Alexa সামুদ্রিক মাছের আক্রমণে ঘাড় ছিদ্র কিশোরের

ঢাকা, শুক্রবার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৬,   ০৪ রজব ১৪৪১

Akash

সামুদ্রিক মাছের আক্রমণে ঘাড় ছিদ্র কিশোরের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩১ ২৪ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২১:০৩ ২৪ জানুয়ারি ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

সমুদ্রে বন্ধুর সঙ্গে মাছ ধরতে গিয়ে পানি থেকে লাফিয়ে উঠা একটি নীডলফিশের আঘাতে ঘাড় ছিদ্র হয়ে যায় ইন্দোনেশিয়ার এক কিশোরের। ১৬ বছর বয়সী কিশোরটির নাম মুহম্মদ ইদুল।

ইদুল জানান, সৈকত থেকে প্রায় আধা মাইল দূরে যাওয়ার পর তার বন্ধু সার্দি নৌকার ফ্ল্যাশলাইট জ্বেলে দেয়। সেসময় হঠাৎ একটি নীডলফিশ পানি থেকে লাফিয়ে উঠে আমার ঘাড়ে তার সুঁচালো ঠোঁট ঢুকিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকার পানিতে পড়ে যান তিনি। মাছটি তখনো তার ঘাড়ে আটকে থাকে। মাছের সরু, লম্বা ও তীক্ষ্ণ মুখ তার চোয়ালের নিচের দিক দিয়ে ঢুকে মাথার পেছনের ভাগ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল। মাছটি সে অবস্থাতেও পানির মধ্যে পালানোর জন্য ছটফট করছিল এবং ইদুল মাছের ছটফটানি তার ঘাড়ের ভেতর অনুভব করতে পারছিলেন। এসময় ইদুল বন্ধু সার্দির কাছে সাহায্য চান।

ইদুল বলেন, সার্দি আমাকে বলে মাছটিকে যেন ঘাড় থেকে বের না করার চেষ্টা করি, তাহলে রক্তপাত বেড়ে যাবে। ইদুল ও সার্দি দুইজনই তখন সাঁতরে তীরে চলে আসেন। পুরোটা সময় মুহম্মদ ইদুল প্রায় আড়াই ফিট লম্বা মাছটি হাত দিয়ে ধরে রাখেন যেন সেটি বেশি নাড়াচাড়া করতে না পারে।

এরপর ইদুলের বাবা দ্রুত বাউ-বাউ'এর একটি হাসপাতালে নিয়ে যান তাকে। কিন্তু সেই হাসপাতালের চিকিৎসকরা মাছটি কাটতে পারলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় ইদুলের ঘাড় থেকে মাছের ঠোঁটটি বের করতে পারেননি। যার ফলে ইদুলের ঘাড়ে ঠোঁটটি আটকে থাকে। ঘাড় থেকে মাছের ঠোঁটটি বের করতে দক্ষিণ সুলাওয়েসির রাজধানী মাকাসারের কেন্দ্রীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেই হাসপাতালের কর্মীরাও এই দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন।

হাসপাতালের পরিচালক জানান, এ ধরণের ঘটনা এই প্রথমবারের মত দেখেছেন তারা। মাছের ঠোঁটটি ইদুলের ঘাড় থেকে বের করতে পাঁচজন বিশেষজ্ঞের এক ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রপচার করতে হয়েছে।

ইদুল বলেন, পরেরবার থেকে আমার আরেকটু সতর্ক থাকতে হবে। নীডলফিশ আলো সহ্য করতে পারে না। তাই আলো জালার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি লাফিয়ে পানির ওপর উঠে আসে।

মুহম্মদ ইদুল যে হাসিখুশি অবস্থায় বেঁচে আছেন এবং সবাইকে তার গল্প বলতে পারছেন, সেই কৃতিত্বের অংশীদার তার উপস্থিত বুদ্ধি সম্পন্ন বন্ধু ও হাসপাতালের যত্নশীল চিকিৎসকরা। তবে এরকম অদ্ভুত ঘটনা ঘটার পরও মুহম্মদ ইদুলের মাছ ধরার শখ আগের মতই রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ