সাপ নিয়ে ভয়? আর নয়, আর নয়

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১১ ১৪২৬,   ২০ শাওয়াল ১৪৪০

সাপ নিয়ে ভয়? আর নয়, আর নয়

 প্রকাশিত: ১১:৫৮ ২০ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১১:৫৮ ২০ জুলাই ২০১৮

জাপানের সর্প ক্যাফে

জাপানের সর্প ক্যাফে

‘অপিডিওফোবিয়া’ শব্দটি চেনা চেনা লাগছে কি? না লাগবার-ই কথা। আসলে সাপের প্রতি যে ফোবিয়া বা ভীতি কাজ করে তাকেই বলা হয় অপিডিওফোবিয়া বা সর্পভীতি। এর আরেকটি সাধারণ নাম হল ‘হারপেটোফোবিয়া’ বা সরীসৃপভীতি। গ্রিক শব্দ ‘ওপিস’ এর বাংলা অর্থ হল সাপ। সরীসৃপ গোষ্ঠীর মধ্যে যত প্রানী আছে তারমধ্যে প্রধানত সাপ নিয়ে আমাদের মধ্যে কম-বেশি সবারই ব্যাপক ভীতি কাজ করে। আর তাই এই ভয়কে দূর করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন জাপানের সর্প ক্যাফে থেকে। 


প্রানিভিত্তিক ক্যাফে জাপানে নতুন কিছু নয়। রাজধানী টোকিও এর অন্যতম এক ভিন্ন ধরণের আকর্ষণ বলা যেতে পারে এই ক্যাফেগুলোকে। বিভিন্ন থিম বা বিষয়ভিত্তিক ক্যাফে বা খাবারের দোকান আজকাল স্বাভাবিক এর পর্যায়ে। বাংলাদেশে যেমন রয়েছে ‘ভূতের বাড়ি’। যার থিম হচ্ছে ভূত।
 
এর আগে বিড়াল-কুকুর নিয়ে জাপানে মামে-শিবা, তেমারি নো অশিরো, ডগ হার্ট, মোকা শিবুয়া, তেমারি ন অচি এর কথা কম বেশি সবাই শুনেছে। সিঙ্গাপুর, কানাডা, আমেরিকা, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশেও বিড়াল অথবা কুকুর ভিত্তিক রেস্টুরেন্ট গুলো সুপরিচিত। তবে এইসব দেশ হতে জাপান আরেকটু এগিয়ে রয়েছে। কেবল মাত্র কুকুর বা বিড়ালেই সীমাবদ্ধ না থেকে পেঁচা, সজারু, খরগোশ, পাখি ইত্যাদি প্রাণীর ক্যাফে ও তৈরির কারণে। এবং এরই এক ভিন্ন ও নতুন সংযোজন হল এই সাপ।   

জাপানের রাজধানী টোকিও এর শিবুইয়ার হারাজুকু শহরে এই ক্যাফের অবস্থান। টোকিও শহর হতে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে এটি অবস্থিত। এই হারাজুকু শহরটি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে জাপানি যুব সংস্কৃতির পরিচায়ক হিসেবে খ্যাত। স্কটিশ ব্যান্ড ‘বেলা ও সেবাস্তিয়ান’ এর একটি গান ‘I am cuckoo’ গানে এই শহরের নাম আছে। নামীদামী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের দোকান রয়েছে এখানে। তবে এর বিখ্যাত হবার অন্যতম এক কারণ হিসেবে বাদ দেয়া যাবে না এখানকার প্রানিভিত্তিক ক্যাফে গুলোকে। পেঁচা, কুকুর এবং খরগোশের কয়াফেও এই স্থানেই অবস্থিত। বিচিত্র ধরণের থিম নিয়ে জাপানে খাবারের দোকান গুলোর বেশ সুনাম রয়েছে। এই ক্যাফে খোলার পিছনে অবদান রয়েছে ‘Tokyo Snake Centre’ এর। তারাই সর্পভীতি তথা সাপের সঙ্গে মানুষের মেল বন্ধন বাড়াবার উদ্দেশ্যে এমন সুযোগ চালু করেছে। নব্য সংযুক্তি হিসেবে সাপের এই ক্যাফেতে, প্লাস্টিক বা নকল কোন সাপ নয়, আসল সাপই থাকছে। ২০ প্রজাতির প্রায় ৩৫ টি সাপ রয়েছে। যার কোনটিই বিষধর নয়। সাপগুলোকে একরকম এর অভ্যর্থনাকারী ই বলা যায় ক্যাফের। একটি কাচের বাক্সের ভেতরে করে তারা উপস্থিত থাকবে। যাতে করে ক্যাফেতে আসা মানুষজন একে পর্যবেক্ষন করতে পারে। 


মাত্র ১৫০০ ইয়েন বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২০০ টাকার মতন খরচের বিনিময়ে ড্রিংক এর পাশাপাশি পেতে পারবেন এই সাপের সঙ্গ। ড্রিংকস হিসেবে মদ, বিভিন্ন ধরণের চা, এবং দোকানের মেনুতে খাবার হিসেবে কেকসহ বিভিন্ন স্বাদের আইটেম পাওয়া যাবে। আপনি সঙ্গে ৫৪০ ইয়েন বা প্রায় ৪৫০ টাকা অতিরিক্ত ফি হিসেবে যুক্ত করলে এই সাপগুলোকে ধরে এদের গায়ে হাত ও বুলিয়ে নেবার সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে সাহায্য করবে দোকানের কর্মীরাই। তারাই আপনাকে কি করে সাপগুলোকে ধরতে এবং আদর করতে হবে তা নিয়ে নির্দেশনা দিয়ে দেবে। 

ইতোমধ্যেই দেশি বিদেশি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই ক্যাফে। জনপ্রিয় হবার একটি কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে এর সুলভমূল্যের কথা। ডলারের হিসেবে মাত্র ১৮ ডলার (প্রায়) খরচ হয়। তাদের ওয়েবসাইটের হিসেবে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫,০০০ জন ভ্রমণ করে গেছেন। পূর্বেই যেমনটি বলা হয়েছে, এই ক্যাফে সৃষ্টির একটী উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের ভেতর সাপ নিয়ে যে ভীতি কাজ করে তা দূর করা এবং তা বাদেও সাপ নিয়ে নানা জ্ঞানমূলক ও সাহায্যকারক তথ্য জানা যাবে ক্যাফেতে।

ক্যাফেটির বয়স সাড়ে তিন বছর। বিভিন্ন পর্যটকরা এখানে ঘুরে এর অভিজ্ঞতা নিয়েও লিখেছেন। যার মধ্যে ক্যাফের কর্মীদের অ্যাপায়ন এবং সুলভ মূল্যের প্রশংসা ছিল প্রায় প্রত্যেকের রিভিউতে। অনন্য চমৎকার অভিজ্ঞতার উল্লেখ করেছেন প্রত্যেকেই। এখানে সাপের সাথে সময় কাটানো বাদেও স্যুভনির হিসেবে কিনতে পারবেন অনেক কিছু। এর মধ্যে মগ থেকে শুরু করে সাপের চামড়া দিয়ে তৈরি ফিতাও আছে। 
     
তাই বলা যেতে পারে যে, সাপ নিয়ে আপনার ভীতি থাকুক আর নাই থাকুক বিচিত্র আর ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে জাপানের এই ক্যাফেতে একবার ঢুঁ মেরে যেতেই পারেন আপনি।    

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস