Alexa সারচার্জ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় করা যাচ্ছে না!

ঢাকা, সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৫ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

সারচার্জ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় করা যাচ্ছে না!

 প্রকাশিত: ১৩:৫০ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭   আপডেট: ১৭:০৭ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

এখনও চূড়ান্ত হয়নি স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ নীতিমালা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নীতিমালাটির খসড়া চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠালেও তা বৈঠকে উত্থাপন করেনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। খসড়াটি কবে মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের জন্য বৈঠকে উত্থাপন করা হবে, তাও জানেন না সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘খসড়াটি যদি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এসে থাকে তাহলে অবশ্যই তা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যথাসময়েই তা মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।’ তবে কবে নাগাদ তা অনুমোদন পেতে পারে সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি।

এর আগে, সারচার্জ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয়ের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি খসড়া ‘স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ব্যবস্থাপনা নীতি’ প্রণয়ন করা হয়। খসড়াটির ওপর মতামত চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ৯টি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সারচার্জের অর্থে দেশব্যাপী জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন না পাওয়ায় আদায় করা অর্থ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

জানা যায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে করা খসড়াটি গতবছরের ডিসেম্বরে ওয়েবসাইটে প্রকাশের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এটি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে অনুমোদন পায় এবং খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদের। তিনি বলেন, ‘আশা করছি খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যেকোনও এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হতে পারে।’

জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘যতদূর জানি, স্বাস্থ্যখাতে আদায়কৃত সারচার্জ সঠিক খাতে ব্যবহারের জন্য তৈরি নীতিমালার খসড়ায় মতামত ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাবে।’

তামাক বিরোধীদের মতে, সারচার্জ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন) একটি ‘ন্যাশনাল টোব্যাকো কন্ট্রোল প্রোগ্রাম’ পরিচালনা করতে পারে, যা দেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত কর্মসূচি (গবেষণা ও প্রচারাভিযান) বাস্তবায়ন, নিকোটিন আসক্তদের আসক্তি মুক্ত করার কর্মসূচি বাস্তবায়ন, তামাক চাষে নিয়োজিত কৃষক ও তামাক পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, তামাক কোম্পানিগুলো প্রতিবছর লক্ষাধিক কর্মক্ষম জীবন কেড়ে নিচ্ছে, পঙ্গু করে ফেলছে প্রায় চার লাখ মানুষকে। তামাকবিরোধীদের আন্দোলন ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে ১ শতাংশ হারে স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপ করে। এই সারচার্জ সুষ্ঠুভাবে আদায়ের লক্ষ্যে ২০১৪ সালে ‘স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আদায় বিধিমালা ২০১৪’ ও পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে ‘উন্নয়ন সারচার্জ ও লেভী (আরোপ ও আদায়) আইন ২০১৫’-এর ধারা ৬-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ‘স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ (আদায় ও পরিশোধ) বিধিমালা ২০১৭’ জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ১ জুলাই ২০১৭ তারিখ থেকে এই বিধান কার্যকর রয়েছে।

তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিবেশী দেশ ভারতে ১৯৭৬ সালে প্রতি ১ হাজার শলাকা বিড়ির ওপর ৫ রুপি হারে সারচার্জ আরোপ করা হয়। নেপালে শলাকাপ্রতি সিগারেটে ১ পয়সা হারে শুল্ক আরোপ শুরু হয় ১৯৯৩ সালে এবং পরে ২০০৩-০৪ অর্থবছরে এটি বাড়িয়ে ২ পয়সা ধার্য করা হয়। এছাড়া, থাইল্যান্ডে ২০০১ সালে থেকে ২ শতাংশ ও কাতারে ২০০২ সালে থেকে ২ শতাংশ হারে সারচার্জ আদায় করা হয়ে থাকে। তামাকের ভয়াবহতা রুখতে কার্যকর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরি, গবেষণা ও ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য দরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও অর্থ। তামাকপণ্যে স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আদায় এ ক্ষেত্রে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

তামাক খাত থেকে স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বাবদ এখন পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে প্রায় ৯শ কোটি টাকা। সরকারের প্রতিবছর যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়, সেই হিসাবে দেখা যায়, গত ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭— এই তিন অর্থবছরে ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বাবদ এই অর্থ আদায় করা হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত ব্যবহার নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় এই অর্থ তামাক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/আর কে

Best Electronics
Best Electronics