সিগন্যালের কথা শুনলেই আঁতকে ওঠেন তারা

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

সিগন্যালের কথা শুনলেই আঁতকে ওঠেন তারা

পিরোজপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৮ ২০ মে ২০২০   আপডেট: ১৬:৫৩ ২০ মে ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সাইক্লোন, টর্নেডো ও সিডরের নাম তারা শুনেছেন। এবার নতুন করে শুনলেন ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের নাম। নাম শুনেই সপরিবারে আত্মরক্ষার জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠেছেন তারা। সর্বদা কান খাড়া রাখছেন সর্বশেষ সিগন্যালের খবরে।

পিরোজপুরের ইন্দুরকানির চারখালী গুচ্ছগ্রামের জীবন চিত্র এখন অনেকটা তেমনই।

মঙ্গলবার ওই গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা বলেন, আবহাওয়া অফিসের বিপদ সংকেতের কথা শুনলেই ভয়ে বুক আঁতকে উঠি আমরা। কারণ যতবারই ঝড়-তুফান আসে ততবারই আমরা সব হারিয়ে নিঃস্ব হই। ঝড়-তুফান আমাদের জীবন তছনছ করে দিয়ে যায়। আমরা প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছি। আমাদের রক্ষার জন্য বলেশ্বর নদীতে নেই কোনো টেকসই বাঁধ। ঝড়ের কবল থেকে বাঁচতে নেই কোনো পাকা ঘর।

২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া ও ইন্দুরকানি উপজেলায় ৩৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বলেশ্বর নদ তীরবর্তী খেতাছিড়া, কচুবাড়িয়া, হোগলপাতি, সাংরাইল, মাঝের চর, চর ভোলমারা, বড়মাছুয়া, খেজুরবাড়িয়া, ছোটমাছুয়া গ্রাম নিয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা।

কচা নদীর তীরবর্তী হরিণপালা, চরখালী, নদমূলা, দারুলহুদা, ভিটাবাড়িয়া গ্রাম নিয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা। 

বলেশ্বর নদের তীরে চারাখালী, ইন্দুরকানি, ঢেপসাবুনিয়া, চর বলেশ্বর, চন্ডিপুর, সাউদখালীর চর ও পানগুচি নদীর তীরের খোলপটুয়া গ্রাম  নিয়ে ইন্দুরকানি উপজেলা।

এ উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছেন। বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জলোচ্ছ্বাস হলে বাড়ি ঘর ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ছয় মাস আগে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বাড়ি–ঘরের ব্যাপক ক্ষতি করে গেছে। সেই ক্ষতিই কাটিয়ে উঠা সম্ভব হচ্ছে না। এর উপর চলছে করোনার প্রভাব। এরইমধ্যে আবার আসছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। এ হতাশা প্রকাশ করেন মঠবাড়িয়া উপজেলার খেতাছিড়া গ্রামের অধিকাংশ জেলে। 

ইন্দুরকানির কয়েকজন বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে হয়ত আমরা প্রাণে বাঁচব। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের ঘর–বাড়ি, গাছপালা ও ফসলের যে ক্ষতি হবে, তা কীভাবে কাটিয়ে উঠব। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পিরোজপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, মঠবাড়িয়া  ও ইন্দুরকানি বাঁধের কিছু স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। তা মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া বড়মাছুয়া বেড়িবাঁধের জন্য কাজ শুরু করা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/এমকে