে রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখন ইলেকট্রিক-সিগারেট পৌঁছে যাচ্ছে মুহুর্তেই। একটু স্টাইলিস্ট কিংবা উন্নত ধরণের নেশা এটা। ক্রমশ এই স্টাইলিস্ট ইলেকট্রিক সিগারেট যুবক ও তরুণ প্রজন্মের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। অন্যান্য নেশার মাঝে আরো একটি অত্যাধুনিক নেশা যোগ হলো। সুতরাং এই মরণব্যাধি ইলেকট্রিক সিগারেটের হাত থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে হলে ইলেকট্রিক সিগারেট সম্পর্কে সকলকে এখনই সচেতন হতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে