Alexa সামরিক শাসনে ফিরতে চাই না: প্রধান বিচারপতি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৫ ১৪২৬,   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

সামরিক শাসনে ফিরতে চাই না: প্রধান বিচারপতি

 প্রকাশিত: ১৫:৫৬ ১ জুন ২০১৭  

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘আমরা আর কোনও দিন সামরিক শাসনে ফিরে যেতে চাই না।’ বৃহস্পতিবার (০১ জুন) উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন। এদিন মামলায় এগারতম দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে এ মামলার রায় যে কোনও দিন দেয়া হবে মর্মে অপেক্ষমান রেখে দেয় আদালত। আজকের যুক্তি উপস্থাপনে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদ, সুপ্রিম কোর্ট অর্থাৎ শাসন বিভাগ, আইন সভা ও বিচার বিভাগ সবই সংবিধান দ্বারা সৃষ্ট। নির্বাহী বিভাগ আইন সভা বা বিচার বিভাগ কেউ সার্বভৌম নয়। প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ কেবল সংবিধানের আইন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হওয়ার বিধান সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবিধানের মূল অনুচ্ছেদসমূহ বলতে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের গণপরিষদে যে সংবিধান গৃহিত হয়েছিল সেই অনুচ্ছেদসমূহকেই বুঝাবে। সংবিধানের মূল অনুচ্ছেদ সমূহ ভাল বা মন্দ বা তাতে মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কতটা রক্ষিত হয়েছে বা হয়নি সে কথা বলার এখতিয়ার বিচার বিভাগের নেই। কারণ বিচার বিভাগ সংবিধান দ্বারা সৃষ্ট। তিনি বলেন, বিচারপতিদের অপসারণ বিষয়ে কী পদ্ধতি গৃহিত হবে তা একটি নীতি-নির্ধারণী বিষয়। এই নীতিনির্ধারণের বিষয়টি আদালতের বিচার্য বিষয় হতে পারে না। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর আগে এ সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি ২৭টি সভা করেছে। আইনজীবী, প্রাক্তন বিচারপতি, বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি আপনার সঙ্গে আছি। আপনি যদি অধস্তন আদালত বিষয়ক আদি সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমি তো আইন প্রণেতা নই। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, শুধুই কি ১১৬ তে হাত দিয়েছেন, পিএসসি, নির্বাচন কমিশন বিষয়ক অনুচ্ছেদ নিয়েও আপনাদের চিন্তা করতে হবে। এসকল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বাধীনতার প্রশ্নটি জড়িত। আমরা যখন সংবিধানের ব্যাখ্যা দিব তখন পুরো সংবিধানকেই পর্যালোচনা করবো। আমরা শুধুই বিচারকের বিষয়ে চিন্তা করছি না। সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক। যদি অভিভাবকই হই তাহলে শুধু বিচার বিভাগই নয়, দেশের ভবিষ্যতের কথাও চিন্তা করতে হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, জনগণ কোথায় গেল? সবার ওপরে জনগণ। জনগণ আছে বলে। সংসদ, বিচার বিভাগ আছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, জনগণের কল্যাণের কথাই আমরা চিন্তা করছি। জনগণের অধিকার রক্ষায় অধস্তন আদালতের বিচারকরা কাজ করে যাচ্ছেন। এ জন্য আমাকে অধস্তন আদালত পরিদর্শনের জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেতে হচ্ছে। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমরা অনুন্নত দেশ। আমাদের আর্থিক অবস্থা দেখতে হয়। উন্নত দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলরা কিভাবে চলেন আর আমাদের দেশে অ্যাটর্নি জেনারেলরা কিভাবে চলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, ৮০ ভাগ মামলাই তো ওইসব আদালতে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ৯৬ (৩) এ বলা নেই যে, বিচারকদের অপসারণের বিষয়টি সংসদ তদন্ত করবে তা আইনে বলা নেই। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর ফলে প্রস্থিাপিত অনুচ্ছেদ ৯৬ (৩) এর পরিপ্রেক্ষিতে যে আইন প্রণীত হবে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই আইনের বিধান বিবেচনা করে বোঝা যাবে যে, অপসারণের বিধান তদন্তের বিষয়ে কোনও ব্যক্তিদের সংযুক্ত করা হবে, তদন্ত নিরপেক্ষ হবে কি না বা সে আইনের দ্বারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে কিনা। কাজেই ৯৬ (৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত ৯৬ (২) এবং ৯৬ (৩) অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের পরিপন্থী কিনা তা বিচার করার অবকাশ নেই। সুতরাং বতৃমান রিট আবেদনটি প্রি ম্যাচিউর। এটি নাকচ করা উচিৎ ছিল। বিচার বিভাগ সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের একটি অঙ্গ। নিজেদের বিচার নিজেরা করাটা ন্যায় বিচারের পরিপন্থি। এ পদ্ধতিতে প্রধান বিচারপতি ও জ্যেষ্ঠ দুজন বিচারপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। অন্যান্য বিচারপতিদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। বিচারপতিরা যেহেতু একসাথে বহুদিন কাজ করছেন, একে অপরের পরিচিত সেহেতু তাদের অসদাচরণ ও অসমতা বিচারের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ট বিচারপতিদের পক্ষে তাদের আবেগ অনুভূতির ঊর্ধ্বে ওঠা সম্ভব নাও হতে পারে। তিনি বলেন, যেমন চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে। বিএমডিসি কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার জন্য কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে বা শর্ত ভঙ্গের কারণে আজ পর্যন্ত এমন নজির নেই। তাই আইন করার আগে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করা সমীচীন হবে না। তিনি বলেন, মন্ত্রীরা যদি কোনও অসদাচরণের কারণে অভিযুক্ত হন তাহলে রাজনৈতিক কারণেই তিনি তার পদ হারান। তাছাড়া সংসদের মেয়াদকাল শেষ হলে বা সংসদ ভেঙে গেলে পুণরায় তাদের জনগণের সামনে যেতে হয়। জনগণই তাদের বিগত বছরগুলোর কর্মকাণ্ড বিচার-বিবেচনা করে এবং জনতার আদালতেই তাদের বিচার হয়ে যায়। এসময় বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, এটা ব্যক্তির বিচার করা হয়। আর সব বিভাগতো নিজেদের বিচার নিজেরাই করে। প্রধান বিচারপতি এ বক্তব্যকে সমর্থন করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, একজন জেলা জজ যদি অসদাচারণ, অনিয়ম করে তবে তার বিচার তো আপনারাই করেন। প্রধান বিচারপতি: স্থানীয় সংসদ সদস্যরা এক স্কুলকে বাদ দিয়ে আরেক স্কুলকে এমপিওভুক্ত করে থাকেন। বিভন্ন পরিপত্র জারি করেন। এ নিয়ে হাজার হাজার মামলা আমাদের সামনে আসে। তখন তো আমরাই বিচার করি। বিচারকরা ১০টার পরিবর্তে সাড়ে ১০টায় বসলো এটা কে দেখবে? সংসদ সদস্যরা এসে দেখবে? এ সময় বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, ক্ষমতা যদি নিয়ে যান তাহলে জাজদের  তদারকি করবে। কোনও বিচারপতিই প্রধান বিচারপতির অধীন না। তারা স্বাধীন। কেউ মানবে না। প্রধান বিচারপতি: কয়দিন আগে ভারতে কী হয়েছে? হাইকোর্টের একজন বিচারপতি প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছে। কারণ ওই বিচারক জানে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির নেই। অ্যাটর্নি: আপনারা কেন এত শঙ্কাবোধ করছেন? বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়া: ১২টায় বেঞ্চে বসবে, দুই তিন বছর পর রায় লিখবেন তখন বুড়ো আঙুল দেখাবে। তখন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ গঠন ছাড়া কিছু করতে পারবেন না। প্রধান বিচারপতি: আপনি বলেছেন, যেকোনো নাগরিক সংসদে গিয়ে একজন বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবেন। এটা হলে তো শেষ করে দেবেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন: শেষ হবে কেন? আজকে যদি মার্শাল ল প্রক্লেমেশন দ্বারা যেই সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানর করা হয়েছে। তা যদি রাখা হয় তা হবে ইতিহাসের বিরাট ভুল। ইতিহাস যেমন বিচারপতি মুনিমমের কথা বলে তেমনি আপনাদের কথাও বলবে। আপনারা কেন সংসদের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না? প্রধান বিচারপতি: এধরনের বক্তব্য দেওয়া ঠিক না। অ্যাটর্নি: আপনারা যে ধরণের বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে আমার কাছে এটাই মনে হচ্ছে। অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে তখন বিচারপতি ইমান আলী বলেন: মার্শল ল যদি বাদ দেন তাহলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন। তাহলে তো চতুর্থ সংশোধনীতে গিয়ে দাঁড়াতে হবে তাই নয় কি? অ্যাটর্নি: কেন চতুর্থ সংশোধনী কেন,আমরা তো আদি সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদেই যাবো। ইমান আলী: না, মার্শাল ল এর আগে কি ছিল সেটা বলুন। প্রধান বিচারপতি: আমরা এখনও শুনছি। এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। জানার জন্য বুঝার জন্য শুনছি, প্রশ্ন করছি। এরপর রিটকারীর আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায়ে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টকে কিছু অভিমত নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছিল। কিন্তু ৯৬ অনুচ্ছেদের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কোনও রিভিউ আবেদন করেনি। শর্তসাপেক্ষে মার্জনা করেছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ যা বলছে তা সঠিক না। রাষ্ট্রপক্ষ জুডিশিয়াল কাউন্সিল নিয়ে রিভিউই করেনি। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যখন কোনও রায়ে সিদ্ধান্ত দেয় সেই সিদ্ধান্ত বিলুপ্ত করে সংসদ কোনো আইন করতে পারে না। এই সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের যে বিধান এটি ১৬ কোটি জনগণ না হলেও ১০ কোটি লোক এর পক্ষে আছে। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা বলেন, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের সংশোদন নিয়ে আলোচনা না করে হাইকোর্ট তার রায়ে কোন ব্যবস্থা ভাল সেটা নিয়ে আলোচনা করেছে। যদি হাই কোর্ট সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল নিয়ে রায়ে আলোচনা করতো সেটাই ছিল যুক্তিযুক্ত। কারণ শুধুমাত্র সুপ্রিম কাউন্সিল ভাল কি না সেটা এই মামলার বিচার্য বিষয় নয়। এই ব্যবস্থা উঠে গেলে কি ক্ষতি হবে তা নিয়েই হাইকোর্টের রায়ে আলোচনা করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের ওপর কেন এত অবিশ্বাস? তার কোনও উত্তর রায়ে কেউ দিতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা এই সংবিধান পেয়েছি। এই সংবিধানের মাধ্যমেই সংসদের সৃষ্টি। আর এ সংসদের প্রতি অবিশ্বাস, অনাস্থা আনা দুঃখজনক। তিনি বলেন, কোনও কোনও অ্যামিকাস কিউরি তাদের বক্তব্যে ঐ সংসদ বলে সম্বোধন করেছেন। আমি মনে করি এটি পবিত্র সংসদকে অবমাননার শামিল। তিনি বলেন, সামরিক শাসনের কারণে একটি কালো অধ্যায়ের সৃষ্টি হয়েছিল। তখন আমরা সুপ্রিম কোর্টের কোনো সাহায্য পাইনি। একজন প্রধান বিচারপতি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়েছিলেন। সেই কালো অধ্যায়ের সময়ের করা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ব্যবস্থা সুপ্রিম কোর্ট রেখে দিল। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা কোনওভাবেই মার্শাল ল-এর অধীনের ফিরে যেতে চাই না। তখন মুরাদ রেজা বলেন, তখনতো বিচার বিভাগের কেউ সাহস করে বলেনি কেন জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিরুদ্ধে বলবো না? আবার প্রধান বিচারপতি বলেন, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে যাওয়ার কথাই তো বলছেন। সংসদ ইচ্ছামত আইন প্রণয়ন ও সংবিধানের সংশোধন করতে পারবে, এটাই তো বলছেন? জবাবে মুরাদ রেজা বলেন, ৯৬ অনুচ্ছেদ আগে যা ছিল চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথমে সেখানে হাত দেওয়া হলো। এটা মৌলিক কাঠামোর অংশ ছিল না বলেই সেখানে হাত দিতে পেরেছিল? তখন বিচারপতি ইমান আলী বলেন, তাহলে কি ৯৬ ওই অংশটুকু অসাংবিধানিক বা সাংঘর্ষিক ছিল? মুরাদ রেজা বলেন, এখন পর্যন্ত এটা কেউ চ্যালেঞ্জ করেনি। চাইলে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে। কিন্তু এরপর সংবিধানের অনেকগুলো সংশোধনী হয়েছে। সর্বশেষ সংশোধনীতে আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলার রায়ে আদি সংবিধানে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছি। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা বলেন, কিন্তু এই মামলায় হাইকোর্ট তো বলেছে আদি সংবিধানে ফিরে যাওয়া যাবে না। সুপ্রিম কোর্ট সবসময়ই সংবিধানের সঙ্গে ছিল। যখনই কোনো অবৈধ হস্তক্ষেপ হয়েছে, আপনারা হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ৯৬ অনুচ্ছেদে আপনারা মার্জনা করেছেন। বৈধ হলে কি সেটা মার্জনা করার প্রয়োজন ছিল? সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল অবৈধ ছিল বলেই আপনারা মার্জনা করেছেন। ওই সংশোধনী যদি মৌলিক কাঠামোর অংশ হতো তাহলে মার্জনা করার প্রয়োজন হতো না। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই উল্লেখ করে মুরাদ রেজা বলেন, বিচারক অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারকদের মধ্যে এত ভয় কেন? আপনারা শপথই নিয়েছেন ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে ওঠে বিচার করার জন্য। আপনাদের সামনে আলো ছাড়া অন্ধকার নেই। পেছনে কোনো খড়গ নেই। তারপরও কেন এত ভয়? ভয়-ভীতি থাকলে তো শপথ থাকে না। সংবিধান অনুযায়ী আপনাদের বিচার করে যেতেই হবে। ফ্লোর প্রসিংয়ের প্রশ্নটা তখনই আসবে যখন ইমপিচমেন্টের প্রশ্ন থাকে। ইমপিচমেন্ট শুধু রাষ্ট্রপতিকে করা হয়। সংসদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে আপনাদের আরও বেশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। সংসদকে চ্যালেঞ্জ বা অপমান করার ক্ষমতা কারো নেই। বিচার বিভাগেরও নেই। সংসদকে অপমান করবেন না। পরে আদালত এ বিষয়ে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখে সমাপ্তি ঘোষণা করেন। ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই