Alexa সাফল্যের ঢেউ তুলেছেন ঊর্মি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯,   কার্তিক ২৭ ১৪২৬,   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

সাফল্যের ঢেউ তুলেছেন ঊর্মি

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৮ ১৮ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৬:৫৬ ১৮ অক্টোবর ২০১৯

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

সাফল্য তার পিছু ছাড়ছেই না। যেন তুলেছেন সাফল্যের ঢেউ। স্নাতক ভর্তি পরীক্ষায় যেখানেই অংশগ্রহণ করছেন সেখানেই সেরাদের সেরা হওয়ার স্বাক্ষর রাখছেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার গংগাবর গ্রামের শিক্ষার্থী নুরুন নাহার উর্মি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায়‘খ’ ইউনিটে দ্বিতীয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সি' ইউনিটে প্রথম হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী।

উর্মির বাবা-মা দুজনেই শিক্ষকতা করছেন। তার বাবা নজরুল ইসলাম ও মা লুৎফুননিসা খানম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

গত ১৩ অক্টোবর দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘খ’ ইউনিটের ফল ঘোষণা করেন।

এ বছর ‘খ’ ইউনিটে দুই হাজার ৩৭৮ আসনের জন্য ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার ১৮।

ফল প্রকাশ শেষে জানানো হয়, পাস করা ১০ হাজার ১৮৮ জনের মধ্যে থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী ভর্তি করা হবে। মোট দুই হাজার ৩৭৮ জন ভর্তির সুযোগ পাবে।

প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষায় নৈর্ব্যক্তিক অংশে পাস করেছেন ১৮ হাজার ৫৮১ জন। নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত অংশে সমন্বিতভাবে পাস করেছেন ১০ হাজার ১৮৮ জন। অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ৩২ হাজার ৭৬৬ জন।

এ বছর ‘খ’ ইউনিটে সমন্বিতভাবে পাসের হার মোট শিক্ষার্থীর ২৩.৭২ শতাংশ।

আর ২ হাজার ৩৭৮টি আসনের প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটে এ বছর ১৭৭.৭৫ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন উর্মি।

দেশের শীর্ষ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কৃতিত্বে খুবই আনন্দিত নুরুন নাহার উর্মি।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, দুই বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি পরীক্ষা ভালোই দিয়েছিলাম। তবে এত ভালো ফল আসবে তা ভাবিনি। দুই বিশ্ববিদ্যালয়েই সুযোগ পেয়েছি। এটি আল্লাহর ইচ্ছা আর বাবা-মায়ের দোয়া ছাড়া কিছুই নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আমার স্বপ্ন ছিল।

তবে এমন সাফল্যের নেপথ্যে পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসই বেশি কাজ করেছে বলে মনে করেন উর্মি।

তিনি বলেন, পরিশ্রম না করে শুধু মেধা থাকলেই সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করার পর থেকে আমার বাবা-মা আমাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন। শুধু চান্স পেলেই হবে না, আমাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ভালো অবস্থান তৈরির জন্য উৎসাহ জুগিয়েছেন তারা। আমার বিশ্বাস ছিল অমি চান্স পাবই। আজ সে স্বপ্নই পূরণ হতে চলেছে।

উর্মি আরো বলেন, বাংলা, ইংরেজি, সাহিত্য, ভূগোল এবং ইতিহাসের প্রতি আমার আগ্রহ অনেক বেশি। তাই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করেও মানবিক বিভাগে এইচএসসিতে ভর্তি হই।

ভবিষ্যতে কি হতে চান প্রশ্নে উমি বলেন, অবশ্যই শিক্ষক হতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চাই আমি। আমার বাবা-মা শিক্ষকতা করেন। এ পেশাকে আমি অন্তরে লালন করি। শিক্ষকদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও সম্মানের জায়গা অনন্য উচ্চতায়। 

জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা বলে জানান উমি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রচণ্ড মেধাবী ও অধ্যবসায়ী শিক্ষার্থী নুরুন নাহার উর্মি। শিক্ষাজীবনে পঞ্চম শ্রেণি থেকে সব বোর্ড পরীক্ষায়ই জিপিএ-৫ পেয়েছেন । বাবা-মা, শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা, নিজের কঠোর পরিশ্রম ও কঠোর অধ্যবসায় সফলতার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন তিনি।

ধনবাড়ী প্রি-ক্যাডেট ইনস্টিটিউট থেকে ২০১১ সালে পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান উর্মি। ২০১৪ সালে ধনবাড়ী কলেজিয়েট স্কুল থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান তিনি।

২০১৭ সালে একই স্কুল থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। ২০১৯ সালে ময়মনসিংহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন উর্মি।

মেয়ের এমন সফলতায় উচ্ছ্বসিত বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী শিক্ষক হওয়ায় উর্মি বেশিরভাগ সময় আমাদের সঙ্গে স্কুলে যেত। পড়ালেখার প্রতি সেই সময় থেকেই তার ঝোঁক ছিল। আমাদের পাশাপাশি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের সঠিক দিক-নির্দেশনায় লেখাপড়া করায় এমন সাফল্য পেয়েছে উর্মি। তার জন্য আমরা গর্বিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ