সামাজিক দূরত্ব প্রাণীদের কোটি বছরের আত্মরক্ষার কৌশল!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

সামাজিক দূরত্ব প্রাণীদের কোটি বছরের আত্মরক্ষার কৌশল!

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৩৮ ১৪ মে ২০২০   আপডেট: ১২:৪০ ১৪ মে ২০২০

প্রাণীদের সামাজিক দূরত্ব

প্রাণীদের সামাজিক দূরত্ব

পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত যত মহামারি এসেছে তার বেশিরভাগই নিরাময় সম্ভব হয়েছে সামাজিন দূরত্বের মাধ্যম্যে। নিশ্চয়ই জানেন, সামাজিক দূরত্ব সংক্রামক ব্যাধি রোধের কার্যকরী হাতিয়ার। মানুষের কাছে বিষয়টি খুব পুরনো না হলেও, বিভিন্ন প্রাণী এটি মেনে চলছে সম্ভবত কোটি কোটি বছর ধরে।

ডেইলি বাংলাদেশের আজকের প্রতিবেদন এমন কিছু প্রাণীদের নিয়ে সাজানো, যারা নিজেকে ও পরিবারকে বাঁচাতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কীভাবে এরা কোটি বছর ধরে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছে-  

পিঁপড়া দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। তবে অণুজীবে আক্রান্ত পিঁপড়া বাসার বাইরে অবস্থান করে। ফলে দলের অন্যদের মধ্যে ইনফেকশন ছড়ায় না। এভাবে সে দলের বাকি পিঁপড়াদের রক্ষা করে। 

মৌচাকে আক্রান্ত লার্ভা ফেরোমন্স নামক এক প্রকার রাসায়নিক নির্গমন করে। প্রাপ্তবয়স্করা এই ফেরোমন্সের গন্ধ সনাক্ত করতে পারে। গন্ধ পাওয়া মাত্র আক্রান্ত লার্ভাকে চাক থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। ফলে পুরো কলোনি ইনফেকশন থেকে রক্ষা পায়। আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক মৌমাছিরা নিজেই অ্যান্টিবায়োটিক মধু সনাক্ত করে পান করে। যদি এতে কাজ না হয় তবে দলের অন্যদের রক্ষা করতে নিজেই আলাদা হয়ে যায়। মৃত সদস্যদের সবসময় চাক থেকে দূরে 
সরিয়ে ফেলা হয় ইনফেকশন না ছড়ানো নিশ্চিত করতে।

১৯৬৬ সালে ম্যাকগ্রেগর নামের এক শিম্পাঞ্জি পোলিওতে আক্রান্ত হয়েছিল। সে দলের অন্যদের দ্বারা আক্রমণে শিকার হয় এবং দলের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়। ইনফেকশন থেকে সেরে উঠলে অনেকেই পুনরায় দলে জায়গা ফিরে পায়। 

সংক্রমিত অবস্থায় ইঁদুর নিজেকে দল থেকে আলাদা করে ফেলে। অন্য ক্ষেত্রে, স্ত্রী ইঁদুর পুরুষ ইঁদুরের মূত্র থেকে অণুজীবের সংক্রমণ বুঝতে পারে। স্ত্রীরা তখন আক্রান্ত পুরুষকে বর্জন করে নতুন স্বাস্থ্যবান পুরুষ বেছে নেয়। 

আক্রান্ত ক্যারিবিয়ান স্পাইনি লবস্টার এক প্রকার রাসায়নিক সংকেত ছড়িয়ে দেয়। যা অন্যান্য সদস্যরা ইনফেকশনের শুরুতেই বুঝতে পারে। অন্যরা অসুস্থ হওয়ার আগেই আক্রান্ত লবস্টারকে দল থেকে আলাদা করে দেয়া হয়। কিছু কিছু ভাইরাসে লবস্টারের অসুস্থ হতে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে। তবে অন্য লবস্টাররা চতুর্থ সপ্তাহেই ভাইরাসের উপস্থিতি বুঝতে পারে। 

বাচ্চা জন্মদানের পূর্বে কিছু গাভী নিজেকে পাল থেকে আলাদা করে ফেলে। এটি নবাগত বাছুরকে দলের অন্য সদস্যদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। 

স্ত্রী মাছেরা সাধারণত পরজীবী মুক্ত পুরুষদের বেছে নেয়। তারা দেখে এবং রাসায়নিক সংকেত দ্বারা আক্রান্ত পুরুষদের সনাক্ত করে। 

মান্ড্রিল নামক এক প্রকার বানর নিজের পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে সেবা করে। তবে পরিবারের বাইরের আক্রান্তদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখে। 

এই উদাহরণগুলো প্রমাণ করে প্রাণীরা নিজের এবং পরিবারের জীবন রক্ষায় কতটা তৎপর। এবার আপনি-ই ভেবে দেখুন, পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী হচ্ছে মানুষ। তারা অণুজীব থেকে নিজেদের রক্ষায় কতটা তৎপর?

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ