Alexa সাবেক স্বামীকে ফাঁসাতে নারীর কাণ্ড!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯,   কার্তিক ২৯ ১৪২৬,   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

সাবেক স্বামীকে ফাঁসাতে নারীর কাণ্ড!

নওগাঁ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৮ ৬ নভেম্বর ২০১৯  

রহিমা বানু

রহিমা বানু

সাত মাস আগে খোলা তালাকের মাধ্যমে মো. ইউনুস আলী সঙ্গে রহিমা বানুর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। কিন্তু সাবেক স্বামী ইউনুসকে ফাঁসাতে প্রতারণার আশ্রয় নেন তিনি। নকল নিকাহনামার মাধ্যমে আদালতে মামলা করেন রহিমা। তবে মামলায় থাকা নিকাহনামার রেজিস্ট্রারের কাজি ও সাক্ষী বিয়ে সম্পর্কে কিছুই জানেন না। 

মামলার তথ্যানুযায়ী, নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ২০১৯ সালের ১২ সেপ্টম্বর নারী ও শিশু দমন আইনের ধারায় তিনজনকে আসামি আদালতে মামলা করেন রহিমা বানু। 

নিকাহনামায় উল্লেখ করা বর মো. ইউনুস আলী জানান, ২০০৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর ইসলামের শরীয়াহ মোতাবেক নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজির কাবিননামা মূলে রহিমা বানুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন সংসারের পর রহিমা বানুর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ফলে ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ খোলা তালাকের মাধ্যমে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। কিছুদিন পর তিনি নওগাঁর মান্দার দক্ষিণ মৈনম গ্রামের মো. হাবিবুর রহমানের মেয়ে মোছা. রুমি পারভীনকে শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে করে সংসার করেছেন। হঠাৎ মানুষের মুখে তিনিসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করার কথা শুনেন। পরে মামলার কপি উঠিয়ে দেখেন যে, তিন লাখ ১০ হাজার টাকা মোহরে নিকাহনামা করা হয়েছে। সেই নিকাহনামায় কাজি হিসেবে রয়েছেন মৈনম ইউপির বিবাহ রেজিস্ট্রার কাজি মো. মোসাদেক হোসেন। 

মৈনম ইউপির নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজি মো. মোসাদেক হোসেন বলেন, আদালতে দাখিল করা নিকাহনামা, যার ভলিউম নং (এ) পাতা নং (৩৯) সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল। নিকাহনামায় উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিবাহ রেজিস্ট্রেরি আমার অফিসে হয়নি। মেয়ে পক্ষ আমার স্বাক্ষর ও সিল নকল করে আদালতে ভুয়া নিকাহনামা দাখিল করেছে। প্রতারক রহিমা বানুর বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলার প্রস্তুতিসহ সংবাদপত্রের মাধ্যমে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছি।

নিকাহনামার ১ নং স্বাক্ষী নওগাঁ সদরের হাট শিবপুর গ্রামের বানা মন্ডলের ছেলে মো. গোলাম রাব্বানী জানান, রহিমা বানু শুধু কাজির স্বাক্ষরই নয়, তার স্বাক্ষরও জাল করেছে। এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি আদালতের কাছে প্রতারক রহিমা বানুর কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
রহিমা বানুর মুঠোফোনে নিকাহনামার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ