Alexa সাড়ে ৮ লাখ টাকা দিয়েও হলো না চাকরি, কাঁদলেন প্রার্থী

ঢাকা, বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৫ ১৪২৬,   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

সাড়ে ৮ লাখ টাকা দিয়েও হলো না চাকরি, কাঁদলেন প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:১৬ ১৬ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরে একটি স্কুলে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাড়ে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। 

ভুক্তভোগী চাকরি প্রার্থী নূর ইসলাম দীর্ঘদিন ঘুরেও টাকা ফেরত না পেয়ে মঙ্গলবার যশোর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার বাড়ি সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামে।

এদিকে নানা তালবাহানায় টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযুক্তরা হলেন- সদর উপজেলার রুপদিয়া ওয়েলফেয়ার একাডেমির সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন ও প্রধান শিক্ষক বিএম জহিরুল পারভেজ।

জানা গেছে, নূর ইসলামকে ওই স্কুলে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে চাকরি পাইয়ে দেয়ার কথা বলা হয়। পরে ওই পদে অন্যকে নিয়োগ দিলেও টাকা ফেরত দেননি।

সংবাদ সম্মেলনে কাঁদতে কাঁদতে ভুক্তভোগী নূর ইসলাম জানান, চাকরি না হলে টাকা ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ঘুরেও টাকা ফেরত পাওয়া যায়নি। বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। টাকার অভাবে প্রতিবন্ধী সন্তান ও অসুস্থ বাবার চিকিৎসা করাতে পারছেন না। 

এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে স্কুলের সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বলেন, চাকরির নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ বানোয়াট। আমাদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের লোকজন মিথ্যাচার করছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নূর ইসলাম বলেন, ২০১৫ সালের ৬ মার্চ সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে প্রথম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর চাকরি দেয়ার কথা বলে বিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন ও প্রধান শিক্ষক বিএম জহিরুল পারভেজ আমার কাছ থেকে সাত লাখ টাকা নেন। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবেই তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়োগ বোর্ড গঠন করেননি। পরবর্তীতে একই বছরের ১০ অক্টোবর দ্বিতীয়বারের মতো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। সেইবারও নিয়োগ বোর্ড গঠন করেননি।

ভুক্তভোগী আরো বলেন, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২০ জুন তৃতীয়বারের মতো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে বোর্ড গঠন করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাও নেয়া হয়েছিল। পরীক্ষায় আমি প্রথম হই। কিন্তু সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফল প্রকাশ করতে গড়িমসি করেছিলেন। 

তারা আমাকে জানান, আপনার চাকরি হবে। তবে রেজ্যুলেশন করতে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা লাগবে। শিক্ষা অফিসার ও নিয়োগ বোর্ডের কর্মকর্তারা টাকা ছাড়া রেজ্যুলেশনে স্বাক্ষর করবেন না। পরে টাকা দেয়ার কিছুদিন পর জানতে পারলাম ওই পদে চিন্তা সেন নাম একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

নূর ইসলাম বলেন, সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক দুই দফায় আমার কাছ থেকে সাড়ে আট লাখ টাকা নিয়েছেন। তাদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে নানা ধরনের তালবাহানা করতে থাকেন। সর্বশেষ তারা টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করছেন। তবে চাকরির জন্য টাকা দেয়ার সময় স্বাক্ষী ছিলেন সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেনের ছোট ভাই ফেরদৌস, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর মোমিন উদ্দিন, নজরুল ইসলামসহ আরো অনেকে।

তিনি বলেন, চাকরি পাওয়ার আশায় জমিজমা বিক্রি করে সাড়ে আট লাখ টাকা দিয়েছি। বর্তমানে আমার বাবা ও ছেলে প্রচণ্ড অসুস্থ। অর্থাভাবে তাদের চিকিৎসা করাতে পারছি না। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এসএম আকরাম হোসেন, সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অশোক কুমার বোস, যুগ্ম আহ্বায়ক মাযহারুল ইসলাম প্রমুখ।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর