Alexa সায়েমের লাশকে কঙ্কাল বানাতে হাত-পা কেটে ড্রামে ডুবিয়ে রাখে মা-ছেলে

ঢাকা, বুধবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১৩ ১৪২৬,   ০২ রজব ১৪৪১

Akash

সায়েমের লাশকে কঙ্কাল বানাতে হাত-পা কেটে ড্রামে ডুবিয়ে রাখে মা-ছেলে

রাজধানী ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪৪ ৩ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২২:০০ ৩ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

প্রেমিকাকে পাওয়ার জন্য সায়েম হোসেনকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গলাটিপে হত্যা করা হয়। পরে হাত-পা কেটে ড্রামের ভেতর পেট্রোল ও লবণ দিয়ে ১৯ দিন রেখে কঙ্কাল বানানোর বর্ণনা দিল ঘাতক ও তার মা। ঢাকার ধামরাইয়ে এ ঘটনা ঘটে।  

বৃহস্পতিবার রাতে সাভার ও ধামরাই থেকে নিহত সায়েম হোসেনের প্রতিবেশী লিটন মিয়া ও তার মা নুরজাহান বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার আদালতে ১৬৪ ধারায় এমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধামরাই থানার এসআই শেখ সেকেন্দার আলী এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, এ হত্যাকাণ্ডে আরো যারা জড়িত তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

গত বছরের ৬ জুলাই পত্রিকায় সায়েমের কঙ্কাল উদ্ধার নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়।

জানা গেছে, ধামরাইয়ের গাংগুটিয়া ইউনিয়নের মারাপাড়া গ্রামের আজিবর রহমানের ছেলে লিটন মিয়া পাশের সাটুরিয়া উপজেলার জান্না গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিছুদিন পর লিটন মিয়া তার প্রতিবেশী আব্দুল খালেকের ছেলে সায়েম হোসেনকে ওই মেয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। লিটনের আচরণ ভালো না হওয়ায় মেয়েটি লিটনকে ছেড়ে সায়েমকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। 

বিষয়টি লিটন মিয়া জানতে পেরে সায়েমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত বছরের ১৪ জুন রাতে লিটন অন্যের মোবাইল ফোন দিয়ে কল করে সায়েমকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। এ সময় লিটন, তার মা নুরজাহান বেগমসহ আরো কয়েকজন মিলে সায়েমকে গলাটিপে হত্যার পর তার হাত-পা কেটে একটি বড় ড্রামে রাখেন। 

ড্রামের ভেতর পেট্রোল ও লবণ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। ১৬ জুন সায়েমের নিখোঁজের কথা উল্লেখ করে তার বাবা আব্দুল খালেক ধামরাই থানায় একটি জিডি করেন। ২ জুলাই সন্দেহবশত লিটনের বন্ধু প্রতিবেশী মাদকসেবী রবিনকে আটক করে পুলিশ। 

এরই মধ্যে সায়েমের লাশ গলে কঙ্কাল হয়ে যায়। ১৯ দিন পর ড্রামের ভেতর রাখা সায়েমের কঙ্কাল ৩ জুলাই রাতে ধামরাইয়ের গাংগুটিয়া ইউনিয়নের মারাপাড়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ভিটায় ফেলে দেন লিটন। ৫ জুলাই সকালে স্থানীয় লোকজন খণ্ড খণ্ড কঙ্কাল দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। 

পুলিশ ওই সময় কঙ্কালের পাশ থেকে সায়েমের প্যান্ট ও গেঞ্জির কিছু কাটা অংশ উদ্ধার করে। এতে কঙ্কালের খণ্ডগুলো সায়েমেরই বলে পরিবারের লোকজন শনাক্ত করেন। এরপর লিটন মিয়া এলাকা থেকে গা ঢাকা দিলেও তার মা নুরজাহান বেগম বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু নিখোঁজ হওয়ার ২১ দিনের মধ্যে সায়েমের লাশ কঙ্কাল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে পুলিশসহ এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।

ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ সেকেন্দার আলী দীর্ঘ ৬ মাস বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বৃহস্পতিবার রাতে সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে লিটন মিয়াকে গ্রেফতার করেন। তার স্বীকারোক্তি নিয়ে রাতেই ধামরাইয়ের মারাপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে তার মা নুরজাহান বেগমকেও গ্রেফতার করা হয়।

শুক্রবার পুলিশ তাদের আদালতে পাঠালে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠান।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ